# ঘনিয়ে আসছে বর্ষা, ইসদাইর-টাগারপার-লালপুরবাসীর মাঝে আতঙ্ক
ঘনিয়ে আসছে বর্ষাকাল। ফতুল্লার ইসদাইর, গাবতলী, টাগারের পাড় ও লালপুর সহ বিশাল এলাকার মানুষের মাঝে বাড়ছে জলাবদ্ধতার টেনশন। কারণ এবারও এসব এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। ফলে বৃষ্টিপাত শুরু হলে এবারওযে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে এতে বাসিন্দাদের কারোই কোনো সন্দেহ নেই।
ফলে অত্র এলাকার বাসিন্দারা চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করছেন। এ বিষয়ে ফতুল্লার লালপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষাকালে গোটা লালপুর এলাকা বৃষ্টির পানির নিচে ডুবে থাকে। গত দুই বছর ধরে এলাকাবাসী চাঁদা দিয়ে পানি সেচের ব্যাবস্থা করছে। তারপরেও কোনো স্থায়ী ব্যাবস্থা না হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে গত বছর বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হওয়ায় কিছুটা কম হয়েছে জলাবদ্ধতা।
কিন্তু আগের কয়েক বছর এতো বেশি জলাবদ্ধতা হয়েছে যে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। তিনি আরো বলেন এবারও বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তাই এবার ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা করছি। তাই স্থানীয় এমপি, উপজেলার চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ এখনই ব্যাবস্থা গ্রহন করা। অন্যথায় এবারও এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
এদিকে ফতুল্লার টাগারের পাড় এলাকার একজন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক জানিয়েছেন, টাগারেরপার এলাকায় ছোটো বড় অন্তত চল্লিশটি শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। আর এসব শিল্প কারখানায় কাজ করেন হাজার হাজার শ্রমিক। গত কয়েক বছর ধরেই সারা বর্ষা জুরে এই টাগারের পার এলাকা হাটু পানির নিচে ডুবে ছিলো।
তাই এবারও বর্ষা শুরু হওয়ার আগে অত্র এলাকার মালিক-শ্রমিকদের মাঝে চরম আতংক বিরাজ করছে। কারন এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো কাজই করা হয়নি। বরং যে খাল দিয়ে অত্র এলাকার পানি নেমে যায় ওই খালের বিভিন্ন জায়গায় দখল করে নেয়া হয়েছে।
অপরদিকে ইসদাইর এলাকার বাসিন্দা হাজী নূরুদ্দিন বলেন, আমরা যারা এই এলাকায় স্থায়ী ভাবে বসবাস করছি তারা আসলে হতভাগা। কারন এভাবে প্রতি বছর জলাবদ্ধতা হওয়ার পরেও দেখার কেউ নেই। অত্র এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই। তিনি আরো বলেন প্রতি বছরই বর্ষাকালে বিশাল এলাকা বৃষ্টির পানির নিচে ডুবে থাকে।
বর্ষাকাল আসার পর যখন এলাকায় ভয়াবহ জলবদ্ধতা হয় তখন বিভিন্ন মিডিয়ায় নিউজ ছাঁপানো হয়। তখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কিছু লোক দেখানো কাজ করেন। কিন্তু এই সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করার কোনো আগ্রহ কারো নেই। তাই এবারও আমরা বেশ টেনশনে আছি। তিনি বলেন, গত বছর বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হলেও এবার ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তাই এবার কি ঘটে সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। এন.হুসেইন/জেসি


