রূপগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত ১৫
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৩, ০৯:১৫ পিএম
# আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে
রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মাঝে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে পথচারীসহ উভয় পক্ষের গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন, মো. সানি (১৭), পারভেজ (২১), মো. রুমান (১৮) এবং ইমন (২২)। তারা সবাই চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চনপাড়া পূর্ণবাসন কেন্দ্র এলাকার নিয়ন্ত্রণ করতো ইউপি সদস্য বজলুর রহমান বজলু। বজলু মারা যাওয়ার পর থেকেই চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকার আধিপত্য নিজেদের দখলে নিতে জয়নাল গ্রুপ, শমসের গ্রুপ ও শাহাবুদ্দিন গ্রুপ উঠে পড়ে লেগেছে। আর চনপাড়া দখলকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই ওই ৩ গ্রুপ আলাদা ভাবে বিভিন্ন সময় সশস্ত্র মহড়া দিয়ে আসছে।
এসব বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদকসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মামলা রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে চায় না প্রতিবাদও করতে চায় না। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জয়নাল গ্রুপের সঙ্গে শমসের ও শাহাবুদ্দিন গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া দেওয়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। আর এ ঘটনার জের ধরেই বুধবার সকাল ৮টার দিকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জয়নাল গ্রুপের সঙ্গে শমসের ও শাহাবুদ্দিন গ্রুপের সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ সময় সাধারণ মানুষের বাড়ি ঘর ও দোকানপাটেও লুটপাট করানো হয় বলেও নাম না প্রকাশ শর্তে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ওই চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ ও ইন্সপেক্টর ওসি/তদন্ত আতাউর রহমানের নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। গুলিবিদ্ধের মধ্যে ইমনকে প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অবস্থা গুরুতর দেখে তাকেও ঢামেকে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নাজমুল আলম জানান, তাকে (ইমন) কিছুক্ষণ আগে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হবার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আবারো সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এদিকে ঢামেকে চিকিৎসাধীন আহতরা বলেন, তারা চনপাড়ায় থাকেন। সকালে স্থানীয় কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সময় তারা সেখান দিয়ে কাজে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন। সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, সম্রাট ও রুমানের পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আর সানির পুরুষাঙ্গের পাশে গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ঘটনাটি রূপগঞ্জ থানা এলাকায়। তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে জয়নাল গ্রুপের প্রধান জয়নাল, শমসের গ্রুপের প্রধান শমসের ও শাহাবুদ্দিন গ্রুপের প্রধান শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থল অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। বিশৃঙ্খলা কারীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চলছে।
এস.এ/জেসি


