বন্দরে মেরাজ হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি, থানায় জিডি
বন্দর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৩, ০২:০৫ পিএম
বন্দরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর মেরাজ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা তুলে নিতে নিহতের পরিবারকে হত্যার হুমকি প্রদান করেছে মামলার এজাহারভূক্ত আসামী বিল্লাল হোসেন ওরফে বিল্লুর পরিবারের সদস্যরা। শনিবার (৮এপ্রিল ) সকাল ৯ টায় বন্দরের ছালেহ নগর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ ব্যাপারে নিহত মেরাজের মা নাসরিন বেগম বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। যার নং ৩৪৯।
জিডিতে নাসরিন বেগম উল্লেখ করেন, গত ৩রা এপ্রিল সন্থ্যায় শিতলক্ষ্যা নদী সংলঘ্ন বন্দর রুপালী আবাসিক এলাকাস্থ আমার ছেলে মেরাজুলের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আয়মান ওয়েল্ডিং ওয়ার্কসসপ দোকানে কাজ করছিল। এ সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হাতে আমার ছেলে মেরাজুল ইসলাম জয় নির্মমভাবে খুন হয়।
এ বিষয়ে আমি বন্দর থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করি। কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামীরা পলাতক রয়েছে। কিন্তু মামলা তুলে নিতে তাদের পরিবারের লোকজন আমাদের হুমকী-ধামকী দিয়েই চলেছে। গত শনিবার সকালে আমি ও আমার স্বামী বন্দর থানাধীন ছালেহনগর এলাকায় অবস্থান কালে একই এলাকার ছোবহান মিয়ার মেয়ে তথা হত্যা মামলার এজাহার ভূক্ত ১২নং আসামী বিল্লাল হোসেন বিল্লুর ৩ বোন ঝর্ণা(৩৮),মোসাঃ পান্না(৩৫),লাকি(৩০) আমাদের বাড়ির সামনে এসে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এমনকি তারা তাদের ভাইয়ের নাম মামলা থেকে উঠিয়ে নিতেও হুমকি প্রদান করে। এছাড়াও মামলা না উঠালে আর বাকি ছেলেকে গুমসহ প্রানণাশ করবে বলে হুমকি প্রদান করে।
উল্লেখ্য,গত ৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে তার বড় ছেলে মেরাজুল ইসলাম (২৮) তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আয়মান ইঞ্জিনিয়ারিং এ অবস্থানের সময় আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জেরে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ হামলা করে। স্থানীয় কাউন্সিলর শাহীন মিয়ার হুকুমে আকিব হাসান রাজু তার হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াাল দিয়ে বাদীর ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাতে-পায়ে ও মাথায় এলোপাথারিভাবে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
মামলার অন্য আসামিরাও আঘাত করে মেরাজুলকে মাটিতে ফেলে দেয়। তখন আকিব হাসান রাজু তার হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য মেরাজুলের পেটে কোপ দিয়ে নাড়ি-ভুড়ি বের করে ফেলে। মেরাজুলকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তার বন্ধু আল আমিনকেও কোপায় আসামিরা। আসামিরা আহতদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পেটে, পিঠে, বুকে কিলঘুষি ও লাথি মারে। আহত দু’জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেরাজুলকে রাত সোয়া নয়টার দিকে মৃত ঘোষণা করে। এন.হুসেইন/জেসি


