রূপগঞ্জে রংধনু সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ৩০ লাখ টাকা ছিনতাই
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৩, ০৩:১১ পিএম
রূপগঞ্জের ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কসহ আশপাশের এলাকায় একের পর এক ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে আসছে। বর্তমানে অপরাধের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকার ওই দুই মহাসড়ক।
আর এসব অপরাধমুলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে অন্তত ২০টি চক্র। এসব চক্ররা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক বিভিন্ন নামধারী নেতার সেল্টারে থেকে অপরাধীরা পার পাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহৎ শিল্প গ্রুপ রংধনু গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রংধনু সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের আমদানিকৃত ৩০ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা। সোমবার (২৪ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১১ টার দিকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল ব্যাংক) ভুলতা শাখায় জমা দিতে যাওয়ার পথে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের বাংলাকেট নামক স্থানে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
রংধনু সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক ইদি আমিন জুয়েল জানান, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রংধনু সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের সিএনজি গ্যাস, ডিজেল, অকটেন বিক্রির ৩০ লাখ টাকা আমদানি হয়। আর ওই আমদানির টাকা তাদের প্রতিষ্ঠানের ক্যাশিয়ার গোলাম কিবরিয়া একটি সিএনজি যোগে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল ব্যাংক) ভুলতা শাখায় জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেলা পৌনে এগারোটার দিকে রওনা হন।
তাদের (রংধনু সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন) থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার সামনে বাংলাকেট নামক স্থানে একটি সাদা প্রাইভেটকারযোগে এসে ৩/৪ জনের একদল ছিনতাইকারী তাদের সিএনজিকে গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে গোলাম কিবরিয়াকে। এ সময় গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে থাকা ৩০ লাখ টাকা রাখা একটি ব্যাগ ছিনতাই করে তাৎক্ষণিক কিছু বুঝার আগেই প্রাইভেটকার যোগে দ্রুতগতিতে ভুলতার দিকে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা ।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি/ তদন্ত আতাউর রহমান বলেন, ছিনতাই এর ঘটনাটি আমরা খতিয়ে দেখছি। আশা করি দ্রুত ঘটনাটি উদঘাটন ও ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারব।
স্থানীয় সুত্র জানায়, গোলাকান্দাইল নতুন বাজার এলাকার কাওসার ওরফে ডাকাত কাওসার, গোলাকান্দাইল নাগেরবাগ এলাকার কাজল গ্রুপ, রাজীব গ্রুপ, বলাইখা এলাকার আনিস গ্রুপ, জুবায়ের হোসেন ওরফে যুব গ্রুপ, গিয়ার গ্রুপের মাসুম বিল্লাহ , আউখাব এলাকার রানা গ্রুগ, নিলভিটা টরলা মাসুম, সাওঘাট এলাকার বাবুল গ্রুপসহ ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকায় প্রায় ২০টি অপরাধী চক্র রয়েছে।
এসব চক্রের সঙ্গে রয়েছে কিশোরগ্যাংয়ের সদস্যরাও। তারা একের পর এক ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, জমিদখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে, ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকাটি একটি শিল্প এলাকা। এখানে ছোট বড় মিলিয়ে কয়েক শতাধীক শিল্প কারখানা রয়েছে।
রয়েছে বৃহত্তর পাইকারী কাপড়ের বাজারসহ অন্তত ১০/১২টি মার্কেট। রয়েছে অন্তত ২০টি ব্যাংক। সব ধরনের পেশাজীবি মানুষকেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়ক যোগে ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকায় আসতে হয়। এর এ সুযোগে চক্র গুলো মহাসড়কে ছিনতাই-ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটিয়ে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লা সদর এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী নাঈমুর আহম্মেদ ভুলতা এলাকায় ১৮ এপ্রিল ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। এসময় তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা লুটে নেয় এবং তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। বন্দর উপজেলার মদনপুর একতা সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী পাইকারী কাপড় ক্রয় করতে আসেন গাউছিয়া কাপড়ের মার্কেটে।
এসময় গত ২য় রমজানে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের গোলাকান্দাইল এলাকা থেকে কাপড় ক্রয় করার দুই লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এসময় তাকে বেধরক মারপিট করা হয়। মুন্সিগঞ্জ জেলার ভবেরচর এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী রাজিব মিয়া বাংলাকেট এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।
এসময় তার কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। প্রতিবাদ করায় রাজিব মিয়াকে মারধর করা হয়। গত বুধবার মধ্যে রাতে বাংলাকেট সংলগ্ন হাসেম ফুড কারখানার সামনে ছিনতাইকারীদের কববে পড়েন পিকআপ চালক মামুন মিয়া ও হেলপার সিয়াম। এসময় ফার্নিচার ভর্তি পিকআপ ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় পুলিশ ফেরদৌস ও উজ্জল নামের দুই জনকে গ্রেপ্তারও করেন। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। এ ধরনের ঘটনার শেষ নেই।
হারবেষ্ট রিচ গার্মেন্টস ও রবিনটেক্স নামে দুটি পোশাক কারখানার এক নারী শ্রমিক নাম না প্রকাশ শর্তে বলেন, মাসে বেতন পেলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। বেতন-বোনাস নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আমরা প্রায় সময়ই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ি এবং বেতনের টাকা কেড়ে নেয়। পোশাক কারখানা ও মহাসড়কে আরো বেশি করে নিরাপত্তা জোরদার করা দরকার।
নাম না প্রকাশ শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, মামলা করে কি হবে। জামিনে বের হয়ে আবারো অপরাধ শুরু করে। পরে যারা বাদী তারা পড়েন বিপদে। অপরাধীরা ধরা খেলে রাজনৈতিক নামধারী প্রভাবশালী নেতারা হস্তক্ষেপ করলে অনেকে মামলা করবে দুরের কথা ভয়ে পুলিশকে জানাতে পর্যন্ত চায়না।
ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার সময়ে ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তারপরও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যায়। আমরা তৎপর রয়েছি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) আবির হোসেন বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসন সব সময় তৎপর। রূপগঞ্জ একটি শিল্প এলাকা। এখানে লাখ লাখ মানুষের বসবাস। যারা অপরাধ করছে তারা যার লোকই হোকনা কেন তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে ডাকাত, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধী গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছি। প্রতিটি এলাকায় পুলিশি টহল ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। এন.হুসেইন/জেসি


