Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

পঞ্চবটি-মুক্তারপুর প্রকল্পে এখনো শেষ হয়নি মাটি পরীক্ষা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৩, ০১:৩২ পিএম

পঞ্চবটি-মুক্তারপুর প্রকল্পে এখনো শেষ হয়নি মাটি পরীক্ষা
Swapno

 

# তীব্র গরমে সংকীর্ণ সড়কে যানজট, নাকাল জনজীবন

 

 

ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের যানজট নিরসনে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি মোড় থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরন এবং দোতলা রাস্তা নির্মাণের কাজ চলমান। ১ জানুয়ারি, ২০২১ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ৩০ জুন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে। প্রকল্প শুরুর দুই বছর পেরিয়েছে এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি মাটি পরীক্ষার কাজ।

 

০৪ মে, ২০২৩ তারিখে শিল্পাঞ্চল বিসিকের দুই নং গেইট এলাকায় ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়ক প্রশস্ত ও দ্বিতল রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের জন্য মাটি পরীক্ষা করতে দেখা গেছে। যার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে হতাশ এই রুটে চলাচল করা সাধারণ মানুষ। যারা এই তীব্র গরমে যানজটে আটকে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। প্রতিদিনের যানজট নিয়ে অতিষ্ট তাদের জীবন।

 

এদিকে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটের এই সড়কের পঞ্চবটী থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় চলাচল লোকজনকে বেশি বিড়ম্বনায় পরতে হয়। পঞ্চবটী মোড় থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত এই সড়কের গড় প্রশস্ততা ৫.৫ মিটার। যা এই রুটের স্বাভাবিক যানচলাচলের জন্য মোটেও উপযুক্ত না। আর সেই কারণে এই সড়কে কয়েকদিন পর পর ঘটে বিভিন্ন ধরণের দুর্ঘটনা।

 

শাসনগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. জহির বলেন,“ সড়ক প্রশস্তের কাজের যে গতি তাতে মনে হয় আরোও পাঁচ বছরেও কাজ শেষ করতে পারবে না। তিনি বলেন, কাজ শুরু হবার দুই বছর পার হলো এখন মাটি পরীক্ষার কাজই শেষ করতে পারলো না সেতু কর্তৃপক্ষ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই সরকারের আমলে মনে হয় আর এই কাজ শেষ হবে না। এই কাজ শেষ করতে মনে হয় এই সরকারকে আরেক বার ভোট দিতে হবে”।

 

সরকারি তোলারাম কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইসমাইল ওয়াহাব বলেন,“ পঞ্চবটী মোড় থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত যানজট কবে যে শেষ হবে আর আমাদের মুক্তি হবে। যানজটে আটকা পরে প্রতিদিন আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, এই সড়কের দ্বায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত সময় এই প্রকল্পের কাজ শেষ করে ”।

 

পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটি দুই লেনে উন্নীতকরণ ও দুই লেন দোতলা রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ জেলার সাথে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ অন্যান্য জেলার সড়ক যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন, সহজতর ও ব্যয় সাশ্রয়ী হবে। মুন্সিগঞ্জ জেলার সাথে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ অন্যান্য অংশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগে বিদ্যমান সড়কটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যার কারণে এই সড়কের গুরুত্ব সব সময় বেশি বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

 

পঞ্চবটী হতে মুক্তারপুর পর্যন্ত সড়কটি খুব সংকীর্ণ, আঁকাবাঁকা। তাছাড়া রাস্তার উভয় পাশে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, ঘর-বাড়ি, দোকানপাট ইত্যাদি থাকায় যানবাহন চলাচলে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে ৫ টি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এবং আলু সংরক্ষনের জন্য বেশ কয়েকটি কোল্ড স্টোরেজ থাকায় ২৪ টন হতে প্রায় ৫০ টন পর্যন্ত ওজনের ভারী যানবাহন চলাচল করায় প্রায়ই দূর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় এবং এর ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

প্রকল্পাধীন এলাকাটি নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্পাঞ্চল-এর অন্তর্ভূক্ত এবং এই এলাকায় কয়েকটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী থাকায় প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক তিনবেলা রাস্তাটি ব্যবহার করে। ফলে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া এ এলাকায় বেশ কয়েকটি রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের জন্যও রাস্তাটি ব্যবহার করা হয়। আর এই কারণে এই সড়কটি বেশিই ব্যস্ত থাকে। এ সড়কে বিদ্যমান গড় বার্ষিক দৈনিক ট্রাফিক ১৭৯১০ টি।

 

ট্রাফিক পূর্বাভাস অনুযায়ী এ যানবাহনের সংখ্যা চলতি বছরে হবার কথা দৈনিক ২৩৯২০ টি। এছাড়া ২০২৫ সালে দৈনিক ২৭০০০ টি, ২০৩৩ সালে দৈনিক ৩৯০০০ টি এবং ২০৪৩ সালে দৈনিক ৬৩৫৮০ টি।

 

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চলমান এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভ্রমণ সময় ৬২.৮৯ শতাংশ হ্রাস পাবে। এছাড়া যানবাহনের গতিসীমা ৪.৪৫ গুণ বৃদ্ধি এবং যানবাহনের বিলম্ব সময় ৭৪.৭৪ শতাংশ হ্রাস পাবে। মুন্সিগঞ্জ সহ নারায়ণগঞ্জের শাসনগাঁও এলাকাবাসীর আবদার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ যেন যথা সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করে।

এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন