পঞ্চবটিতে স্ট্যান্ড বসিয়ে শিশু কিশোর পরিষদ সংগঠনের চাঁদাবাজি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:৫৪ পিএম
# ক্লাবের সভাপতি অপু, স্থানীয় মেম্বার সালাউদ্দিন ও পৌরসভা মার্কেটের সভাপতি হাজী আলি নূরের নিয়ন্ত্রণে
পঞ্চবটিতে স্ট্যান্ড বসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের বিরুদ্ধে। ক্লাবের সভাপতি অপু, স্থানীয় মেম্বার সালাউদ্দিন ও পৌরসভা মার্কেটের সভাপতি হাজি আলী নূরের নিয়ন্ত্রণে সকল স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি এমনটাই অভিযোগ।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে অবস্থিত পঞ্চবটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কিন্তু বছরের পর বছর এ জায়গায় যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশ কয়েকজন ট্রাফিক সদস্য যানজট নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করলেও তেমন কোনো সুফল পাওয়া যায়না। এর নেপথ্যে একটি সক্রিয় গোষ্ঠীর চাঁদাবাজিকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অথচ ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ প্রবেশদ্বার বলা হয় এই সড়ককে। বেশ কয়েকটি সিমেন্ট কোম্পানির গাড়ি চলাচল করে এই সড়কে। শুধু তাই নয়। নারায়ণগঞ্জের অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল বিসিক এর সকল পণ্যবাহী গাড়ি পঞ্চবটি হয়ে প্রবেশ করে ও বাহির হয় । কিন্তু সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর চাঁদাবাজির ফলে প্রায় সবসময়ই যানজটের কবলে থাকে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল। নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘন্টা। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে পঞ্চবটি মোড় পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় মোড়ের চতুর্দিকে বিভিন্ন অবৈধ স্টান্ডে সয়লাব পুরো পঞ্চবটি এলাকা । পৌরসভা মার্কেটের সামনেই গড়ে তোলা হয়েছে বক্তাবলিগামী অবৈধ ব্যাটারি চালিত গাড়ির স্টান্ড। যার কারনে মার্কেটের সকল দোকানির ভোগান্তি চরমে পৌচেছে। ভাড়ায় দোকান নিয়ে দোকানের সামনে এমন অবৈধ স্টান্ডের কারনে বিরক্ত ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ে।
কিন্তু এই ভোগান্তির কথা আমলে না নিয়ে বছরের পর বছর অবৈধ স্টান্ড বসিয়ে চাঁদাবাজির মহোৎসবে মেতে আছে স্বার্থন্বেসী চাঁদাবাজ চক্র। শুধু পৌরসভা মার্কেটের সামনেই নয়, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সামনের বক্তাবলিগামী সিএনজি স্টান্ড, মুক্তারপুরগামী অটো স্টান্ড, পাগলা পোস্তগোলাগামী অটো স্টান্ড সহ বেশ কয়েকটি ছোট বড় স্ট্যান্ড বসিয়ে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত থাকে চক্রটি। এতে করে শত চেষ্টা করেও শৃ্খংলা আনা যায় না পঞ্চবটিতে। বিফলে যায় ট্রাফিক সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টা।
তথ্যমতে এই চাঁদাবাজির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ এর ফতুল্লা থানা কার্যালয়ের সভাপতি অপু, এনায়েতনগর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সালাউদ্দিন ও পৌরসভা মার্কেটের সভাপতি হাজি আলি নুর।
তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে ফারুক ও শহিদুল নামক দুই ব্যক্তির মাধ্যমে স্ট্যান্ডের প্রতিটি ব্যাটারি চালিত গাড়ি থেকে মাসে ৪০০ টাকা ও সিএনজি থেকে ৫০০ টাকা করে উত্তোলন করা হয়। এছাড়াও প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ি থেকে ২০ টাকা করে নেওয়া হয়।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের সভাপতি অপুর সাথে কথা বললে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই অফিস সারাদিন বন্ধ থাকে। রাতে তারা এসে একটু আড্ডা দেন। এর বাইরে কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম এই ক্লাবে তথা তারা করেনা।
আগে তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম থাকলেও এখন সেটা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় যে অফিস সারাদিন বন্ধ থাকে। কোনো কার্যক্রম পালন করেনা। এমন অফিস শুধুমাত্র রাতে খোলার কারণ হিসেবে তাদের চাঁদাবাজিকেই মুখ্য উদ্যেশ্য হিসেবে অভিহীত করলে সম্ভবত ভুল হবেনা বলে অভিমত স্থানীয়দের।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পৌরসভা মার্কেটের সভাপতি হাজী আলি নুর জানান, বাস্তবতা হচ্ছে রাস্তা গাড়ির জন্য কিন্তু দোকানের জন্য না। তিনি আরোও জানান গাড়ি না থাকলেও হয়না। আবার দোকান না থাকলেও হয়না। উভয় পক্ষকে মিলেমিশে চলতে হবে। এখানে আমার কিছু করার নেই। যারা চালায় তারা শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদ ক্লাবের সাথে যোগাযোগ করে চালায়। তারাই এটা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এটার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে তিনি একটি মার্কেটের সভাপতি হয়েও তার মার্কেটের সামনে গড়ে উঠা এমন অবৈধ স্ট্যান্ড বছরের পর বছর চলমান থাকলেও এক্ষেত্রে তার নিরবতা চাঁদাবাজিতে সংশ্লিষ্ট থাকার বার্তাই পরিষ্কার করছে বলে অভিমত সুধীমহলের। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এনায়েতনগর ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার সালাউদ্দিন জানান, আমার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কে বা কারা চাঁদাবাজি করছে আপনারা দেখেন। আমি এসবের সামনেও যাই না।
তবে স্থানীয়দের দাবি এমন অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে না পারলে পঞ্চবটিতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না। শুধুমাত্র অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ নয় , যারা অবৈধ স্ট্যান্ড সৃষ্টি করে পঞ্চবটিকে একটি বিশৃঙ্খল জনপদে পরিণত করে রেখেছে দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


