Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

সিদ্ধিরগঞ্জে স্বেছাসেবক লীগের ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে ফুঁসে উঠছে তৃণমূল

Icon

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৩, ০৭:৩৬ পিএম

সিদ্ধিরগঞ্জে স্বেছাসেবক লীগের ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে ফুঁসে উঠছে তৃণমূল
Swapno


সিদ্ধিরগঞ্জে এক থেকে নয় নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত নবগঠিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই কমিটি গুলো নিয়ে ফুঁসে উঠছে থানা আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন ও তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদেরকে উপেক্ষা করে দলে অনুপ্রবেশকারী, একাধিক মামলার আসামী, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, বিএনপি-জামাতের দোসর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিহ্নিত সোর্সসহ এমন ব্যক্তিকে কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে।

 

 

যা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। এসব কমিটি গঠনেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দদের মতামতকে তুচ্ছজ্ঞান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে। 

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জুড়ে এই ওয়ার্ড কমিটিগুলো নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। ত্যাগী নেতারা এই কমিটিগুলো বাতিল করে নতুন করে কমিটি দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা যায়। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই ওয়ার্ডগুলোতে কোনো কমিটি গঠন করা হচ্ছিল না।

 

 

তবে, গত ৩১ জুলাই জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের পর থেকেই নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল ত্যাগী নেতাদের নিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হবে। তবে নেতাকর্মীদের সেই প্রত্যাশা ধুলিস্যাৎ করে মনগড়া কমিটি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এর আগে, গত সোমবার (৩১ জুলাই) কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি কাজী শাহানারা ইয়াসমিন, কার্যনির্বাহী সদস্য চৈতালি চক্রবর্তী ও মিরাজ বিল্লাহ’র স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কমিটিগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়। 

 

 

কমিটির তালিকাগুলো থেকে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে মো: খবির হোসেন রানাকে সভাপতি ও মো: শফিকুর রহমান জনিকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদে আসা এই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে রাজনৈতিক ময়দানে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কোন নেতাকর্মীরা চিনেন না বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি সহ-সভাপতি পদে থাকা একজনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং প্রচার সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে এক প্রবাসী যুবককে। 

 

 

২ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির পদে থাকা অধিকাংশই রাজনৈতিক বিষয়ে কিছুই জানে না। দলের সিনিয়র নেতারা রাজনৈতিকভাবে ত্যাগী নেতাদের নাম উল্লেখ করে কেন্দ্রে কাগজ জমা দেয়া সত্ত্বেও কাউকে মূল্যায়ন করা হয়নি। 

 

 

পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে মো: আল-আমীন শেখ নামক এক ব্যক্তিকেই দুটি পদ দেয়া হয়। 

 

 

৬ নম্বর ওয়ার্ডের ২০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সভাপতি মো: আক্তার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো: ইফতেখার হোসেন রাজু। এ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব থাকা আক্তার হোসেন ওরফে পানি আক্তারের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১১টি মামলা রয়েছে এবং তাঁর পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। 

 

 

৫ নম্বর ওয়ার্ডের মতো সাত নম্বর ওয়ার্ডেও একই কাজ করা হয়েছে। ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে একই ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে কয়েকটি পদে। ওই কমিটিতে মো: শাকিল মাহমুদ নামের এক ব্যক্তিকে সহ-সভাপতি ও অর্থ বিষয়ক সম্পাদক পদে, আমিনুল ইসলাম নামের আরেকজনকে সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এবং মনিরুজ্জামানকে সাংগঠনিক ও প্রচার সম্পাদকের পদে রাখা হয়েছে।  

 

 

৮ নম্বর ওয়ার্ডে আমির হোসেনকে সভাপতি এবং শিহাব উদ্দিন রিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। যাকে সভাপতি করা হয়েছে তাকে চিনে না ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের অনেকেই। অপরদিকে, ১৯ বছর ধরে গোদনাইল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতির দায়িত্বে থাকা কাজী অহিদ আলমকে করা হয়েছে সিনিয়র সহ-সভাপতি।

 

 

এছাড়াও বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে জেল হাজতে থাকা বিএনপি নেতা জাকির খানের ছবিসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত ব্যানার ফেষ্টুন সাঁটানো রাকিব হাসানকে করা হয়েছে যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। বিএনপির রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আফাজ উদ্দিনের ছেলে রওশন আলী ও একই এলাকার বিএনপি কর্মী কাশেম হাওলাদারকে করা হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক।   

 

 

বাদ যায়নি ৯ নম্বর ওয়ার্ডও। ২৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে সালাউদ্দিন নামের একজনকে সহ-সভাপতি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে।  বহুদিন পরে ঘোষণা হলেও এমন আজগুবি কমিটি নিয়ে এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নেতাকর্মীরা শুরু করেছেন নানান আলোচনা-সমালোচনা।

 

 

মনগড়া ও বিতর্কিদের নিয়ে কমিটির বিষয়ে একাধিক পদবঞ্চিত অভিযোগ তুলে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠন করেছে। আমরা দলের জন্য নির্যাতিত, এমন কমিটি আমরা মানি না। কমিটি বাতিল না করা হলে আমরা বিক্ষোভ করবো। 

 

 

৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি প্রার্থী কাজী অহিদ আলম জানায়, গোদনাইল ইউনিয়ন থাকা অবস্থায় আমি তিন নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ২০০৪ সালে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৯ বছর যাবৎ দায়িত্ব পালন করছি। আমাকে ওয়ার্ড কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছে।

 

 

আমাকে সভাপতি করার জন্য থানা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সুপারিশ করলেও তাতে দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ কর্ণপাত করেনি বরং তাদের মনগড়া মত কমিটি দিয়েছে।  

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের সদস্য রুহুল আমিন মোল্লা জানান, যারা দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে আন্দোলন সংগ্রামে ভুমিকা রেখেছে তাদেরকে মূল্যায়ন না করে ভিন্ন দলের সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদেরকে কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। অচিরেই এ কমিটিকে পুনর্বিন্যাশ না করলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আমি মনে করি। 

 

 

৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম জানান, এ ওয়ার্ডে যে কমিটি হয়েছে ২/৪ জন ব্যাতীত সবাই নতুন। যাকে সভাপতি করা হয়েছে তাকে আমরা চিনি না। তার সাথে মূলধারার রাজনীতিবিদদের কোন যোগাযোগ নেই। এ কমিটির অনেককে বিএনপির কর্মসূচিতে দেখা যায়।  

 

 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি পদপ্রার্থী আমিনুল হক ভুঁইয়া রাজু জানান, এক থেকে নয় নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত যে কমিটি দেয়া হয়েছে তাদের অনেককেই আমরা চিনি না। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পরামর্শে যে কমিটির প্রস্তাব করা হয়েছিল তার সাথে বর্তমান কমিটির কোন মিল নেই। কি ভাবে এ কমিটি করা হয়েছে আমার বোধগম্য নয়।  

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া জানান, এ ব্যাপারে আমাদের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান সাহেবের সাথে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আ, হ, ম বাহাউদ্দিন নাসিম ভাই বরাবর থানা আওয়ামীলীগের প্যাডে একটি চিটি দেওয়ার জন্য। সে লক্ষ্যে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।  

 

 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মজিবুর রহমান জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের এক থেকে নয় নম্বর ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবকলীগের যে কমিটি দেয়া হয়েছে সেখানে স্থানীয় আওয়ামীলীগের মতামতকে উপেক্ষা করে বিতর্কিত লোকদেরকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। এই কমিটি আমাদের সংসদ সদস্যও মানে না, আমরাও মানি না।  এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন