প্রসন্ননগর গ্রামের নাম পাল্টে গাজীনগর রাখলেন বিএনপি নেতা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৩, ০২:২১ পিএম
বক্তাবলীর বিএনপি নেতা আলআমিন সিদ্দিকীর এক ভয়ংকর অপকর্মের শিকার হচ্ছেন তার নিজের গ্রাম প্রসন্ননগরের মানুষ। গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন এই আলআমিন সিদ্দিকী গ্রামের কাউকে না জানিয়ে প্রসন্ননগরের শত বছরের পূরনো নাম পাল্টিয়ে রেখেছে গাজী নগর এবং এই গাজী নগর নামটি সে এবং তার ছোটো ভাই মিলে গুগল ম্যাপেও ঢুকিয়ে দিয়েছে।
এতে গ্রামবাসী চরম বিপাকে পরেছে। যার ফলে গ্রামের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ সহ সর্ব স্থরের সাধারন মানুষ এই আলআমিন সিদ্দিকী এবং তার ছোটো ভাইয়ের উপর বিক্ষুব্দ হয়ে উঠেছে এবং তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান শওকত আলীর কাছে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে তারা জানিয়েছেন যেভাবে প্রসন্ননগরের নাম পরিবর্তন করে গাজী নগর করা হয়েছে এবং গুগল ম্যাপে সেটা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে তাতে আগামী দিনে ওই গ্রামের বাসিন্দাদের শিক্ষা সনদ, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং জমিজমার দলিলের ঠিকানা সহ নানা রকম ভয়ানক সমস্যার সম্মুখিন হতে হবে।
গ্রামবাসী এসব নিয়ে পদে পদে সমস্যার সম্মুখিন হবে। তাই গোটা গ্রামের মানুষ নারীপুরুষ নির্বিশেষে এই অপকর্মের মূল হোতা আলআমিন সিদ্দিকী (৪৩) এবং তার ছোটো ভাই আনোয়া সিদ্দিকী (৩৯) এর উপর চরম ভাবে বিক্ষুব্দ হয়ে উঠেছে। গ্রামবাসী আরো জানিয়েছে আলআমিন সিদ্দিকী গং কেবল গুগল ম্যাপে গ্রামের নাম পরিবর্তন করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং ব্যানার, ফেস্টুন এবং দেয়াল লিখনের মাধ্যমে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রসন্ননগর গ্রামকে গাজী নগর বানানোর জন্য চেষ্ঠা করেছেন।
তবে এ সময়ে এসে গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে গা ঢাকা দিয়েছে আলআমিন ও তার ছোটো ভাই। তাই তারা অবিলম্বে এই সংকট সমাধানের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান শওকত আলীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এদিকে চেয়ারম্যান শওকত আলীর কাছে যারা গণস্বাক্ষর করে অভিযোগ দায়ের করেছেন তাদের মাঝে অন্যতম হলেন, স্থানীয় মেম্বার সেকান্দর আলী, আলী হোসেন, হযরত আলী, শহীদ উল্লাহ, মোহাম্মদ ফজল হক, মো: আলী আজগর, হাজী লিয়াকত মোল্লা, মো: উজ্জল বেপারী, জয়নাল আবেদীন, মো: আনোয়ার হোসেন।
আলআমিন, সৈয়দ হোসেন, মো: আতাউর, আমিনুল সিকদার, মো: স্বপন, মো: আরিফ খান, শাহাদাত হোসেন, মামুন সরকার, মকবুল হোসেন, আজিজুল হক, মো: সাগর, সাদ্দাম হোসেন, দ্বীন ইসলাম, শাহিন, আতাউর, মো: সেলিম, আবুল হোসেন, আমজত, মজিবর, মামুনুর রশিদ জিহাদ, শরীফ হোসেন, আবদুল আলী বেপারী, ইসলাম বেপারী, দেলোয়ার মাদবর, মাসুম, সাহিদা, মনসুর মাদবর, আনোয়ার বেপারী, আমিনুল হক প্রমুখ।
এ বিষয়ে প্রসন্ননগর গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন বক্তাবলীর প্র¯œনগর গ্রামটি একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। অতীতে এই গ্রাম থেকে মোস্তফা প্রেসিডেন্ড বহু বছর বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে একই গ্রামের বাসিন্দা তাওলাদ হোসেনও এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন।
গ্রামের নামে ৫৩নং প্রসন্ন নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রয়েছে। গ্রামবাসী বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের গ্রাম প্রসন্ননগর বিশেষ পরিচিত একটি গ্রাম। কিন্তু যে আলআমিন সিদ্দিকী এবং তার ছোটো ভাই এই অপকর্মটি করেছে তার তেমন কোনো বংশ পরিচয় বা বংশ মর্যদা নেই।
তাদের বাড়িটি ‘গাড়াদের’ বাড়ি হিসাবে গ্রামবাসীর কাছে পরিচিত। সম্ভবত আলাআমিন এই ‘গাড়া’ পরিচয়টি মোছার জন্য এই অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু তারা একবার চিন্তাও করেনি এভাবে শত বছরের পূরনো একটি গ্রামের নাম পাল্টাতে গেলে গ্রামবাসী কি ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে।
তারা কেবল এবারই এই অপকর্ম করেনি বরং অতীতেও বার বার গ্রামবাসীর সাথে অযথা ঝগড়া বিবাধে লিপ্ত হয়েছে। তাই চেয়ারম্যান শওকত আলী যদি এখনই এ বিষয়ে কঠোর ব্যাবস্থা না নেন তাহলে বিক্ষুব্দ গ্রামবাসী আরো কঠোর আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করতে বাধ্য হবে।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে আলআমিন সিদ্দিকীকে টেলিফোন করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কোনো সরকারীভাবে স্বীকৃত নাম কেউ চেঞ্জ করতে পারে না। দুইশ বছরের পূরনো গ্রাম প্রসন্ননগর। আমার জানা মতে কোনো ব্যাক্তি ইচ্ছে করলেই কোনো গ্রামের নাম পাল্টাতে পারে না।
আমি কিভাবে গ্রামের নাম পাল্টাবো। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, গুগল ম্যাপে কিভাবে প্রসন্ননগরের জায়গায় গাজীনগর ঢুকলো? কে ঢুকালো? এই প্রশ্ন করলে তিনি এ বিষয়েও কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন গুগল একটি কোম্পানী। তারা কিভাবে কাজ করে সেটা আমার জানার কথা নয়।
তাছাড়া গুগল ম্যাপে অনেক সময় ভুল নাম আসে। এমন কিছু হতে পারে। আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা। তার কাছে প্রশ্ন ছিলো গ্রামবাসী আপনার নামে চেয়ারম্যানের সাহেবের কাছে অভিযোগ করলো কেনো? জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামে অনেক সময় ভিলেজ পলিটিক্স থাকে। তাই কেউ ব্যাক্তিগত রেষারেষির কারনে আমার নামে অভিযোগ করে থাকতে পারে। এন.হুসেইন রনী /জেসি


