কুতুবপুরে বাড়ি নির্মাণে সাধারণ মানুষ জিম্মি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৩, ০৬:২১ পিএম
# পরিমাণে কম দেয়া হয়, বেশি দামে কিনতে বাধ্য করা হয়
ফতুল্লা থানার কুতুবপুরে এখন আরো ভয়নক রুপ লাভ করেছে সন্ত্রাস। সন্ত্রাসীদের কাছে একেবারে জিম্মি হয়ে পরেছে গোটা এলাকার মানুষ। বিশেষ করে নিজের বাড়ি বা বহুতল ভবন সহ যেকোনো পাকা স্থাপনা নির্মান করতে গিয়ে এলাকাবাসীকে ইট, বালি, সিমেন্ট বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে।
পূরো কুতুবপুর ইউনিয়নের প্রত্যেকটি এলাকা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতারা আলাদা করে ভাগ করে নিয়েছে। কুতুবপুর ইউনিয়নে যে সকল লেবার এই সকল নির্মান সামগ্রী বহন করেন তারাও এসব নেতাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
কোনো বাড়িওয়ালা নেতাদের কাছ থেকে মাল না কিনলে দিনের পর দিন ওই মালামাল রাস্তায় পরে থেকে এক পর্যায়ে নাই হয়ে যাবে, কিন্তু কেউ মাল টানবে না। কারন লেবাররা সন্ত্রাসী নেতাদের কথায় সব কিছু করেন। নেতাদের কথা না শুনলে ওই এলাকায় কেউ লেবারী করতে পারবে না। লেবারদের নিয়ন্ত্রন সন্ত্রাসীদের হাতে।
এদিকে কুতুবপুরের বউবাজার এলাকার একজন বাড়িওয়ালা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অত্র এলাকায় বাড়ি নির্মান করতে হলে অবশ্যই একটি সন্ত্রাসী চক্রের কাছ থেকে ইট, বালি, রড ও সিমেন্ট কিনতে হবে। এতে নির্মান ব্যায় বেড়ে যায় বহু টাকা। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসীরা বাজার দরের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে তাদের কাছে থেকে মালামাল কিনতে বাধ্য করে।
এছাড়া পরিমানেও কম দেয়। প্রতি হাজার ইটায় একশ করে কম দেয়। তিন হাজার ইট কিনলে পাওয়া যায় সাতাইশ ইট। প্রতি বস্তা সিমেন্ট তাদের কাছে থেকে কিনতে হয় পাঞ্চাশ টাকা থেকে পচাত্তর টাকা করে বেশি দিয়ে।
যেমন বাজারে প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম ৫২৫ টাকা। কিন্তু তাদের কাছ থেকে ৫৭৫ টাকা বা ৬০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। তারা তাদের কাছ থেকে রড কিনতেও বাধ্য করে এবং এক টন রড কিনলে একশ কেজি কম দেয়। মূলত এভাবেই গোটা কুতুবপুর জুরে সাধারন মানুষকে শোষন করা হচ্ছে।
অপরদিকে সূত্র মতে জানা গেছে কুতবুপরের বউ বাজার, রসুল পুর এলাকা নিয়ন্ত্রন করে মীর হোসেন মীরু, তার ভাই আলমগীর হোসেন এবং ভাগিনা রাজিব। গোটা এলাকা জুরে এরা আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে।
একই অবস্থা বিরাজ করছে কুতুবপুরের মুন্সিবাগ, দৌলতপুর ও নিশ্চিন্তপুর সহ আশপাশের এলাকায়। অত্র এলাকার নিয়ন্ত্রন রয়েছে খালেক, মালেক দুই ভাই এবং তাদেও চেলাদের দখলে। নয়া মাটি, মুসলিম পাড়া, শাহী বাজার, চিতাশালের একাংশ সহ আশপাশের এলাকা রয়েছে আলাউদ্দিন মেম্বার এবং তার ক্যাডারদের দখলে।
চিতাশালের অপর অংশ, নূরবাগ ও দৌলতপুর সহ আশপাশের এলাকা রয়েছে মাহবুবুর রহমান হক ওরফে হক্কা বাহিনীর নিয়ন্ত্রনে। মূলত এভাবেই এখন গোটা কুতুবপুর ইউনিয়ন এলাকা দখল করে চলছে বেপরোয়া সন্ত্রাস। দেখার কেউ নেই। ভয়ে কেউ থানায় যেতেও সাহস পান না। কারন এরা সকলেই স্থানীয় এমপি একেএম শামীম ওসমানের লোক হিসাবে পরিচিত।


