Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দেড় ডজন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে কুতুবপুর অপরাধ জগত

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৩, ০৮:৩৮ পিএম

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দেড় ডজন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে কুতুবপুর অপরাধ জগত
Swapno


# কোন এলাকায় কত সন্ত্রাসী বাহিনী আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সঠিক হিসাব নেই

# অনেক নেতাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বাহিনী লালন-পালন করার অভিযোগ রয়েছে

# সন্ত্রাসীরা দলের কেউ নয়, এ কথা বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই: আইনজীবী

 
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লার মধ্যে অন্যতম, গুরুত্বপূর্ণ,জনবহুল ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত কুতুবপুর। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই ঘনবসতিপূর্ণ ইউনিয়নের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী বাহিনী। কোনো দল বা নেতা এসব বাহিনীর দায় নিচ্ছেন না। যদিও বিভিন্ন বাহিনীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও। 

 

 

স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বিভিন্ন সভা সমাবেশে তার বক্তব্যে প্রায় বলে থাকেন, সন্ত্রাসীর কোনো দল নেই। এসব সন্ত্রাসীর দলীয় কোনো পদ–পদবি নেই। দলের কেউ তাদের প্রশ্রয় দেয় কি না, তাও তিনি জানেন না। তবে যেসব বাহিনীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহবানও জানান। তবে বিভিন্ন সময় প্রশাসন ব্যবস্থাও নিয়েছে। তবে কেউ কেউ ছোটখাটো অপরাধ করে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হলেও অনেকেই আবার রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।  

 

 

ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নে কোন এলাকায় কত সন্ত্রাসী বাহিনী আছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। তবে যুগের চিন্তার অনুসন্ধান ও সরকারি একাধিক সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে প্রায় দেড় ডজন বাহিনীর নাম পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, খুনখারাবি ও মামলা-মোকদ্দমার দিক দিয়ে পাগলা ইসলামিয়া বৌ-বাজার এলাকার সন্ত্রাসী মীরু বাহিনী ও মুন্সীবাগ এলাকার খালেক-মালেক বাহিনী সবচেয়ে আলোচিত।

 

 

দুই বাহিনীরই সদস্যরা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এরপর পাগলা এলাকার আলোচিত কিলার আক্তার বাহিনী ও মিঠুন-সানজিন বাহিনী। নয়ামাটি এলাকার জুয়ারি আলাউদ্দিন, দেলপাড়া চিতাশাল এলাকার দাতঁ ভাঙ্গা সেলিম বাহিনী, রসুলপুর এলাকার রবিন, শাহী বাজার আমতলা এলাকার শ্যামল, বৌ-বাজার এলাকার লিমন-ইমরান, তক্কার মাঠ এলাকার শামীম, নয়ামাটি মুসলিমপাড়া এলাকার গেন্দু-খলিল, দেলপাড়া এলাকার ইসরাফিল সহ আরো একাধিক বাহিনী সরকারি দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হিসেবে পরিচিত এই বাহিনীগুলোর দাপটে রয়েছে গোটা কুতুবপুর ইউনিয়নে।  

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, দলীয়ভাবে কখনোই কোনো সন্ত্রাসী বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে উৎসাহ দেওয়া হয়নি। কিন্তু তাঁর দলের কোনো কোনো নেতা বা জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বাহিনী লালন বা প্রশ্রয় দেন বলে অভিযোগ আছে। এ প্রসঙ্গে থানা আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতা বলেন, ‘কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু কিছু বিষয়ে সব সময় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না।’  

 

 

একসময়ের শান্ত জনপদ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন এই অবস্থার জন্য দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতি দায়ী বলে মনে করছেন এলাকাবাসী ও নাগরিক সমাজ। নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের এক আইনজীবী বলেন, সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো রাজনীতিক দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠে। স্বভাবতই ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয়ে বেশি থাকে।

 

 

তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা দলের কেউ নয়, এ কথা বলে রাজনৈতিক দলগুলোর যেমন দায় এড়ানোর সুযোগ নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থারও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। ছোট ছোট বাহিনীকে প্রশাসন চাইলে সহজে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। এসব সন্ত্রাসী যখন বড় বাহিনীতে পরিণত হবে, তখন নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে।  এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন