Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

সিদ্ধিরগঞ্জের চুনা কারখানায় চাচা-ভাতিজার চাঁদাবাজি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৩, ০৪:০৩ পিএম

সিদ্ধিরগঞ্জের চুনা কারখানায় চাচা-ভাতিজার চাঁদাবাজি
Swapno



সিদ্ধিরগঞ্জে আবার হুমকির মুখে পড়েছে চুনা শিল্প। চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে একাধিক খুন খারাপি সংঘঠিত হওয়ায় ভেঙে দেওয়া মালিক সমিতি ফের জোড়া লাগিয়ে মাসে ২৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মিশনে নেমেছেন চাচা-ভাতিজা দুই কাউন্সিলর। তাদের মিশন থামাতে মামলা ও প্রশাসনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন চাঁন মিয়া নামে একজন কারখানা মালিক। এতে পরিস্থিতি বিপদজনক হওয়ার আশঙ্কা করছেন কারখানা মালিকরা।

 


অভিযোগ উঠেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটির এক নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম ও তার ভাতিজা সাবেক কাউন্সিলর ওমর ফারুক চুনা শিল্পের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রনে নিতে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। আনোয়ার ইসলাম সভাপতি ও ওমর ফারুক সাধারণ সম্পাদক হয়ে ভেঙে দেওয়া বাংলাদেশ চুন প্রস্তুত কারক মালিক সমিতি পুনঃর্জীবীত করে থানা পুলিশ, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ম্যানেজ করার কথা বলে জোর করে প্রত্যেক কারখানা মালিকের কাছ থেকে মাসে দুই লাখ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন।

 

 

থানা এলাকায় পনেরোটি কারখানার মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকের কারখানা বাদে অন্য তেরোটি থেকে দুই লাখ করে মাসে ২৬ লাখ টাকা চাঁবাজির টার্গেট তাদের। তবে রনি লাইমস্ মালিক চাঁন মিয়া চাঁদা না দেওয়ায় আদায় হচ্ছে ২৪ লাখ টাকা। চাঁদা না দেওয়ায় চাচা-ভাতিজা মিলে চাঁন মিয়ার কারখানায় হামলা চালায়।

 

 

ফলে ওমর ফারুককে প্রধান করে পনেরো মার্চ আদালতে মামলা ও দুই এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন চাঁন মিয়া। একই কারণে তিনি কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলামের বিরুদ্ধেও জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র স্বরাষ্ট্র সচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। তবু চাঁদার দাবিতে চাপ অব্যাহত রেখেছেন বলে চাঁন মিয়ার অভিযোগ।

 


মামলা ও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এককালিন বিশ লাখ ও মাসে তিন লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন আনোয়ার ইসলাম ও ওমর ফারুক। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ফারুক তার বাহিনী নিয়ে তিন মার্চ রাতে কারখানায় হামলা চালিয়ে মারধর ও মালামাল লুট করে।

 

 

অপরদিকে একই সময়ে কাউন্সিলর আনোয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, কারখানা চালাতে হলে মাসে তিন লাখ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। সবাই দেয় দুই লাখ আমি তিন লাখ দিব কেন জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমি কাউন্সিলর, সরকার আমাকে ম্যাজিস্ট্রেটি পাওয়ার দিয়েছে। আমি আমার ওয়ার্ডের বিচারক। আমি যা বলব তাই মানতে হবে।  

 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কারখানা মালিক জানান, ১৯৯৬ সালে দেশের সকল চুনা কারখানা মালিকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ চুন প্রস্তুত কারক মালিক সমিতি। তবে নেতৃত্বে ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের প্রভাবশালী কয়েকজন কারখানা মালিক (বর্তমানে তারা মৃত)। শুরুতে চাঁদার পরিমান কম হলেও দিন দিন তা ভাড়তে থাকে।

 

 

ফলে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর কারখানা মালিক সুন্দর আলী ও ২০০৯ সালের ১৩ আগস্ট আবু তালেব দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হয়। আরো দুটি কারখানা মালিককে গুলি করলেও তারা প্রাণে বেঁচে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ও  চাঁদাবাজি বন্ধ করতে সমস্ত কারখানা মালিকরা বৈঠকে বসে সমিতি ভেঙে দেয়া হয়।

 

 

ওই সমিতিটি এখন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকা ভিত্তিক করে চাঁদাবাজি শুরু করেছেন আনোয়ার ইসলাম ও ওমর ফারুক। জানতে চাইলে চাঁন মিয়া বলেন, চাঁদার দাবিতে আমার কারখানায় হামলা করায় ওমর ফারুককে প্রধান করে ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। আর কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলামের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

 


কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম সমিতি গঠন ও নিজে সভাপতি স্বীকার করলেও চাঁদাবাজির অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন। চাঁন মিয়ার কাছে চাঁদা দাবি ও অভিযোগ প্রসঙ্গটি তিনি এড়িয়ে যান।
           

 


ওমর ফারুক বলেন, আমি চাঁদাবাজিতে নেই। বর্তমান কাউন্সিলর এসব করছেন। প্রতিবেশি বাড়ীর মালিকরা চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। আমার ইন্দনে এসব অভিযোগ হয়েছে সন্দেহ করে চাঁনমিয়া আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন।

 


সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এন.হুসেইন রনী /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন