Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

শম্ভুপুরায় আতঙ্কের নাম সন্ত্রাসী বালু নাছির

Icon

সোনারগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৫৬ পিএম

শম্ভুপুরায় আতঙ্কের নাম সন্ত্রাসী বালু নাছির
Swapno



# উত্থান বিএনপি সাংসদের হাত ধরে, গোটা পরিবারই অপকর্মে জড়িত
 

সম্প্রতি সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিলে চরকিশোরগঞ্জ এলাকা সম্প্রতি আবারো  আলোচনায় এসেছে। মাত্র কয়েকদিন আগে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী সম্মেলনে বালু খেকো নাছির বাহিনীর তাণ্ডবের কারণে এই এলাকা নিয়ে আবারো চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

 

 

সোনারগাঁ নির্বাচনী আসনের সাবেক এক সাংসদ ও যুবলীগের বর্তমান সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর শেল্টারে আবারো বালু নাছির বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবৈধভাবে বিশাল অর্থের পাহাড় গড়ে এখন আরো বেশি করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে নাছির।

 

 

তার প্রত্যক্ষ মদদে সম্প্রতি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলনে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সিদ্দিক মোল্লা ও এলাকার লোকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় বালু নাছির বাহিনী। বিএনপির শেল্টারে থেকে নাছিরের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে তছনছ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ।

 



সূত্র জানিয়েছে, সোনারগাঁ থানা শম্ভুপুরা ইউনিয়নের নদী বিচ্ছিন্ন একটি এলাকা চরকিশোরগঞ্জ। এই এলাকায় ১১/১২ হাজার লোকের বসবাস। তবে এই এলাকায় দৌর্দণ্ড প্রতাপ নাছিরউদ্দিন নামের এই বিতর্কিত ব্যক্তির। শুধু এই এলাকাতেই নয় সোনারগাঁ, মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুরের নদীবিধৌত এলাকায় বালু খেকে সিন্ডিকেটের হোতা হিসেবে পরিচিত এই নাছির।

 

 

নাছিরউদ্দিনের সিন্ডিকেটে সেলিম চেয়ারম্যান, মিজান কাজি, আফছারউদ্দিন ভূঁইয়ারাও রয়েছেন। এদের মধ্যে দুদকের এক মামলার আসামি সেলিম চেয়ারম্যান। সম্প্রতি বিএনপির শেল্টারে কুখ্যাত বালু ব্যবসায়ী হয়ে ওঠা নাছিরউদ্দিন চেয়েছিল আওয়ামীলীগে পদ নিতে। অর্থ আর প্রতিপত্তির কারণে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতাদেরও চাপে রাখে সে।  

 

 

এলাকার আওয়ামীলীগ নেতাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নাছিরউদ্দিন বলেছিল, যে কোন মূল্যেই সে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হবে সে। আর সেটি হতেই সে সন্ত্রাসী তৎপরতা দিয়ে গোটা জনপদে ভীতি তৈরি করেছে।

 

 

অথচ নাছিরউদ্দিন সম্পর্কে এলাকার মানুষের কাছে ভালো কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এলাকায় তার স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্যই মিলেছে।  এমনকি নাছিরউদ্দিনের বাবা জিয়াউর রহমানের আমলে গ্রাম সরকারও ছিলেন। এখন নাছির উদ্দিন চাচ্ছেন অর্থের জোরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে।

 



সূত্র জানায়, নাছির উদ্দিনের উত্থান হয় মুন্সিগঞ্জে এক দোকানে কাজ শুরুর মাধ্যমে। ১৯৯১ সালে মুন্সিগঞ্জে বিএনপির এমপি আবুদল হাইয়ের নির্দেশে সোনারগাঁয়ে অধ্যাপক রেজাউল করিমের নির্বাচন করে এই নাছিরউদ্দিন। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০৮ সাল পযৃন্ত বিএনপির সাথেই ছিল নাছির।

 

 

এড. সানজিদা খানম নৌকা পাওয়ার পর তার বিরোধী শিবির বিএনপিতে আবদুল হাইয়ের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নাছির। এমনকি ২০০৫ সালে নাছির মুন্সিগঞ্জ শহর বিএনপির ২নং ওয়ার্ডের কমিটিতেও ৩৭নং সদস্য হিসেবে ছিলেন। এবং নাছিরের ছোট ভাই জানে আলম ওই কমিটির ৩৮নং সদস্য হন।

 

 

সূত্র জানিয়েছে, নাছিরউদ্দিনের চারভাই তাদের প্রত্যেকের বালু সিন্ডিকেট দেখভালের জন্য আলাদা বাহিনী আছে। এলাকাতেও তাদের একচ্ছত্র প্রাভাব। এলাকাতেই পাঁচটি মার্ডার মামলার আসামি তারা।  সূত্র জানিয়েছে, ওই এলকার কালা মুন্না, রজ্জব, শহীদ, মহসীন ও জামাল হত্যাকাণ্ড তাদের প্রত্যক্ষ ইন্ধনেই হয়েছে।

 

 

তবে এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার কেউ পায়নি। তাই এলাকায় নাছিরউদ্দিন বাহিনীর ভয়ে মুখ খুলতে চায়না কেউ। বর্তমানেও তার বাহিনী নদীতে ডাকাতি, এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম বলবৎ রেখেছে। নাছিরউদ্দিনের ছেলে রাসেলও এলাকায় বাহিনী তৈরি করে মাদকের আস্তানা গেড়েছে। নাছির বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।

 

 

এলাকায় জমি বিক্রির সিন্ডিকেটও নাছির বাহিনীর হাতে। চাঁদা না দিয়ে কেউ এলাকায় জমি কেনা বেচা করতে পারেনা। অর্থ আর প্রতিপত্তির জোরে এসব অপকর্ম করে অগাধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন নাছিরউদ্দিন। আওয়ামীলীগের অনেক নেতাদের সাথেও কঠিন সখ্যতা তৈরি করেছে এই কৌশলী নাছির।

 

 

সদ্য সমাপ্ত সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের সম্মেলনেও তার প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করেছে। সে নিজেকে স্বঘোষিতভাবে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি দাবি করে। এভাবেই স্বঘোষিত নাছিরের সহসভাপতির ব্যানার ফেস্টুনে সয়লাব গোটা শম্ভুপুরা ইউনিয়ন।

 

 

তার দাপটে কোনঠাসা ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতারা। নাছিরের এবারের মিশন আওয়ামীলীগার হওয়া শুধু নয়, শম্ভুপুরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়া। গত বছর ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচন করলেও ফেল করে নাছির।

 

 

কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুর রউফও মুখ খুলতে চাননা নাছিরের বিরুদ্ধে। নাছিরের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, এলাকার মানুষকে জিজ্ঞাসা করলেই সঠিক উত্তর পেয়ে যাবেন। এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন