আফজাল হত্যা : ২৩ দিনেও মূল আসামীদের গ্রেফতারে ব্যর্থ পুলিশ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৩, ০৭:১৫ পিএম
# নিহতের স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।
ফতুল্লার দেওভোগ বাঁশমুলি এলাকার কাশিপুর ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি আফজাল হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামীদের গ্রেফতারে পুরোটাই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে থানা পুলিশ। আফজাল হত্যাকান্ডের প্রায় ২৩দিন অতিবাহিত হলেও নিহতের স্বজন কর্তৃক প্রধান আসামী কুখ্যাত সন্ত্রাসী রাজু প্রধানের পিতা রিয়াজ প্রথান, ছোটভাই পায়েল প্রধানকে পুলিশে সোপর্দ করানো এবং র্যাবের অভিযানে কাউসার মুন্সিকে গ্রেফতার করা ছাড়া থানা পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার না করায় নিহতের স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।
নিহতের স্বজন এবং স্থানীয়রা জানান, গত ৬ এপ্রিল সকালে আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে বাসা থেকে বের হয় আফজাল। পথিমধ্যে দেওভোগ মাদ্রাসার শেষ মাথায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী রাজু প্রধানসহ তার বাহিনীরা আফজালকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় ঐদিন রাতেই নিহত আফজালের বাবা এবাদুল প্রধান রাজু প্রধানকে প্রধান আসামী করে ১৬ নামীয়সহ অজ্ঞাত আরো ৫/৬জনকে আসামী করে মামলা করেন ফতুল্লা মডেল থানায়।
মামলায় অন্যান্য এজাহারনামীয় আসামীরা হচ্ছেন সোলায়মান হোসেন সায়মন, রাসেল ওরফে বিয়াইস্তা রাসেল, রাশেদ, হিটলার, সফিকুল ইসলাম প্রধান, ভোমড়া রাসেল, শামীম, আমিন, রাসু, সাজু প্রধান, কাউসার মুন্সি, সালাউদ্দিন, পায়েল প্রধান, রিয়াজ প্রধান ও সফিউল্লাহ সফি। এ মামলায় যে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার মধ্যে রিয়াজ প্রধান ও পায়েল প্রধানকে নিহতের স্বজনরা পুলিশে সোপর্দ করে এবং কাউসারকে র্যাব-১১ গ্রেফতার করেছে। বাকী যে দুইজনকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে তারা নাকি এ মামলায় সম্পৃক্ত নয় জানায় নিহতের স্বজনা।
এ দিকে কাশিপুর ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি আফজাল হত্যাকান্ডের ঘটনা প্রায় ২৩ দিন হলেও পুলিশ মামলার প্রধান আসামীসহ এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার না করায় আতংকে রয়েছে নিহতের পরিবারের সকল সদস্যরা। তারা জানান, প্রতিনিয়ত মামলার আসামীরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকী প্রদান করে আসছে। আসামীরা রাতের আধারে এলাকাতেই ঘোরাফেরা করলেও পুলিশের সঠিক নজরদারী না থাকার ফলে আসামীদেরকে গ্রেফতারে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। আসামীদেরকে গ্রেফতারে এলাকা ছাড়াও শহরের বিভিন্ন দেয়ালে সাটানো পোষ্টারগুলো ছিড়ে ফেলেছে এবং তার উপর কালি লেপন করে দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আফজাল হত্যাকান্ডের পর থানায় একটি মামলা নিয়েই যেন খালাসের ভুমিকা পালন করেছে পুলিশ। আসামীদেরকে গ্রেফতার না করায় নিহতের স্বজনদের পাশাপাশি আমরাও রয়েছে শংকার মাঝে। কারন রাজু প্রধান ও তার বাহিনী আমাদের সকলের মাঝেই যেন আতংকের একটি নাম। যে নামটি শুনলে ঘরে থাকা শিশুটির মাঝে আতংক বিরাজ করে। আমরা চাই অতিদ্রুত আফজাল হত্যাকারী রাজু প্রধানসহ তার বাহিনীকে গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হউক।
উল্লেখ্য যে, ৬ এপ্রিল সকাল নয়টায় নারায়নগঞ্জ জেলা আদালতে একটি মামলার হাজিরা দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয় আফজাল। রিক্সায় করে দেওভোগ মাদ্রাসার পেছনে হাজী নিজামের বাড়ীর সামনে যাওয়া মাত্র অভিযুক্ত আসামীরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসী রাজুর নেতৃত্বে আফজালকে টেনে হিচড়ে নামিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে কোপায়। এসময় সন্ত্রাসীরা আফজালকে হাত পায়ের রগ কেটে দেয়। সন্ত্রাসীরা রক্তাক্ত অবস্থায় আফজালকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। পরে রক্তাক্ত জখম হয়ে আফজাল অজ্ঞাতনামা একটি অটোরিক্সায় করে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এসে রাস্তায় পরে যায়। পরে আফজালের স্বজনেরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে চিকিৎসার জন্য শহরের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে যায়। পথিমধ্যে নিহত আফজাল স্বজনদের নিকট হামলার বর্ননা করে ঘাতকদের নাম বলে যায়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. হুমায়ুন ২ এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তা ব্যস্ত পাওয়া যায়।
এস.এ/জেসি


