সোর্স, পুলিশ পরিচয় দিয়ে চেকপোস্টে: তিন লাখ টাকার ফেনসিডিল উধাও
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৩, ১০:১২ পিএম
# অনেকে নিজেকে সেভ করার জন্য নানা পরিচয় দিয়ে থাকে: ওসি নূরে আযম
ফতুল্লায় পুলিশের সোর্স পরিচয়ে চেকপোস্ট বসিয়ে দুই যুবককে তল্লাশি চালিয়ে ১০০ পিছ ফেনসিডিল উদ্ধার করে ডিবি ও থানা পুলিশের কথিত সোর্স কামাল ও দুলাল। প্রশাসনকে না জানিয়ে উদ্ধারকৃত ফেনসিডিল নিয়ে উধাও তারা। অনেকে আবার বলছেন, কিভাবে এতো বড় সাহস পায় তারা।
প্রশাসনকে না জানিয়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায়। তাদেরকেই আবার পুলিশের সাথে দেখা মেলে প্রতিনিয়ত। তাই সোর্সরাই এবার বলে গেলো পুলিশ। বুধবার (৫ জুলাই) বিকাল ৩ ঘটিকার সময় পাগলা পশ্চিম নন্দলালপুর রেললাইন এলাকার রুমানের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে।
সূত্রে জানা যায়, শাহজাহান রোলিং মিলস এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সোহেলে দুইজন সেলসম্যান মোটরসাইকেল যুগে ১০০ পিছ ফেনসিডিল সরবরাহ করতে পশ্চিম নন্দলালপুর এলাকায় আসলে তাদেরকে পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ১০০ পিছ ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশ সোর্স কামাল এবং দুলাল উদ্ধারকৃত মাদক ফেনসিডিল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে উধাও।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, নয়ামাটি এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে কামাল ও দুলাল দীর্ঘদিন যাবত পুলিশের সোর্স পরিচয়ে অত্র এলাকায় মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে ভয় পায়।
তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তারা প্রশাসন দিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। অচিরেই এইসব অপকর্মে ম‚ল হোতা পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী কামাল ও দুলালকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন তিনি।
এবিষয়ে সোর্স কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা চালিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। দুলালের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, কামাল ও দুলাল দুজন একসাথে ছিল রেললাইন এলাকায়। একটি বাজারের ব্যাগে করে কামাল কি যেনো নিতে দেখেছেন তিনি। এ বিষয়ে সে কিছুই জানেন না বলে কল কেটে দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সুমন নামে একজন ব্যক্তি জানান, আমি হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হলে কামালের হাতে থাকা একটি ব্যাগের ভেতর দেখি অনেকগুলো ফেনসিডিলের বোতল। সেখান থেকে আমাকে ১০ বোতল ফেনসিডিল দিয়ে কামাল ও দুলাল সেখান থেকে চলে আসে, তবে ফেনসিডিল কোথায় থেকে আসছে সেটা আমি জানি না।
তবে শুনেছি, এই ফেনসিডিলগুলো নাকি চোট দিছে ওরা। তবে কামাল ও দুলালকে ধরলে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধার করা সম্ভব হবে। (অত্র প্রতিবেদকের কাছে তার ভয়েস রেকর্ডটি সংরক্ষিত রয়েছে।) এখন থেকেই এইসব অপকর্মে জড়িত কথিত পুলিশের সোর্সদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি নূরে আযম জানান, অনেকে নিজেকে সেভ করার জন্য সোর্স, পুলিশ বা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আর মাদক ব্যবসায়ীকে তল্লাশি করে মাদক উদ্ধার করে পুলিশকে না জানিয়ে যারা মাদক নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান। এন. হুসেইন রনী /জেসি


