সামসু-কায়সারের দেয়া কমিটিতে ক্ষুদ্ধ হয়ে মুখ খুললেন কালাম-মোশারফ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৩, ০৩:২২ পিএম
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের বিতর্কিত প্রস্তাবিত কমিটির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ খুলেছেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম এবং কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন।
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ স্থানীয় এই দুই নেতা বক্তব্যের মাধ্যমে অভিযোগে উঠে এসেছে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে রাজনীতিতে অপরিপক্ক পারিবারিক লোকজন, হত্যা মামলার আসামি মাদকসেবী, মাদকবিক্রেতাদের প্রস্তাবিত পদায়নের বিষয়টি।
এছাড়া সোনারগাঁয়ের শীর্ষ স্থানীয় এই দুই নেতা প্রস্তাবিত কমিটির অভিযোগ শেষে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবেও ঘোষনা দেন। তবে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ভাষ্য অনুযায়ী জানা যায়, হত্যা মামলার আসামি মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতার কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি যারা এমন অভিযোগ করছেন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
কিন্তু বিতর্কিত প্রস্তাবিত কমিটির বিরুদ্ধে মন্তব্য করা সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের শীর্ষ স্থানীয় এই নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা যায়, প্রস্তাবিত কমিটির বিরুদ্ধে যে সেকল অভিযোগ এসেছে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন হত তাহলে প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে একের পর এক সোনারগাঁয়ের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করে বিস্ফোরক মন্তব্য করত না এবং সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে চোখ থাকতেও তারা এখন অন্ধ ।
(৩০ জুন) বিকেলে ঈদুল আযহা পরবর্তী পূর্ণমিলনীতে ও মতবিনিময় সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ঘোষণা দেন।
এছাড়া সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির বিরুদ্ধে সমালোচনা করে মাহফুজুর রহমান কালাম বলেন, কিছুদিন আগে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। সেখানে যারা কখনোই ছাত্রলীগ, যুবলীগ করে নাই, আওয়ামী লীগও করে নাই এমনকি খুনের মামলার আসামী, মাদকের সাথে জড়িত, তাদেরকে প্রস্তাবিত থানা কমিটিতে রাখা হয়েছে। প্রকৃত ত্যাগী কর্মিদের না রেখে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এটি একটি পকেট কমিটি তৈরী করেছে তারা।
গঠনতন্ত্রের কোন ধারায় প্রস্তাবিত কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দিলেন তাও তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে বোধগম্য নয়। এখান থেকে যদি একটি লোককে জেলা বাদ দেয় তখন তারা মুখ লুকাবেন কোথায়! তবে মাহফুজুর রহমান কালামের বক্তব্য নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সামসুল ইসলাম ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক কায়সার হাসনাত।
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সামসুল ইসলাম ভূইয়া কালামের অভিযোগের ভিন্নমত প্রকাশ করে বলেন, আমরা যাচাই-বাছাই করে সদস্য দিয়েছি। কোনো মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতাকে দেওয়া হইনি। কালামের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কালামের অভিযোগের বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার ভিন্নমত প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ইউনিয়নগুলোর সম্মেলনকরে প্রস্তাবিক কমিটি করেছি। সেখানে তিনিও উপস্থিত ছিলেন।
তাহলে সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যাচার করার কারণ কি। প্রস্তাবিত কমিটিতে যাদের নাম এসেছে তাদের উনিও চেনেন। তাহলে উনি বলুক কে কে মাদকব্যবসায়ী, কারা মাঠের রাজনীতিতে ছিলনা। এসব মিথ্যাচার তিনি অকারণে করছেন। আর আমরা সাংবাদিকদের নানা নিউজের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করে প্রস্তাবিত কমিটিতে কারা আছেন সেই নামগুলো দিয়েছি। গঠনতন্ত্রেও কোথায় আছে যে প্রস্তাবিত কমিটির ব্যক্তিদের পরিচয় করে দেওয়া যাবেনা।
এসব ভিত্তিহীন কথা উনি কেন বলছেন তার উত্তর উনিই ভালো দিতে পারবেন। কারা মাদকসেবী, মাদকবিক্রেতা, হত্যা মামলার আসামি তিনি সেই নামগুলো পরিষ্কার করেন।’ সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক কায়সার হাসনাতের ভিন্নমত প্রকাশ নিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম যুগের চিন্তাকে বলেন, যারা চোখ থাকতেও অন্ধ, তাদেরকে সারাজীবন আলো দিলেও দেখবে না। তারা রাজনীতিতে চোখ থাকতেও অন্ধ।
অপরদিকে ২৩ জুন বিকালে কাঁচপুরে আয়োজিত এক সভায় নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিকে অবিলম্বে বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের কমিটি করা হয়েছে এটা অত্যন্ত দু:খজনক। অনেকের নাম শুনি না তারা আজকে কমিটিতে এসেছে। অনেক দুষ্কৃতকারী, অনেক ইয়াবা সেবনকারী বিক্রিকারী ও মাদক বিত্রেতাদের কমিটিতে দেখা যায়। আজকে বাদ পড়ে গেছে অনেক বড় ত্যাগী ত্যাগী নেতারা। আপনাদের অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
আপনাদের পরিবারে ৪৩-৪৪ জন সদস্য রাখা সত্ত্বেও আপনারা মনোনয়ন পান নাই। আপনি যদি মনে করেন ৭২ সদস্য আপনার ঘরে নিবেন এটা আপনার মনোনয়ন নিশ্চিত করবে না। আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মাঠ জরিপে যাকে পাবে তাকেই মনোনয়ন দিবে। আপনি ১৭২ কেনো ৫০০ জন মিলে কমিটি করেন এতে কিন্তু আপনার শেষটা শেষ হবে না। কারণ জনগনের জরিপে আগামী মনোনয়ন দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আজকে শুধু শুধু ভালো ভালো কর্মীরা থানা থেকে বাদ পড়ে নাই। ইউনিয়ন ওয়ার্ড কমিটি থেকে অনেককে বাদ দেয়া হচ্ছে। যারা বলবে হুজুর আপনার সাথে আছি তাকে নিবে, যারা বলবে গনতন্ত্রে বিশ্বাস করি তাদেরকে কমিটিতে নেয়া হয় না। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের ঘাটি হওয়া স্বত্তেও আমরা বারবার পিছিয়ে গিয়েছি। আমাদের প্রার্থী পাশ করতে পারে নাই শুধু আপনাদের কর্মকান্ডের কারণে। এখন থেমে যান ভালো ভালো মানুষকে মূল্যায়ন করেন।
আপনারা অতীতেও ৪০-৪৫ জন নিয়েছেন পকেট কমিটি করেছেন। পকেট কমিটি করে ভেবেছেন অনেক শক্তিশালী হবেন কিন্তু তা না হয়ে দূর্বল হয়েছেন। আপনি দূর্বল হচ্ছেন সেটা না কিন্তু আমরা বারবার সোনারগাঁ থেকে সিট হারিয়ে ফেলছি। আপনাদের কর্মকান্ডে আমরা নেত্রীকে নৌকা উপহার দিতে পারি নাই। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ বড় শক্তিশালী।
সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের নেতা অনেক। ঐক্যবদ্ধ থাকলে মিনিমাম আমরা ৪০-৫০ হাজার ভোটে জিতবো।প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সোনারগাঁয়ের কমিটিকে অবিলম্বে বাদ দিয়ে যারা এ কমিটি করেছে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। আবার নতুন করে কমিটি করে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কমিটিতে আনেন।
লাভ আপনার ও আপনার পরিবারের না হলেও লাভ হবে আওয়ামী লীগের। আমার জননেত্রী শেখ হাসিনা একটা সিটের জন্য অনেক কিছু হতে পারে। আজকে একটা সিটের বড় প্রয়োজন। একটা সিটকে আমরা অবমূল্যায়ন করতে পারি না। যদি অবমূল্যায়ন করতে থাকি তাহলে শেখ হাসিনা কি ক্ষমতায় আসবে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


