সোনারগাঁয়ে সফল ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুছ ছোবহান
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৩, ০২:৫৪ পিএম
রক্তক্ষয়ী ও দূঢ়চেতা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা অজস্র প্রাণ, তাজা রক্ত আর সভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত, যারা লাল সবুজের পতাকাও একটি মানচিত্র এনেছিলেন তাদেরই একজন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কুমারচর এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুছ ছোবহান ভূইয়া।
ভারতের আগরতলা চুরুইলাম থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে সেক্টর কমান্ডার মেজর হায়দার আলীর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। তার গেজেট নং ১৫৭৭। পাশাপাশি তিনি সদস্য সচিব বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। পাকহানাদার বাহিনী যখন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হত্যার পর হত্যা, বাঙালি নিধন, লুটতরাজ ও ধ্বংসযজ্ঞে লিপ্ত তখনই তাদের প্রতিরোধে যুদ্ধে প্রতিঘাতের নেশায় মাঠে নামেন টগবগে যুবক আব্দুছ ছোবহান ভূইয়া।
মুক্তির নেশায় স্বাধিকার এ যুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনতে প্রশিক্ষণ নিতে ভারত চলে যান। ভারতের বিভিন্ন স্থানে যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। একের পর এক আঘাত হানতে শুরু করেন পাকহানাদারদের ঘাঁটিতে। এসময় হামলা চালিয়ে কলাগাছিয়া, শীতলক্ষ্যা, চৌমুহনী ডেমরা, আদমজী সিদ্ধিরগঞ্জ, মোগরাপাড়াসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্নস্থানের পাকহানাদার বাহিনীর শক্ত সব ঘাঁটি ও কয়েকটি জাহাজ ধ্বংস করেন।
এরপর পাকহানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় নারায়ণগঞ্জ তথা সোনারগাঁ, বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সাল থেকে দীর্ঘদিন তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার কর্মময় জীবনে চট্টগ্রামের বাশখালী থেকে ৮০ লাখ টাকার মদ ও হাটহাজারী এলাকা থেকে ১৩ মণ গাঁজা উদ্ধারসহ অসংখ্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুছ ছোবহান ভূইয়া তিন সন্তানের জনক। তার বড় ছেলে মোবারক হোসেন ভূইয়া স্যামসাং কোম্পানীতে উচ্চ পদস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তার মেঝ ছেলে মোজাম্মেল হক ভূইয়া স্কলারশিপ নিয়ে জার্মানীতে একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার ছোট ছেলে মাহাবুব আলম ভূইয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ঢাকায় কর্মরত।
সফল ব্যক্তিত্বের অধিকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুছ ছোবহান ভূইয়া ২০১৬ সালে কর্মজীবন থেকে অবসর নেন। পরে ২০১৮ সালে তিনি পবিত্র হজ পালন শেষে নিজ এলাকায় ফিরে এসে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। বর্তমানে তিনি ওই মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
অবসর জীবন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া কুমারচরে একটি ও পঞ্চমীঘাট বাজার সংলগ্ন গোলনগর এলাকায় নিজের অর্জিত সম্পদ ৫৩ শতাংশ দুটি বাড়ীর দেখাশোনা করে তিনি অবসর সময় কাটান। গোলনগর এলাকায় তার বাড়িতে রয়েছে আম, জাঁম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ার, কমলা ও লটকনসহ নানা প্রজাতির বিভিন্ন ফলজগাছ।
বাড়ীর ফলজগাছ গাছালীর পরিচর্চার পাঁশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ রোযাসহ মহান আল্লাহর এবাদত বন্দেগীতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এছাড়া সামাজিক উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও জনসেবা মূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছেন তিনি।
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি দুঃখভরা কণ্ঠে জানান, এপ্রজম্মের তরুণ যুবকদের নিয়ে বড়ই চিন্তা হয়। এরা সামাজিক মূল্যবোধ থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে। সমাজ বিনির্মাণে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে মাদকবিরোধী সকল কর্মকান্ডে তাদের অংশগ্রহণ করতে হবে। তবেই দেশে অর্থবহ সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে। এন.হুসেইন রনী /জেসি


