Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

কুতুবপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম হ-য-ব-র-ল

Icon

সাদ্দাম হোসেন শুভ

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৩, ০১:১৬ পিএম

কুতুবপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম হ-য-ব-র-ল
Swapno


চলতি বছর ডিসেম্বর মাসেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আভাস দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ দলগতভাবে এই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে। আগামী নির্বাচন আগের দুটি নির্বাচনের মতো হবে না বলেও সব মহল থেকেই বলা হচ্ছে।

 

 

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দলের যারা নির্বাচন করতে চান, তাদের মানুষের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, সবাইকে নিজ নিজ যোগ্যতায় নির্বাচনে জিততে হবে, তিনি কাউকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব নেবেন না। এমন দলীয় সিদ্ধান্তের পরেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের অন্যতম জনবহুল কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাদের অবস্থা এখন হযবরল।

 

 

কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মানিক চাঁন কে দলীয় কোনো কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় নি। শুধু তা-ই নয়, তাদের এমন কর্মকান্ডে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলেও জানা যায়। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের পরিবর্তন চায় তৃনমূল নেতাকর্মীরা।  

 

 

এদিকে বিএনপি জামাতের সন্ত্রাসী নৈরাজ্যের প্রতিবাদে দলীয় কর্মসূচী হিসেবে শান্তি মিছিল অনুষ্ঠানে তাদের দেখা মেলেনি। কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাসির মিল্কীর মৃত্যুতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে পাশে না পেয়ে হতাশ হয়েছেন তার পরিবারের স্বজনরা। ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসেও কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতারা ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এমন যদি হয় দলীয় নেতাদের অবস্থা তাহলে সাংগঠনিক কার্যক্রম হযবরল হওয়াটাই স্বাভাবিক। 

 

 

কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৃনমূল নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মানিক চাঁন তাদের নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্য ও জায়গা জমি কেনাবেচা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নেই কোনো সহানুভূতি। তাই তাদের পরিবর্তন চায় তৃনমূল নেতাকর্মীরা।  

 

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, কুতুবপুর ইউনিয়ন বৃহত্তর ৩নং ওয়ার্ড বর্তমান (৭,৮,৯) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাহাত, বৃহত্তর ২ নং ওয়ার্ড বর্তমান (৪,৫,৬) সভাপতি আলাউদ্দিন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক হাজী জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কিছুটা সাংগঠনিকভাবে টিকে আছে। আগামী সম্মেলনে রফিকুল ইসলাম রাহাত ও আলাউদ্দিন হাওলাদার কে কুতুবপুর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হাজী জাহাঙ্গীর আলম কে চাই তৃণমূল পর্যায়ে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সাংগঠনিকভাবে টিকে থাকতে হলে তাদের বিকল্প নেই বলেও জানা যায়।  

 

 

জানা যায়, রফিকুল ইসলাম রাহাত, ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে স্কুল জীবনে ছাত্রলীগ করার মাধ্যমে রাজনীতিতে নাম লেখান। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে ফতুল্লা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সৈরাচারী জিয়া সরকার আমলে ফতুল্লা ইউনিয়ন মাত্র ১০-১২ জন ছাত্রলীগের মধ্যে তিনি অন্যতম নেতা ছিলেন।সৈরাচারি জিয়া সরকার আমলে অত্যাচার, নির্যাতনের ভয়ে কেউ আওয়ামী লীগ পরিচয় দিতে সাহস পেত না। ১৯৮৬ সালে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি দায়িত্বে থেকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করে জেল, জুলুম, নির্যাতন হয়েও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ায়নি।

 

 

১৯৯৭ সালে শিহাচর গ্রাম আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন। ২০০৩ সালে তিনি কুতুবপুর ইউনিয়ন বৃহত্তর ৩নং ওয়ার্ড বর্তমান (৭,৮,৯) এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে আজও সততা ও নিষ্ঠার সাথে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আদর্শে সৈনিক হিসেবে তৃনমূল নেতাকর্মীদের পাশে থেকে নিরলসভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন।  

 

 

এ বিষয় রফিকুল ইসলাম রাহাত বলেন, কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের অপেক্ষায় যুবক থেকে বৃদ্ধায় পরিনত হয়েছি। দীর্ঘ ২৪ বছর যাবত সম্মেলনে হাওয়া লাগেনি। তবে এবার ইউনিয়ন সম্মেলন হাওয়ার কথা রয়েছে। তাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে আগামী সম্মেলনে আমি সভাপতি পদপ্রার্থী। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। ইনশাআল্লাহ, আগামীতে যেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করতে পারি।  এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন