Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

কথায় আছে, কাজে নেই ফতুল্লা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম

Icon

ফতুল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৩, ০১:২১ পিএম

কথায় আছে, কাজে নেই ফতুল্লা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম
Swapno


"পুলিশই জনতা ও জনতাই পুলিশ" এ মূলমন্ত্রের ভিত্তিতেই কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ এবং জনগণ এই দেশের মালিক। সুতরাং জনগণকে সাথে নিয়ে অপরাধ নির্মূলে ভূমিকা রাখা জরুরী। কমিউনিটি পুলিশিং হচ্ছে অপরাধ সমস্যা সমাধানে পুলিশ ও জনগণের যৌথ অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার একটি নতুন পুলিশিং দর্শন।

 

 

আমাদের দেশে পুলিশী কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং ধারণা গ্রহণ করা হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থায় কমিউনিটির সদস্যগণ, সমাজের বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পুলিশের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।কমিউনিটি পুলিশিং মূলত একটি প্রতিরোধমূলক পুলিশি ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় অপরাধের কারণগুলো অনুসন্ধান করে সেগুলো দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় ।

 


অপরাধের কারণগুলো দূর করা যেহেতু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয় তাই এই কাজে অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়। কমিউনিটি পুলিশিং এর যাবতীয় কর্মকাণ্ড অপরাধ প্রতিরোধ তথা অপরাধ যাতে ঘটতে না পারে সেই লক্ষ্যে পরিচালিত হয় কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পুলিশ জনগণকে নিজ নিজ এলাকার অপরাধগুলো প্রতিরোধ করতে পারে তার জন্য আইনী পরামর্শ দেওয়া।

 

 

অপরাধ সম্পর্কে সচেতন করা, অপরাধকর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য বা পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করে।ফৌজদারী কার্যবিধি ৪২/৪৩ ধারার ভিত্তিতেই এ কার্যক্রম পরিচালিত করার কথা থাকলেও ফতুল্লা মডেল থানা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম কমিটির চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

 


নামে মাত্র কমিটি থাকলেও নেই কোনো ধরনের কার্যক্রম। এক বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও তেমন কোনো সুফল পাচ্ছে না জনসাধারণ। অনেকেই আবার বলছেন, কথায় আছে, কাজে নেই, ফতুল্লা থানা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম। পাদ পদবীর পরিচয় গায়ে লাগিয়ে যে যার মতো নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত।

 


নাম প্রকাশ্যে অনইচ্ছুক এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফতুল্লা থানা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের কমিটি গঠনের পর থেকে এই পর্যন্ত তাদের কোনো কর্যক্রম চোখে পারেনি। অনেকের পরিবারের সদস্যরাই আবার ভয়ানক মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। কুতুবপুর ইউনিয়ন ৪,৫,৬নং ওয়ার্ডে মহিলা মেম্বার অনামিকা হক প্রিয়াঙ্কার ভাই মাদকসহ গ্রেপ্তারও হয়েছেন। এই নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও জানান।

 


কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্যদের পরিবার মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধের জড়িয়ে সংগঠনের বদনাম ও সাধারণ জণগণের কাছে আস্থা হারাতে বসেছে বলে দাবি সচেতন মহলের।

 


শুধু তা-ই নয়, তাদের কার্যক্রম একেবারে নেই বললেই চলে। সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যেখানে সক্রিয় ভুমিকা রাখার কথা সেখানে নিজেদের পরিবারের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নেই তাদের কার্যকরী উদ্যোগ। তাহলে কিভাবে সমাজের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভুমিকা রাখবেন তারা, এমনটায় প্রশ্ন এখন জনমনে।

 


উল্লেখ্য,গত বছরের মার্চে ফতুল্লা থানা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন ততকালীন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম। এ কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রধান উপদেষ্টা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-ক সার্কেল এবং প্রধান সমন্বয়ক ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ।

 

 

এছাড়া ৫জন ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৮জনকে উপদেষ্টা পরিষদে রেখে ২৪ সদস্য কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল, সহ-সভাপতি মীর সোহেল আলী,মাহাবুবর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (১) এমডি তাজুল ইসলাম রাজিব,(২) তামান্না ইসলাম, অফিস সম্পাদক সাংবাদিক আলামিন প্রধান।

 

 

নারী বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম বেগম, প্রচার সম্পাদক ফরিদ আহমেদ বাধন এবং সদস্য করা হয়েছে শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, মাওলানা আঃ শুকুর আলী মোল্লা, মাওলানা মোঃ ইকবাল হোসাইন, রনজিৎ মোদক, নূর ইসলাম নুরু, আব্দুর রহিম, আনিসুজ্জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ মাসুম, হাজী জাহিদুল ইসলাম জনি, আবু শরিফুল হক, রাসেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সিদ্দিকুর রহমান, মাহমুদা বেগম পুতুল ও অনামিকা হক।  এন.হুসেইন রনী /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন