Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে গার্মেন্টস শ্রমিককে মারধর-হুমকি ও অপহরণ চেষ্টা

Icon

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৩, ০৭:৫২ পিএম

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে গার্মেন্টস শ্রমিককে মারধর-হুমকি ও অপহরণ চেষ্টা
Swapno


সিদ্ধিরগঞ্জে আল আমিন গার্মেন্টসে নারী শ্রমিককে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মারধর ও চাকরিচ্যুৎ করার অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মামলা থানায় আসার পর থেকে স্বাক্ষীদের হুমকি ধমকি ও একজনকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আসামিদের বিরুদ্ধে। মামলার তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন আসামি পক্ষের লোকজন। এসব ঘটনায় শ্রমিক হৃদয় খান ও সাগরী বাদী হয়ে থানায় পৃথক দুইটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

 

জানা গেছে, অবৈধ দৈহিক মিলনে রাজি না হওয়ায় মারধর লাঞ্ছিত ও চাকরিচ্যুৎ করার অভিযোগে মাদানীনগর এলাকার আল-আমিন অ্যাটেয়ার্স লিমিটেড কারখানার এজিএম আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৫) ও  এডমিন অফিসার নোমান রশিদ লাবুকে (৪০) আসামি করে ৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন প্রতিষ্ঠানের এক নারী শ্রমিক।

 

 

আদালত থেকে মামলাটি তদন্তের জন্য থানা পুলিশের কাছে আসার পর থেকেই ঘটনা ধামাচাপা দিতে অসামিরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাদী ও স্বাক্ষীদের দিচ্ছেন বিভিন্ন হুমকি ধমকি। এতে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন বাদী ও সাক্ষীরা। ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক দুইটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

 

 

শ্রমিক হৃদয় খান অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি আসাদুজ্জামান ও নোমান রশিদের অপকর্মের বিষয়ে অবগত। তাই আসাদ গত ১৭ এপ্রিল রাত নয়টায় মোবাইল ফোন করে আমার সঙ্গে কথা বলতে বাসা থেকে বের হতে বলেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে সরল বিশ্বাসে বাসা থেকে বের হলে তার সঙ্গে থাকা ১০ থেকে ১২ জন পোষা গুন্ডা তাকে অপহরণ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।

 

 

কারখানা মালিক ও পুলিশের কাছে কিছু না বলার জন্য আসাদ তাকে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। অপরদিকে অজ্ঞাত দুইজন চর থাপ্পড় মারে। এসময় ভয়ে ডাক চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সুযোগ বুঝে হৃদয় ঘটনাস্থল থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে আসেন।

 

 

সাগরী অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার দুই মেয়ে হীরা মনি(১৮), দোলা আক্তার (১৬), জা হালিমা (৪২), ভাসর ফজলুল হক (৫০) আল-আমিন অ্যাটেয়ার্স লিমিটেড কারখানায় কর্মরত রয়েছেন। তারা সবাই আসামিদের বহু অপকর্মের স্বাক্ষী। তাই তাদের অপকর্মের কথা প্রকাশ না করার জন্য প্রতিনিয়তই বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছেন।

 

 

এছাড়াও বাদীকে মামলা প্রত্যাহার ও স্বাক্ষীদেরকে পুলিশের কাছে কিছু না বলার জন্য মালিকপক্ষের পোষা গুন্ডা বাহিনী লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে।তারা স্বাক্ষীরা কে কোথায় কার বাড়ীতে থাকেন এসব খোঁজখবর নিচ্ছেন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন স্বাক্ষীরা।

 

 

শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, কারখানার এজিএম আসাদুজ্জামান আসাদ ও  এডমিন অফিসার নোমান রশিদ লাবুর অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে গত ১৫ মার্চ কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। এসময় শ্রমিকদের ভয়ে কারখানা থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা। পরে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন ও থানা পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।  

 

 

শ্রমিকদের অভিযোগ, যৌন কামনা চরিতার্থ হাসিল করতে না পেরে একজন নারী শ্রমিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করায় আসাদুজ্জামান আসাদ ও নোমান রিশদ লাবুর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করা হয়েছে। তবু ওই দুই কর্মকর্তা স্বপদে বহাল রয়েছেন। মালিকপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

 

 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তিন ডিসেম্বর আল-আমিন অ্যাটেয়ার্স পোশাক কারখানায় কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর হিসেবে কাজ শুরু করেন ২২ বছরের ওই নারী। তার প্রতি কূ-দৃষ্টি দেয় এজিএম আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি ওই নারীকে দেন কূ-প্রস্তাব। তখন ওই নারী সহকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিষ্ঠানটির এডমিন অফিসার নোমান রশিদ লাবুর কাছে মৌখিক অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে কারখানার অভিযোগ বক্সে লিখিত অভিযোগ করেন।

 

 

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এডমিন অফিসার নোমান রশিদ লাবু ওই নারীকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে এজিএম আসাদুজ্জামান আসাদকে সামনে রেখে গালাগাল ও বসদের এসব যৌন আকাঙ্খা মিটিয়ে চাকরি করতে পারলে কর না হয় বের করে দিব বলে হুমকি দেয়। এর প্রতিবাদ করায় বাদীসহ, শ্রমিক ইদ্রিস আলী, ইমদাদুল হক, ফজলুল হক ও সাগরীকে বেতন ভাতা না দিয়ে চাকরিচ্যুৎ করা হয়।

 

 

এ ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ কলকারখানা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। তখন অধিদপ্তর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় কর্তব্যরত কলকারখানা শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) সৈকত মাহমুদকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। সৈকত মাহমুদ শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষকে নিয়ে অধিদপ্তর কার্যালয়ে অলোচনায় বসেন।

 

 

তখন অভিযুক্তরা চাকরিচ্যুৎ করা সবাইকে কাজে যোগদানের অনুরোধ করেন। পাঁচ সদস্যের একটি সেক্সুয়াল হেরেসমেন্ট কমিটি গঠন করে তার অনুলিপি অধিদপ্তরে জমা দেয়া ও  ভিকটিমকে ক্ষতিপূরণ দিতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় কলকারখানা অধিদপ্তর।

 

 

অধিদপ্তরের নির্দেশ বাস্তবায়নের কথা বলে ৮ এপ্রিল অভিযুক্তরা বাদীকে মোবাইল ফোন করে চাকরিহারা সবাইকে নিয়ে কারখানায় আসতে বলেন। সবাই কারখানায় গেলে গেইটে দীর্ঘ অপেক্ষার পর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বাদীকে একা ভিতরে নিয়ে আসামিরা বাদীকে জোর পূর্বক ঝাপটে ধরে জবরদস্তি ও স্পর্শ কাতর স্থানে হাত ও ধর্ষণ করার চেষ্টা চালায়।

 

 

তখন ইজ্জত বাঁচাতে ওই নারী চিৎকার শুরু করলে নোমান রশিদ তার গলা চেপে ধরে। আসাদ উপর্যুপরি কিল ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এমন সময় কারখানার কয়েকজন শ্রমিক ছুটে গেলে ওই নারীর ইজ্জত রক্ষা হয়।

 

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কারখানায় গিয়ে এজিএম আসাদুজ্জামান আসাদকে পাওয়া যায়নি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শ্রমিক জানান, গত ১৫ এপ্রিল মামলার দুই আসামির অপসারণ দাবিতে কর্মবিরতি ও তাদের ধাওয়া দেওয়ার পর থেকেই আসাদ কারখানায় আসেননা। তবে নিজেকে নিরপরাধ দাবি করে নোমান রশিদ লাবু বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায় করেছে এজিএম আসাদুজ্জামান। তার কারণে আমি অপমান অপদস্থ হচ্ছি।  

 

 

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন বলেন, মামলাটি কারখানা সংক্রান্ত বিষয় নয়। কোন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অপরাধের দায় মালিক পক্ষ নিবেনা। 

 

 

দুইটি অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক দেবাশিশ বলেন, অভিযোগ দুইটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, যৌন হয়রানী ও মারধর সংক্রান্ত ঘটনায় আল-আমিন অ্যাটেয়ার্স লিমিটেড কারখানার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে করা একটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। তদন্ত চলমান। দ্রুতই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।  এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন