খাবারের দ্বিগুণ মূল্য নিয়ে বাণিজ্য মেলায় ক্ষোভ দর্শনার্থীদের
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০৯:৩০ পিএম
রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপ-শহরে ৪ নম্বর সেক্টর বানিজ্য মেলার স্থায়ী প্যাভিলিয়ন বঙ্গবন্ধু চায়না-বাংলাদেশ এক্সিবিশন সেন্টারে বসেছে ঢাকা আর্জাতিক বানিজ্যমেলার ২৭তম আসর। মেলায় আজ যানজট পেরিয়ে ছুটির দিনে মেলায় উপচে পড়া ভিড় দেখা গিয়েছে।
অপরদিকে মেলায় আসা-যাওয়ার দর্শনার্থীদের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের থেকে বেশ কয়েকটি বিআরটিসি বাস চালু করা হয় প্রথম দিন থেকে। তবে মেলায় আগত দর্শনার্থী বাড়তে শুরু করলেই বিআরটিসি বাসের টিকিট মূল্য বাড়তি আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন দর্শনার্থীরা।
ও মেলায় খাবার রেস্তোরাঁ গুলোতে মেলা কতৃপক্ষ খাবারের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করে একটি তালিকা লাগিয়ে দিয়েছেন সব রেস্তোরাঁ গুলোতে। বাড়তি বাস ভাড়া ও খাবার মূল্য অতিরিক্ত করে চাট লাগনোতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেলায় আগত দর্শনার্থীরা।
এদিকে মেলায় আগে তো শিশুরা বিভিন্ন রাইডে চলে আনন্দ উপভোগ করেছেন। মেলা কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, গতবছর মেলা থেকে ২০০ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য রপ্তানির আদেশ এবার ছাড়িয়ে যাবে ৫শ কোটিতে। এবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আরও ১০টি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ১৪ জানুয়ারি শনিবার সকাল থেকে মেলার প্রবেশ করতে দেখা গেছে বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থী ও ক্রেতা । বেচাকেনাও হয়েছে গতকালের তুলনায় ভালো। মেলার অভ্যন্তরীণ প্যাভিলিয়ন ও সল্টগুলো ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। ব্লেজারসহ শীতের কাপড়ে দেয়া হয়েছে বিশেষ ছাড়। ফলে বেড়েছে বেচাকেনা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি।
এতোদিন শীত আর নানা সংকটে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও রোদের দেখা দেওয়ায় পর থেকে জমে উঠতে শুরু করেছিলো। গতকাল ইজতেমা ও স্থানীয় ঢাকা বাইপাস সড়কের দূর্ঘটনার কারনে সারাদিন ছিলো ক্রেতাশুন্যতা। শনিবার সকালে তেমন লোক না আসলেও দুপুর থেকে শুরু হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দর্শনার্থীদের আনাগোনা।
এদিকে দর্শনার্থী ও ক্রেতা আকৃষ্ট করতে মেলার ব্যবসায়ীরা তাদের পন্যমুল্যে ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন। বেশি ক্রেতা পেয়ে ব্যবসায়ীদের নিয়োজিত লোকজন ক্রেতাদের হাতে ধরে স্টল পরিদর্শনে আহবান জানাচ্ছেন ও স্ব স্ব পন্য দেখাচ্ছেন। তাদের অনেকেই ছাড় দিতে শুরু করেছেন। এ ছাড়ের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে তবে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের কাছ থেকে বিআরটিসি বাস ভাড়া বাড়তি আদায় ও খাবার মূল্য অতিরিক্ত করে চাট লাগানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভুলতো এলাকার সাইদুর রহমান বলেন, এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের তীব্র যানজট। তাই বিকল্প সড়ক হিসেবে রূপগঞ্জ থানা গাজী সেতু হয়ে ভুলতা যেতে সিএনজি ভাড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। সেই ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা। মেলার পক্ষ থেকে পরিবহনের ভাড়ার ব্যাপারে মনিটরিং করা হলে ভালো হতো।
মেলায় ঘুরতে আসা কুমিল্লার বাসিন্দা সুজন আহমেদ বলেন, এ বছর মেলায় প্রথমবারের মতো আসলাম। স্থায়ী প্যাভিলিয়নে বিশাল পরিসরের চমৎকার আয়োজন ভালো লাগলো। তবে মেলার ভেতরের কিছু পন্যের দাম বেশি হাঁকা হচ্ছে। ক্রয় করতেও বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা নিরুৎসাহিত হবেন।
নিকুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মাহফুজ মিয়া বলেন, আমি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মেলা ঘুরে দেখেছি। আমাদের মেলার আয়োজন আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে। বিশেষ করে, প্রশংসনীয় সব আয়োজন। এ সময় তিনি বলেন, দেশের অতীতের সব মেলার আয়োজনই ১ম ১০ দিন খুব একটা জমে না। ১০ দিন গেলেই জমে ওঠে।
এদিকে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের যাতায়াতে ৬৫ টি বিআরটিসি বাসের ভাড়া কুড়িল থেকে মেলা প্রাঙ্গণে ৩৫ টাকা বলা হলেও তা রাখা হচ্ছে ৪০ টাকা। এছাড়াও মেলা থেকে ৫ শ মিটার দূরে নামিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন ক্ষিলক্ষেত থেকে আসা দর্শনার্থী মোন্তাসির মাহমুদ। তিনি বলেন, বাস থেকে নেমে পায়ে হেটে মেলায় আসতে হয়েছে। এরপর টিকেট কাটতে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে কিছুটা হয়রানি হতে হয়েছে।
পিতলগঞ্জের বাসিন্দা গাজী গোলাম রসুল কাজল বলেন, স্থানীয় লোকদের মেলায় প্রবেশের একমাত্র রাস্তা মুশুরী থেকে হাবিন নগর ৪ কিলোমিটার পুরোটাই অচল। এ সড়কে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের কাছ থেকে দিগুন তিনগুন ভাড়া আদায় করছে। যা ভোগান্তির শামিল।
রুপসি খাতুন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থী তুষার আহমেদ বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। তবে খাবার রেস্টুরেন্ট গুলোতে দুই গুণ দাম বেশি হওয়ায় হতাশার মধ্যে পড়েছি। দুপুর বানিয়ে বিকেল হয়ে যাচ্ছে পেটে ক্ষুধা দাম দিয়েই খেতে হল। সুলতান কাচ্চি ও বিরানি হাউজের কর্মকর্তা বাবু বলেন, ভাই আমরা নির্ধারিত মূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বিক্রি করছি। এছাড়া মেলার নিয়ম অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করে খাবারের মূল্যর তালিকা ঝুলানো হয়েছে।
ইবিপি সূত্রে জানা গেছে , গত বছর বানিজ্য মেলার ২৬তম আসরে মোট ২২৫ টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হলেও এ বছর দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মোট ৩৩১ টি। যার মধ্যে ছোট বড় মিলিয়ে প্যাভিলিয়ন রয়েছে মোট ৫৭ টি। এবারের মেলায় ভারত, পাকিস্তান, হংক, তুর্কিসহ অন্তত ১২ টি দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। এ আসরে বানিজ্যমেলার প্রধাণ ফটক করা হয়েছে মেট্রোরেলের আদলে। এই আসরে মেলার আয়তনও বাড়ানো হয়েছে অনেকটা।
বানিজ্যমেলার ২৭ তম আসর সফল করতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবি কঠোরভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মেলায় প্রবেশ ফি ৪০ টাকা শিশু বাচ্চাদের জন্য ধরা হয়েছে ২০ টাকা। শারিরিক প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রবেশ ফ্রি করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে মেলার প্রতিটি অংশে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ইফতেখার আহম্মেদ চৈাধুরী বলেন, ছুটির দিন শনিবার হওয়ায় লোক সমাগম বেড়েছে। মেলায় প্রতি বছর ব্যবসায়ীরা ছাড় দিয়ে বেচাকেনা বাড়ায়। এবারও তাই করছেন। ক্রেতা ও দর্শনার্থী উপচে পড়া ভিড় হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অনেক খুশি।


