কুতুবপুরে বন্ধুর প্রেমিকা নিয়ে দ্বন্দ্বে সোহান খুন, গ্রেপ্তার-৫
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৩, ০৬:৪১ পিএম
# রিকশার গ্যারেজের মালিকের মেয়ের সাথে সোহানের বন্ধু নাভিলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল
ফতুল্লার কুতুবপুরে বন্ধুর প্রেমিকা নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন হন নানা অপকর্মের মূল হোতা সোহান ওরফে পিস্তল সোহান। ফতুল্লার মীর হোসেন মীরু বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল এই সোহান। কখনো প্রকাশ্যে পিস্তল ফুটিয়ে, কখনো মাদকের চালানসহ গ্রেপ্তার হয়েও আলোচনায় এসেছেন তিনি। সেই সোহানকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা। হত্যাকান্ডের ঘটনায় পাচঁ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ৮ ঘটিকার সময় পাগলা দক্ষিণ রসুলপুর এলাকার জয়নাল মিয়ার রিকশার গ্যারেজে এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রিকশার গ্যারেজের মালিক জয়নাল মিয়ার মেয়ের সাথে খুন হওয়া সোহানের বন্ধু নাভিলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বেশ কয়েকদিন আগে মেয়েটির বিয়েও হয়ে যায়। হঠাৎ মঙ্গলবার মেয়েটি তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসলে পথিমধ্যে বাধা প্রদান করে নাভিল। পরে মেয়েটি নাভিলকে জুতাপিটা করে। এই নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।
পরবর্তীতে নাভিল ক্ষিপ্ত হয়ে তার বন্ধু সোহান ও তার কিশোর গ্যাং বাহিনী নিয়ে জয়নাল মিয়ার রিকশার গ্যারেজে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে এবং তাদেরকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। খবর পেয়ে জয়নাল মিয়ার ছেলে ওয়াসিম ছুরি হাতে নিয়ে তাদের ধাওয়া করেন এবং চার জনকে ছুরিকাঘাত করে আহত করেন। আহতদের মধ্যে হাসান, ইমন, আল-আমীন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা থাকলেও চিকিৎসক সোহানকে মৃত ঘোষণা করে। পাগলা ইসলামিয়া বৌ-বাজার এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে সোহান।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকা-ে জড়িত রিকশার গ্যারেজ মালিক জয়নাল (৫০), ও তার ছেলে ওয়াসিম (৩০) কে আটক করে। পরবর্তীতে জয়নালের স্ত্রী ও মেয়ে স্বর্ণা (২৩) ও সোর্স শান্তকে গ্রেপ্তার করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সোহান হত্যাকান্ডের ঘটনায় মোট পাচঁ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, সোহান দীর্ঘদিন যাবত পাগলা ইসলামিয়া বৌ-বাজার এলাকায় মাদক ক্রয় বিক্রয় এবং সেবনে সক্রিয় ছিল। ফতুল্লা থানার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরু বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল বলেও জানা যায়। খুন হওয়া সোহান ২০১৯ সালে পিস্তলের গুলি ছুড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরালের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। সেই থেকে তার নাম হয় পিস্তল সোহান। সে থানা পুলিশের হাতে মাদকসহ গ্রেপ্তারও হয়েছেন বলে জানা যায়।
পরিবারের স্বজনদের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরধরে সোহানকে রিকশার গ্যারেজে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) শাহাদাত হোসেন জানান, সোহান হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং জড়িত পাচঁ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এই হত্যাকা-ের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


