সোনারগাঁ পৌরসভা নির্বাচনে বাধা কোথায়
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৩, ০৮:০১ পিএম
# নাগরিক সেবায় ভোগান্তিতে এলাকাবাসী, জটিলতা কাটানোর দাবি
সারাদেশে এখন আগামী জাতীয় দ্বাদশ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সারাদেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মাঝে ৫টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে এখন পুরো দেশে ডামাঢোল বাজতেছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ আড়াই হাজার পৌরসভা এবং গোপালদী পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হয়েছে।
সেই অনুপাতে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় নৌকা প্রতীক মনোনীত প্রার্থীরা বিভিন্ন ভাবে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু মাঠে নেমে প্রচারনা চালিয়েছেন। কিন্তু আড়াই হাজার পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল হলেও সোনারগাঁ পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে আশার আলো দেখছে না স্থানীয়রা।
আগামী ১২ জুন আড়াই হাজার পৌরসভা এবং গোপালদী পৌরসভার নির্বাচন ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সোনারগাঁ পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা না হওয়ায় এ নিয়ে মানুষের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। কেননা এখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় অনেক মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাই সোনারগাঁ পৌরসভার নির্বাচনের প্রার্থী থেকে শুরু করে সকলের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে কবে এখানকার পৌরসভার নির্বাচন হবে।এদিকে নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন দলের নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক প্রার্থী। তারই ধারাবাহিকতায় তাদের সমর্থকরা সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কিন্তু নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা নিয়ে এখনো কোন আলোচনা নেই। তবে এলাকবাসী এখানকার নির্বাচনী জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত নির্বাচনের দাবী জানিয়েছেন। সেই সাথে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোগল আমলের ঐতিহ্যের বাহক বাংলার রাজধানী খ্যাত সোনারগাঁ ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন মেয়াদ শেষে দুই ধাপে হলেও সাবেক মেয়র সাদেকুর রহমানের মামলার কারণে মেয়াদ শেষ হয়। পরে সোনারগাঁ পৌরসভা সিমনা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মামলার চললেও তা নিষ্পত্তি হয়ে প্রশাসন নিয়োগ হয়।
বর্তমানে সোনারগাঁ পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজায়ানুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি না থাকায় সব ধরনের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে পৌরবাসী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌরসভার ছোটশীলমান্দি ও মল্লিকপাড়া মৌজার কিছু জমি ইকোনমিক জোনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তন করে মোগরাপাড়া ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করে। পরে তৎকালীন পৌর মেয়র সাদেকুর রহমান বাদী হয়ে এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি মামলা করেন। যা ইতোমধ্যে এই মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবকহীন পৌরবাসী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। স্থবির হয়ে আছে পৌরসভার দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড। পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররা দায়িত্বে না থাকায় সব ধরনের উন্নয়ন কাজ এখন বন্ধ। বিভিন্ন অলি-গলিতে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা।
অপরদিকে, সোনারগাঁ পৌরসভার নির্বাচনকে ঘিরে হাফ ডজন মেয়র প্রার্থী ও অর্ধশত কাউন্সিলর প্রার্থী মাঠে সরব থাকলেও নির্বাচন অনিশ্চিত হওয়ায় সবার মধ্যে এখন বিরাজ করছে হতাশা। নির্বাচনী প্রচার থেকে অনেকে এরই মধ্যে গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেদের।সোনারগাঁ পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের ৫ বছরের মেয়াদ ২০২১ সনের ২৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়।
মেয়াদ শেষের প্রায় ১৫ মাস পর গত বছরের ১৬ মে পৌরসভা পরিষদ বিলুপ্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে পৌরবাসীর প্রয়োজনীয় কাজকর্মের জন্য প্রতিনিয়ত দৌড়াতে হচ্ছে ইউএনওর কার্যালয়ে। প্রশাসক হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে পৌরসভা পরিচালনা করছেন ইউএনও।
পৗরসভার স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম জানান, সোনারগাঁ পৌরসভার অভ্যন্তরেই বিশ্বের মধ্যে সুপরিচিত ঐতিহাসিক পানাম নগরী ও বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনসহ (সোনারগাঁ জাদুঘর) বহু পর্যটন কেন্দ্র থাকায় প্রতিদিন এখানে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল পর্যটকের আগমন ঘটে।
সুতরাং, এখানকার নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিকল্প নেই। আশা করি, সরকার দ্রুত পৌরসভার নির্বাচনের ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
সানারগাঁ পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও ইউএনও মো. রেজাওয়ান উল ইসলাম জানান, সোনারগাঁ পৌরসভার সীমানা সংক্রান্ত মামলা জটিলতা নিষ্পত্তি হলেও এখনো সীমানা নির্ধারনের কাজ চলমান রয়েছে। কাজ শেষ হলে আমরা রিপোর্ট দিবো। নির্বাচনের সিদ্বান্ত নিবেন এখানকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এবিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
এস.এ/জেসি


