কদম আলী স্কুলের পাশে হীরার বাঁশের সাঁকো থেকে বাড়তি টোল আদায়
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৩, ০৭:৫১ পিএম
# আপনাদেরকে বলতে আমি বাধ্য নই : আলাউদ্দিন হীরা
# আমি তাকে ডেকে বলেছিলাম : চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ বাদল
কাশীপুর কদমআলী স্কুলের পাশে বাঁশের সাঁকো থেকে বাড়তি টোল আদায় করছে ইজারাদার আলাউদ্দিন হীরা বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে ঐ এলাকার সাঁকো পারাপার করা সাধারণ জনগনকে। পর পর দুবার ব্রিজ করে দেওয়ার কথা থাকলেও গত ২ বছরেও কাজ করতে লক্ষ্য করা যায়নি কর্তৃপক্ষকে।
এ কারনে ব্রিজ না হওয়ার সুযোগে ইজারাদাররা বেশি টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে পথচারীদের সাথে আলাউদ্দিন হীরার লোকেরা বাজে ব্যবহার করে বলেও জানায় এলাকাবাসীরা। এছাড়াও টোল নেওয়ার সময় পথচারীদের সাথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন টোল আদায়কারীরা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার যুগের চিন্তাকে বলেন, দিনের বেলা মানুষের কাছ থেকে ৩ টাকা করে নেয় আর রাত ৮টার পর থেকে ৫ টাকা করে নেয়। কিন্তু একটু বেশি রাত হলে তারাই লোকদের থেকে ঠেকাইয়া ১০ টাকা করে আদায় করে। কেউ না দিতে চাইলে বলে টাকা দিতে পারলে আসবা না হলে আসবা না অন্যদিক দিয়ে যাবা এটাকে একপ্রকার জুলুম বলা যায়। এটাই তো মানুষের ঠেকা, তখন তো মানুষ এক প্রকার বাধ্য হয়েই ১০ টাকা করে দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভদ্রমহিলা বলেন, রাত হলে তারা মানুষকে বাধ্য করে ১০ টাকা করে দেওয়ার জন্য। আমার বাচ্চা মাদ্রাসাতে সাইকেল দিয়ে যাতায়াত করে তারা কত বড় টাকা খোর হলে সাইকেলের জন্যও ৫ টাকা করে রাখে। এছাড়া ভারি কোনো মালামাল নিয়ে গেলেও তার লোকেরা টাকা দিতে বলে। মনে হয় টাকা গাছের পাতা গাছ থেকে ছিড়বো আর তাদের দিবো। অন্যদিকে তাদের ব্যবহার এতো খারাপ না বলার মতো। আচাষাদের মতো আচরণ করে তার লোকেরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর ব্যক্তি বলেন, কিছুদিন আগে আমার এক পরিচিত মানুষ মারা গেছে তো আমি তাড়াতাড়ি করে যাওয়াতে টাকা নিতে ভুলে যাই তখন আমি তাদের বলি বাবা আমি সাঁকোর ওপারে থাকি আমি এসে টাকাটা দিচ্ছি কিন্তু তার লোকদের এমন ব্যবহার মানুষ এতো বড় নিষ্ঠুর আমাকে বলে যেখানে খুশি সেখানে যান আগে টাকা দিবেন তারপর যাবেন। টাকা না নিয়ে আসছেন কেন।
এছাড়া কিছুদিন আগে কয়েকজন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা এসেছিলো এখানে ঘুরার জন্য। তখন একটু রাত হয়ে যায় সাঁকো পাড় হতে তখন ঐ ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে তারা ১০ টাকা করে চায়, তখন ছেলেমেয়ে গুলো প্রতিবাদ করায় হীরার লোকেদের সাথে তাদের অনেক জামেলা হয়। এমনি বিষয়টা প্রায় মারামারি পর্যায়েও চলে যায়।
এ বিষয়ে সাঁকোর ইজারাদার আলাউদ্দিন হীরা যুগের চিন্তাকে বলেন, এ ব্যাপারে আপনাদের কে বলতে আমি বাধ্য নই। নারায়ণগঞ্জ কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ বাদল যুগের চিন্তাকে বলেন, এ বিষয়টা সম্পর্কে আমি শুনেছি কিছুদিন আগে আমি তাকে ডেকে বলেছিলাম। এখন আবার বলবো।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার রিফাত ফেরদৌস এর মুঠোফোনে অধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোনকলটি রিসিভ করেননি।এস.এ/জেসি


