কলাগাছিয়ায় অবৈধ ড্রেজার দস্যু লাভলুর নেতৃত্বে বালু ভরাটের মহৌৎসব
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৩, ০১:৫২ পিএম
বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সড়কের রাস্তা কেটে অবৈধভাবে নদী থেকে ড্রেজার পাইপের মাধ্যমে ফসলী জমি ভরাটে মেতে উঠেছে ড্রেজার দস্যু লাভলুগং।
রবিবার ২৩জুলাই সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র পরিলক্ষিত হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সিন্ডিকেট করে একজন রাজনৈতিক নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে লাভলুগং এর নেতৃত্বে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ভরাটের মহৌৎসব চলছে।
এমনকি এরা সড়কের রাস্তা কর্তন করে মোটা পাইপ বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। অবৈধ ড্রেজার দস্যু লাভলুগং একজন সরকারী দলের ক্ষমতাধর রাজনৈতিক নেতার অনুসারী। এরা হচ্ছে লাভলু প্রধান, মমিন, জিয়াবল। এরা সকলেই এক রাজনৈতিক নেতার অনুসারী।
কলাগাছিয়া ইউনিয়ন রুস্তমপুর, সেলসারদী, চৌধুরীবাড়ী এলাকায় কোথাও সড়কের নিচ দিয়ে বুরিং করে আবার কোথাও রাস্তা কর্তন করে মোটা পাইপ বসিয়ে আবার কোথাও রাস্তা উপর দিয়ে অবৈধ ডেজারের পাইপ বসিয়ে ফসলী জমি বালু দিয়ে ভরাট করছে। এতে করে হুমকির মূখে পতিত হচ্ছে ওই এলাকার রাস্তা,ঘরবাড়ি ও পরিবেশের ভারসাম্য।
রাস্তা কেটে অবৈধভাবে ড্রেজার পাইপ বসানোর কারনে যানবাহন চলাচলে জনদূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে । তেমনি দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষ। ওই পথে যাতায়াতরত অনেক পথচারীরা গাড়ি থেকে পড়ে অনাকাঙ্খিত ঘটনার শিকারও হয়েছেন। এই ড্রেজার দস্যুরা ভয় দেখিয়ে এমনকি লোভ লালসার মাধ্যমে জমির মালিকদের কুক্ষিগত করে ফেলছে।
ড্রেজার দস্যু ও বালুখেকু লাভলুগং একজন সরকারী দলের রাজনৈতিক নেতার লোক বলে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। প্রতিবাদ করেও কোন লাভ হবেনা বরং নির্যাতনের শিকার হতে হবে। এই ড্রেজার দস্যুরা অনেক শক্তিশালী। একদিকে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত করে ড্রেজার পাইপ নষ্ট করে চলে গেলে ওইদিনই পূণরায় তারা ড্রেজার সংযোগ দিয়ে থাকে। তাই এদের বিরোদ্ধে জরুরী ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয় গ্রামবাসী।
ভূক্তভোগীরা জানান,কলাগাছিয়া ইউনিয়ন নয়ানগর এলাকার চিহিৃত ড্রেজার দস্যু লাভলু প্রধানের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে ফসলী জমি কর্তন করে বালু ভরাট করছে। এছাড়াও নানা অপকর্মের সাথে জড়িত এই লাভলু। কয়েকমাস পূর্বে এক ব্যবসায়ীকে হাত পা বেধে লাখ টাকা ছিনতাই কর আটকে রাখার অপরাধে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল।
আর এই অবৈধ ড্রেজারের কাজ করার সময় প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারাও ভাগ নিয়ে থাকে। তাই এরা দিব্বি এই অবৈধ কর্মকান্ড কওে যাচ্ছে। ড্রেজিং পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করা হলে ভরা বর্ষাায় তাদের ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। তাই এদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধান বলেন,অবৈধ কোন কর্মকাÐে আমার বিন্দুমাত্র কোন সমর্থন নাই। আমি জনগনের সেবক। জনগনের গোলামী করতে এসেছি। অবৈধ ড্রেজার দস্যুদের বিরোদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাই।
এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম কুদরত ই খুদা বলেন, মৌখিক ভাবে গ্রামবাসীর অভিযোগ পেয়েছি । তবে খুব দ্রæত অবৈধ ড্রেজার দস্যুদের বিরোদ্ধে অভিযান পরিচালনা করব।
এ ব্যাপারে মদনগঞ্জ পুলিশ ফাড়ীর ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন বলেন, ভূমি সংশ্লিষ্ট জনদুর্ভোগের বিষয়টা উপজেলা প্রশাসনের এখতিয়ার। উপজেলা প্রশাসনের অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে পুলিশ সহযোগিতা করে থাকে। এন.হুসেইন রনী /জেসি


