কুতুবপুরে কিশোর অপরাধ: আসামি ছাড়াতে ব্যর্থ বিতর্কিত আলাউদ্দিন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৩, ০৮:৫৫ পিএম
# অপরাধীদের পক্ষে থানায় রাতভর দেনদরবার করেও ব্যর্থ আওয়ামী লীগ নেতা
# দুইজন আসামি আটকের পর থেকেই ছাড়িয়ে নিতে তিন ঘন্টা দৌড়ঝাঁপ: পুলিশ
ফতুল্লার কুতুবপুরে বিভিন্ন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় স্থল এখন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। মিছিল মিটিংয়ে যোগ দিলেই অপরাধ ডেকে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠে সেইসব নেতা নামধারী অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। তেমনি চিত্র দেখা গেছে কুতুবপুরের বিতর্কিত এক আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন হাওলাদারে মাঝে।
শুধু তা-ই নয়, অপরাধীদের পক্ষে থানায় এসে রাতভর দেনদরবার করে ছাড়িয়ে নিতে ব্যার্থও হয়েছেন আলাউদ্দিন। আর এইসব নেতাদের কারণেই কুতুবপুরে দিন-দিন বেড়েই চলেছে কিশোর অপরাধ এমনটাই দাবি সচেতন মহলের।
কুতুবপুরের বিভিন্ন এলাকায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় অর্ধশতজন ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় থানা ও কোর্টে একাধিক মামলা হলেও আসামিরা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনেকে আবার প্রশাসনের ঢিলেঢালা তৎপরতাকে কাজে লাগিয়ে আদালত থেকে জামিনেও রয়েছেন। আর এইসবের মূলে রয়েছেন আলাউদ্দিনের মতো কিছু রাজনৈতিক নেতা।
গত শনিবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় পাগলা নয়ামাটি এলাকায় আলাউদ্দিনের অফিসে দুই গ্রুপের মামলার আপোষ মিমাংসা করতে ডেকে নিয়ে গিয়ে দুই যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় আলাউদ্দিনের লালিত-পালিত সন্ত্রাসী চোরা নাঈম গংরা। পরবর্তীতে তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল খানপুরে চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগী ইমনের বাবা আহসান হাবিব বাদি হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) শাহাদাত হোসেন অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি জিহাদ (২৬) ও সুলতান (২১)কে আটক করে। আটককৃত দুইজনকে ছাড়িয়ে নিতে শুরু হয় আলাউদ্দিন হাওলাদারের দৌড়ঝাপ। রাতভর থানায় থেকে দেনদরবার করেও দুই আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে ব্যার্থ হয়ে ফিরে যান তিনি।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের অন্যতম জনবহুল ইউনিয়ন কুতুবপুর। সেই শান্ত ইউনিয়নকে অশান্ত করে তুলেছেন কতিপয় অসাধু ব্যক্তিরা। তাদের ছত্রছায়ায় বেড়েই চলেছে কিশোর অপরাধ। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য দিচ্ছেন অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়। তাই প্রতিনিয়ত সমাজে সুসংগঠিত হচ্ছে নানা ধরনের অপরাধ। এর পিছনে দায়ী এই আলাউদ্দিনের মতো কিছু অসাধু ব্যক্তিরা।
যারা সরাসরি অপরাধীদের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে তারাই সমাজের বড় অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। নয়ামাটি এলাকার নাম প্রকাশ্যে অনইচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, আলাউদ্দিন হাওলাদার তার অপরাধের স্বর্গরাজ্য টিকিয়ে রাখতে গড়ে তুলেছেন বিশাল অপরাধ চক্র। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, মাদক, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, ইভটিজিং, ব্ল্যাকমেইলিংয়ের একাধিক অভিযোগ, রয়েছে বিভিন্ন মামলাও।
তবুও সেইসব ভয়ংকর অপরাধে জড়িতদের পক্ষ নিয়ে থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনতে কাজ করা ব্যক্তিরাই বড় অপরাধী। যারা আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকে বিনষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এসপি মহোদয়ে হস্তক্ষেপ কমনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক এস আই শাহাদাত জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছি। আলাউদ্দিন হাওলাদার আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে আসার কথা শিকার করে তিনি আরো জানান, আলাউদ্দিন হাওলাদার আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে থানা তিন ঘন্টা অপেক্ষা করার পর চলে যান। এ বিষয়ে আলাউদ্দিন হাওলাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এন. হুসেইন রনী /জেসি


