আড়াইহাজার সাব রেজিষ্টার অফিসের কর ফাঁকির মহোৎসব
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৩, ০৫:০৪ পিএম
নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজার উপজেলার সাব রেজিষ্টারের কার্যালয়ে র্দীঘদিন ধরে ক্ষমতা দেখিয়ে ৪ কর্মকর্তা সরকারের বিপুল পরিমান কর ফাঁকির মহোৎসবে মেতে উঠেছেন। আর সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এবং সমিতির নামে চাঁদাবাজি করে অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
এমনই একটি চিঠিসহ অভিযোগ রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের হাতে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া এই কর্মকার্তারা দলিল লেখক সমিতির সাথে যুক্ত থাকায় সাধারণ জনগণ তার কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে। নানা বিষয়ে দুদুক চিঠি পাওয়ার পর পরই আবার আরো বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে সাব রেজিষ্টার অফিসে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে আয়কর ফাঁকি দিলে বা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর করাদন্ডে দন্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে আয়কর আইনে।
জানা গেছে, দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা পরিচয়ে অবৈধ অস্ত্র এবং পেশি শক্তি প্রয়োগ করে নানান অপরাধ করে যাচ্ছে। নুরুল আমিনের এহেন কর্মকান্ডে এক দিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে ও অন্যদিকে সাধারণ জনগণ তার কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে।
এমনকি তার সহযোগী হিসেবে অফিস সহকারী নাসিমা আক্তার,ও উমেদার হাফেজ, সাজ্জাদ পারভেজ বিপুল অর্থের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই সাব রেজিষ্টার অফিস সরকারের কর ফাঁকি দিয়ে। আড়াইহাজার উপজেলার সচেতন জনগণের নিবেদকে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পদ অর্জন প্রসঙ্গে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে সেখানে উল্লেখ রয়েছে, নূরুল আমিন (৩৬) মালেক, ঠিকানা আড়্হাাজার থানার খামারচর পেশায় একজন দলিল লেখক, সনদ নং- ৬৫।
সে আড়াইহাজার সাব-রেজিষ্টার অফিসে দীর্ঘকাল ধরে বেআইনি ভাবে জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে নির্ধারিত গড় মূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখিয়ে দলিল রেজিষ্টার করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এবং সমিতির নামে চাঁদাবাজি করে অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে।
সাব-রেজিষ্টার অফিসে এমন কোনো অপকর্ম নাই যা নুরুল আমিন করে নাই। দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা পরিচয়ে অবৈধ অস্ত্র এবং পেশি শক্তি প্রয়োগ করে নানান অপরাধ করে যাচ্ছে। নুরুল আমিনের এহেন কর্মকান্ডে এক দিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে ও অন্যদিকে সাধারণ জনগণ তার কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে।
একটি সাফ কবলা দলিলের প্রত্যায়িত নকলে দেখা যায়, গত ২৬-১২-২০১৩ ইং তারিখে আড়াইহাজার সাব-রেজিষ্টার অফিসে রেজিষ্টারকৃত ১৪১৬৩ নং সাফকবলা দলিলে কদমিরচর মৌজায় ৯৮ শতাংশ নালজমি কে ডোবা শ্রেণী উল্লেখ করে ১৯,৬০,০০০/- টাকার পরিবর্তে ৪,০০,০০০/- টাকা দেখিয়ে ১৫,৬০,০০০/- টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে এবং নাগেরচর মৌজায় গত ০৬/০৮/২০১৮ ইং তারিখে আড়াইহাজার সাব- রেজিষ্টার অফিসে রেজিষ্টীকৃত ৭৮০৩ নং সাফকবলা দলিল দ্বারা ১৫ শতাংশ নালজমি উল্লেখ করে ৩২,২৬,৫০০/- টাকার পরিবর্তে ২,৫০,০০০/- টাকা মূল্য দেখিয়ে ২৯,৭৬,৫০০/- টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
নুরুল আমিনের সহযোগিতায় আড়াইহাজার সাব-রেজিষ্টার অফিসের সহকারী নাসিমা আক্তার স্বামী- শাহজাহান, ঠিকানা বড় মনোহরদী এই রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। প্রথমে দলিল এর শ্রেণী নালজমির পরিবর্তে অন্য শ্রেণী দেখিয়ে দলিল সম্পাদন করে পরবর্তীতে সাজ্জাদ পারভেজ, পিতা- মৃত শহিদ উল্লাহ, ঠিকানা নোয়াপাড়া, এর সার্বিক সহযোগিতায় নাসিমার পুত্র তারেক ও উমেদার হাফেজ, এর সহযোগিতায় দলিলে অস্পষ্টতা দেখিয়ে বালামে নালজমি বসিয়ে দিয়েছেন উমেদার হাফেজ ও নাসিমার পুত্র তারেক। উল্লেখিত ৭৮০৩ নং দলিল এর দাত্রী ছিলেন উল্লেখিত নাসিমা আক্তার।
দলিল লেখক নুরুল আমিন, অফিস সহকারী নাসিমা আক্তার,ও উমেদার হাফেজ এর সিন্ডিকেটে আড়াইহাজার সাব-রেজিষ্টার অফিসে চলছে রাজস্ব ফাঁকির মহোৎসব। রাজস্ব ফাঁকির অবৈধ টাকায় নুরুল আমিন গড়ে তুলেছেন প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ। তার নামে বেনামে রয়েছে অজস্র ফ্ল্যাট, বাড়ী, জমি, দোকান, গোডাউন। অতএব, মহোদয় সমীপে আকুল আবেদন এই যে, রাজস্ব ফাঁকির নায়ক নুরুল আমিন, নাসিমা আক্তার ও উমেদার হাফেজ এদের কর্মকান্ড তদন্ত করে দুর্নীতি বন্ধ করে বিচারের আওতায় নিয়ে এলে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে ও সাধারণ জনগণ স্বস্তিতে দিন কাটাবে।


