সোনারগাঁয়ে শতবর্ষী হাটের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৩, ১২:১০ পিএম
সোনারগাঁ উপজেলার শতবর্ষী ঐতিহাসিক আনন্দবাজার হাটের ১৪ শতাংশ সরকারি খাস জায়গা অবৈধ ভাবে দখল ও বালু ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে নজরুল ইসলাম নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নজরুল ইসলাম রাজধানীর তেজগাঁও রহমতে আলম মাদ্রাসা ও এতিমখানার অধ্যক্ষ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ইসলামী শাসনতন্ত্রের সভাপতি সানাউল্লাহ নূরীর মেয়ের জামাতা।
নজরুল ইসলামের অবৈধ দখলকৃত জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দশ কোটি টাকা। ভবন নির্মাণ পরিচালনার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন নজরুল ইসলামের শেলক ও সানাউল্লাহ নূরীর ছেলে আবুবকর। স্থানীয় আনন্দবাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নজরুল ইসলাম নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি আনন্দবাজার হাটের সরকারি খাস পুকুরের ১৪ শতাংশ জায়গা অবৈধ ভাবে দখল ও বালু ভরাট করে বহুতল এই ভবন নির্মাণ করছেন। যার প্রতি তলায় আটটি করে দোকান তৈরি করে বিক্রি করে সংশ্লিষ্ট অবৈধ দখলদারেরা প্রায় দশ কোটি টাকা আয় করবেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আনন্দবাজার হাটের মধ্যবর্তী স্থানে বিশাল আকারের সরকারি পরিত্যক্ত পুকুরের দক্ষিণ পাশ দিয়ে ১৪ শতাংশ জায়গা অবৈধভাবে দখল ও বালু ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ করছেন শ্রমিকরা। এসময় স্থানীয় কয়েকজন গনমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতি দেখে নির্মাণ কাজ ফেলে রেখে পালিয়ে যান শ্রমিকরা।
গনমাধ্যমকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ শেষে চলে যাওয়ার পর নির্মাণ শ্রমিকরা পুনরায় কাজ শুরু করেন। দখলদারীর বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি কারো ফোন রিসিভ করেননি। আনন্দবাজার হাটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা হাটের জায়গা দখল করে ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আতাত করে অবৈধভাবে নির্মাণকাজ আরও দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩-এর আওতায় হাট ও বাজারের সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখলে রাখা অথবা যথাযথ অনুমতি ছাড়া ওই খাস জমির ওপর কোনও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা দন্ডনীয় অপরাধ।
এই আইন লঙ্ঘনকারীর ব্যক্তির এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনাধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে শাস্তির বিধান রয়েছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে 'হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা), ২০২৩' বিলটি উপস্থাপন করা হয়। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এই আইনের গেজেট ও প্রকাশ হয়।
অথচ গেজেট প্রকাশিত এই আইন বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের কোন বালাই নেই অবৈধভাবে দখলদারদের বিরুদ্ধে। উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নে মেঘনা নদীর তীরে আনন্দবাজারের সরকারি খাস জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেননি তারা। স্থায়ী এই হাটে প্রতিদিনের বাজার বসা ছাড়াও প্রতি বুধ ও শনিবার সাপ্তাহিক হাট বসে।
এই হাটে সোনারগাঁ উপজেলার পার্শ্ববর্তী বন্দর, আড়াইহাজার, কুমিল্লা জেলার মেঘনা, তিতাস, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সমাগম ঘটে। হাটে প্রায় তিন শতাধিক পাকা-সেমিপাকা ও টিনসেট দোকান রয়েছে। ইতিপূর্বে বিভিন্ন অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে হাটের সরকারি জায়গা দখল করে সেখানে পাকা-সেমিপাকা ঘর তৈরি করে অন্যত্র বিক্রয় ও মাসিক চুক্তিতে ভাড়া দিয়েছে।
বহুতল ভবন নির্মাণে জড়িত আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এ জমি নিয়ে আদালতে সরকারবাদী মামলা হয়েছিল। পরবর্তীতে মামলার রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। সেই পরিপেক্ষিতেই আমরা ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি এই স¤পত্তিকে সরকারি সম্পত্তি বলে অপ-প্রচার করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ান উল ইসলাম জানান, আনন্দবাজার হাটে সরকারী সম্পত্তি দখল করে ভবন নির্মাণের বিষয়টি জানতে পেরে সম্প্রতি কাজটি বন্ধ করা হয়েছিল। পুনরায় যদি নির্মাণ কাজ শুরু করে তাহলে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এন.হুসেইন রনী /জেসি


