Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় চাহিদা বাড়ছে কয়েদীদের তৈরি পণ্যে

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫:৪৮ পিএম

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় চাহিদা বাড়ছে কয়েদীদের তৈরি পণ্যে
Swapno

 

# সবসময় মেলায় আমরা ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাই : জাকির হাসান 

 

দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা সমাগম বাড়ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়। মেলায় এবছর ৩৩১টি স্টলে শোভা পাচ্ছে নানা ধরনের পণ্য। এর মধ্যে ক্রেতাদের নজর কাড়ছে কয়েদিদের তৈরি পণ্য। বাংলাদেশ জেলের স্টলে শোভা পাচ্ছে এসব বাহারি পণ্য। এই স্টলে প্রতিদিন ভিড় করছেন অসংখ্যা ক্রেতা-দর্শনার্থী।

 

 

এই স্টলের প্রবেশমুখে লেখা কারাপণ্য বাংলাদেশ জেল। স্টলটিতে দর্শনার্থীদের ভিড়ের পেছনে লেখাটিরও হয়তো ভূমিকা রয়েছে। এই লেখা দেখেই অনেকে কৌতূহল নিয়ে বাংলাদেশ জেলের স্টলে প্রবেশ করছেন। কয়েদিদের তৈরি নকশিকাঁথা, জামদানি শাড়িসহ নানা পণ্য ঘুরে ঘুরে দেখছেন তারা। অনেকে আবার কিনছেন পছন্দের পণ্যটি।

 

 

সোমবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার কারা পণ্য স্টলটিতে সরেজমিনে গিয়ে এমনই চিত্র চোখে পড়ে। জানা গেছে, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ ও ২, মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, নারায়ণগঞ্জ কারাগার, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার, ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ ৪০টি কারাগারের বন্দিদের হাতের তৈরি পণ্য এই স্টলে বিক্রি হচ্ছে।

 

 

এসব পণ্যের মধ্যে একতারা ১০০-২২০ টাকা, ফুড কাভার ১৮০-৪৫০ টাকা, গামছা ১০০-২০০ টাকা, লুঙ্গি ২৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, নকশিকাঁথা ১ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, জামদানি শাড়ি ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা, বাঁশ ও প্লাস্টিকের মোড়া ৯৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, সিংহাসন চেয়ার ২ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, বেতের মোড়া ৯৫০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই স্টলে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করছে কয়েদিদের তৈরি নকশিকাঁথা। এই স্টলে কথা হয় জাহানারা আক্তারের সঙ্গে। তিনি জামদানি শাড়ি কিনতে আসেন এখানে।

 



কয়েদিদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য কিনতে আসা শামিমা বলেন,কয়েদিদের পণ্য গুণগত মানে টেকসই ফিনিশিং ভালো তাই তাদের পণ্য ব্যবহার করতে ভালো লাগে। আজ মেলায় এসে কারাপণ্য স্টলে চোখ আটকে যায়। কয়েদিরাও এতো সুন্দর পণ্য তৈরি করতে পারেন তা আমার জানা ছিল না।

 



কয়েদিদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য দেখতে আসা নাজমুল হুদা নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘কয়েদিরা জেলখানায় থাকা অবস্থায় নানা পণ্য তৈরি করেন তা শুনেছি। কিন্তু আজ মেলায় এসে প্রথম নিজ চোখে দেখলাম। তাদের তৈরি প্রতিটি পণ্যই আমার কাছে খুব সুন্দর লেগেছে।

 



ডেপুটি জেলার মো. জাকির হাসান রিয়াল বলেন, আমাদের এখানে প্রায় ৩০০ আইটেম এর পণ্য রয়েছে। সবসময় মেলায় আমরা ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাই। এবার আশা করছি আমাদের অবস্থান আরও উপরের দিকে থাকবে। তিনি আরও বলেন, কারাপণ্যের লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ কারাবন্দিদের প্রদান করা হবে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন