অবহেলা অযত্নে সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে সোনাকান্দা দুর্গ
তানজিলা তিন্নি
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৩, ০৫:৩৩ পিএম
মুঘল আমলে নির্মিত একটি ঐতিহ্যবাহী জল দুর্গ নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যের নির্দশন সোনাকান্দা দুর্গ। এটি নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষা নদীর পূর্বতীরে অবস্থিত। ঐতিহাসিক এই স্থান দর্শনে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।
তবে বর্তমানে দর্শনার্থী র্শূন্য হয়ে পরেছে দুর্গোটি। দুর্গোটি অবহেলা অযত্নে দিনে দিনে নিজের সৌন্দর্য হারাচ্ছে। ইতিহাসের ঐতিহ্য বহন করা এই দুর্গোটি আজ বেহাল দশা। ইতিহাস বহন করা এই দুর্গের কেন এমন বেহাল দশা তার জবাব নেই কারোর কাছেই। দেখ ভাল করার নেই কেউই।
দুর্গের দেয়ালের ইট ও সুরকি খসে খসে পড়ে যাচ্ছে যেন আস্তে আস্তে অতলে তলিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের এক অমূল্য নিদর্শন। এই দুর্গোটির আশেপাশের ময়লা আবর্জনা ফেলতে দেখা যায় সেখান কার বাসিন্দাদের।
এলাকাবাসীর কাছে জানা যায় এখানের বাসিন্দারা এই ঐতিহাসিক দুর্গোটিকে নিত্যদিনের নানান কজে ব্যবহার করছেন। তারা আরো বলেন এখানে বসে অবাধে মানুষ নেশাদ্রব্য সেবন করেন এবং প্রতিদিনই বসে জুয়ার আসর। কেউ তেমন কিছু বলেনা ।
ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, মুঘল আমলের নির্মিত একটি ঐতিহ্যবাহী জল দুর্গ এটি। ১৬৫০ সালের দিকে তৎকালীন বাংলার সুবাদার মীর জুমলা কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়।
মুঘলরা বাংলায় একটি প্রগতিশীল শাসন ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাকে বহিঃ শত্রু জলদস্যুদের আক্রমনের হাত থেকে রাজধানী ঢাকাকে রক্ষা করতে তিনটি জল দুর্গ নির্মান করা হয়। তার মধ্যে একটি সোনাকান্দা দুর্গ।
ইতিহাস থেকে দুর্গের অবকাঠামো সর্ম্পকে জানা জায়, দুর্গটিতে রয়েছে ইষ্টক নির্মিত পুরু দেয়াল, একটি বিশাল কামান প্ল্যাটফর্ম এবং উত্তরমুখি একটি প্রবেশ তোরন। দুর্গটিতে মূলত দুটি প্রধান অংশ লক্ষ্য করা যায় এক আত্মরক্ষামূলক প্রাচীর এর বিশাল আয়তন যা ৩.০৫ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন এবং যার মধ্যে গোলা নিক্ষেপের জন্য বহুসংখ্যক প্রশস্ত-অপ্রশস্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র আছে। যা থেকে বন্দুক এবং হালকা কামান ব্যবহার করে জলদস্যুদের দিকে শেল নিক্ষেপ করা যেত। অপরটি হচ্ছে পশ্চিমদিকের উচু মঞ্চ যা দুর্গকে জলদস্যুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করত।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হচ্ছে দুর্গের বিশাল কামান প্ল্যাটফর্ম। গোলাকার কামান প্ল্যাটফর্মের একটি সিড়ি রয়েছে, কামান প্ল্যাটফর্মের উঁচু মঞ্চে শক্তিশালী কামান নদীপথে আক্রমণকারীদের দিকে তাক করা থাকত।এটি মুঘলদের জলদুর্গের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য।
চতুর্ভুজাকৃতির এ দুর্গটির আয়তন ৮৬.৫৬ মি থেকে ৫৭.০ মি। এখানে অষ্টভুজাকৃতির চারটি বুরুজ দুর্গের চার কোণে রয়েছে। দুর্গের একমাত্র প্রবেশ তোরণটি উত্তর দিকে। প্রবেশদ্বারটি একটি আয়তাকার ফ্রেমএর মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক সোনাকান্দা দুর্গে সরেজমিনে গেলে স্থানীয় লোকজন এ দুর্গটি অযত্নে পড়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় দুর্গের ভিতরে গেলে দেখা যায় ৫-৬ টি ছাগল ও গরু মাঠের এক পাশে ঘাস খাচ্ছে আর মাঠের ভিরতে খেলা ধুলায় ব্যাস্ত স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। অন্য পাশে কিছু লোকজন বসে জুয়ার আসর সাজিয়ে বসেছে।
ঐতিহাসিক এই স্থানের এমন বেহাল দশার কথা ২১ নং ওয়াড এর কাউন্সিলর জনাব মোঃ শাহীন মিয়া বলেন, এ বিষয় আমি মেয়র মহদোয়ের সাথে আলোচনা করব।


