আড়াইহাজারে নৌকা ডুবাতে মরিয়া আ.লীগের সম্ভাব্য তিন মেয়র প্রার্থী
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৩, ০৮:৫৯ পিএম
# তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে নির্বাচনী এলাকায়
আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৬ মে। ১২জুন ভোট গ্রহণ করা হবে। এই পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা রয়েছে ২৬ হাজার ৬৫৫জন। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে ও গোপনে অনেকেই ক্রয় করছেন মনোনয়নপত্র। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটারদেও মাঝে প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা কৌতুহল। মেলছে গুঞ্জনের নানা ঢালপালা।
গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মাঠে থাকলেও এবার খোদ ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরাই নৌকা ডুবাতে অনেকটাই মরিয়া। আড়াইহাজার পৌরসভায় তিন হেভিওয়েট প্রার্থী এবার মাঠে রয়েছেন। তারা অনেকটা আদাজল খেয়েই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তবে পৌরসভার নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন।
কিন্ত অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। এতে অনেকেই এবার প্রার্থী হয়েছেন। তারা মাঠে দাপড়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকেই মাঠে বেশ ভালো অবস্থানও তৈরি করছেন। এতে অনেক দিন পরে হলেও ভোটের মাঠ বেশ সরগম হয়ে উঠেছে। এমনও প্রচারণা রয়েছে এবার পৌরসভা নির্বাচনে ভোটাররা তাদের ভোট দিতে পারেন। খোদ প্রার্থীরাই এমন প্রচারণা চালিয়ে তাদের কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের উৎসাহিত করছেন। এতে বেশ চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে নির্বাচনী এলাকায়।
কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে নানাভাবে চেষ্টা করাসহ এলাকায় দফায় দফায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন রয়েছে। এক প্রার্থীর লোকজন অন্য প্রার্থীর লোকজনকে নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এতে উৎসবের পাশপাশি ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে আতঙ্ক।
বর্তমান মেয়র ও নৌকার প্রার্থী সুন্দর আলী বলেন, আমি পৌরসভা এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করেছি। আশা করছি বিপুল ভোটের ব্যবধানে ফের নৌকার জয় হবে। বিগত ৫ বছরের প্রায় ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন করা হয়েছে। যার সুফল পৌরসভাবাসী ভোগ করছেন। তার দাবী দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাররা তার সঙ্গে রয়েছেন।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান বলেন, আমি মেয়র থাকাকালিন সময়ে পৌরসভাবাসীর কাছ থেকে যৎসামান্য কর আদায় করেছি। কিন্তু বর্তমান মেয়র পৌরসভাবাসীর কাছ থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় কর আদায় করছেন। এতে অনেকের পক্ষে এই কর প্রদান করা সম্ভব হচ্ছেন। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে করের পরিমাণ কমিয়ে আনব। পৌরসভাবাসীকে আগের মতই সেবা প্রদান করব।
তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষ মানুষ আমার কাছে আসেন। সবাইকে সেবা প্রদান করেছি। সাধারণ মানুষ আমাকে অনেক বেশী পছন্দ করেন। তার দাবী এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর অনুমতি নিয়েই তিনি মেয়র পদে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দল থেকেও এবার মেয়র পদে একাধিক প্রার্থী লড়াইয়ে কোন বাধা নেই বলেও তিনি দাবী করেন। তিনি আরও বলেন, আমি নিজেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মামুন অর রশিদ বলেন, আমি ২৯টি বছর এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে রাজনীতি করছি। জীবনের প্রায় অধিকাংশ সময় আমি রাজনীতির পেছনেই ব্যয় করেছি। তবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সুবাদে আমি এলাকায় কোন প্রভাব দেখায়নি। কারোর সঙ্গে কোন প্রকার খারাপ আচার-আচরণ করেনি। সব সময়ই মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে চলাফেরা করার চেষ্টা করেছি।
আমাকে সবাই ভালোবাসেন। আশা করছি ১২ জুন আমার বিজয় হবে। ভোটাররা আমার প্রতীকে ভোট দেবেন। মানুষ এবার পরিবর্তন চাচ্ছে। এদিকে আড়াইহাজার পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আলী মোল্লা বলেন, বারবার আমি দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাইনি। তবে এবার স্বতন্ত্র প্রতীকে ভোটে লড়াইয়ের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। আমার জীবন গেলেও আমি নির্বাচন থেকে সরবনা।
এদিকে আড়াইহাজার পৌরসভার সাধারণ ভোটাররা বলেন, ফেয়ার নির্বাচন হলে ফলাফল পাল্টে যেতে পারে। শেষ লড়াইটা হতে পারে সুন্দর আলীর সঙ্গে সাবেক মেয়র হাবিবুরের। তবে ভোটের মাঠে এবার বেশ উত্তাপ রয়েছে। উৎসবের পাশাপাশি কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে। অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় থাকে কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
এদিকে উপজেলা নির্বাচন কমিশনার সুলতানা এলিন বলেন, ভোটের মাঠ ফ্রি এবং ফেয়ার করার জন্য যা যা দরকার আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচনের আগে ও পরে সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশ তৈরিতে আমার কাজ করে যাচ্ছি। প্রসঙ্গত. ৭ মে স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলাম বাবু নৌকার প্রার্থী সুন্দর আলীর সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।
এস.এ/জেসি


