Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বেহাত রূপগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৩, ০২:৪১ পিএম

বেহাত রূপগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী
Swapno


এক সময়ের জমজমাট শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্য আসরের আতুর ঘর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা পরিষদ এখন বেদখল। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নামে দেয়া ৬৭ শতক সরকারী সম্পত্তিতে গড়ে ওঠেছে দোকানপাট ও পাকা -আধাপাকা স্থাপনা। এমনকি সময়ের ব্যবধানে জীর্ণশীর্ণ কলা ভবনটিও দখলে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ফলে গত দেড় যুগ ধরে নেই এখানে শিল্প, সাহিত্য সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট কর্মযজ্ঞ। এখানে সক্রিয় কমিটি না থাকায়  শিল্প চর্চার অভাবে নতুন প্রতিভা অন্বেষনে সৃষ্টি হয়ে আছে শক্ত বাঁধা।  

 

 

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়,  কবি, সাহিত্যিক, লেখক, গীতিকার,নাট্যকার, গায়ক, অভিনয় শিল্পি,মঞ্চ নাট্য গোষ্ঠী, গ্রামীণ সংস্কৃতি চর্চাকারীসহ শিল্প ও সংস্কৃতি প্রেমীদের জন্য সরকার সংস্কৃত মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠন করেছিলেন শিল্পকলা পরিষদ। এর ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ১৯৮৪ সালে স্থানীয় শিল্পমনা লোকদের নিয়ে তৎকালীণ ইউএনও আব্দুস সাত্তার উপজেলার মুড়াপাড়ার মঠের ঘাটে বরাদ্দ দেন জমি । একই সময়ে করেন ভবনের ব্যবস্থা।

 

 

যা ১৯৮৫ সালে তৎকালীণ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মাহমুদুর রাজা চৌধূরী উদ্বোধন করেন। কিন্তু ওই ভবনটি নির্মাণের ৪ বছর থেকে এখন পর্যন্ত গত ৩২ বছর ধরে নিরাপত্তা অযুহাতে হয়ে যায় বেদখল। পাশেই উপজেলা ভুমি অফিস থাকায় শিল্পকলার বরাদ্দকৃত জমিতে  এ পর্যন্ত গড়ে ওঠেছে ২০টির অধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।

 

 

একটি সীমানা প্রাচীর না থাকায় এ চত্ত্বরে থাকা অন্যান্য সংগঠনের সবকটি ভবন হয়ে পড়ে অনিরাপদ। দিনে দুপুরে এখানে হয় ছিনতাই। রাতে মাদক সেবীদের আড্ডায় এ চত্ত্বর হয়ে ওঠে জনসাধারনের চলাচল অনুপযোগী স্পট। এভাবে মুল ভবনটি হয়ে পড়ে ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে থেমে যায় এখানে শিল্পচর্চা। 

 

 

স্থানীয় শিল্পিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজহার ভুইয়া নামীয় একজন ঠিকাদারকে সভাপতি করার পর থেকে সংগঠনটি আর আলোরমুখ দেখেনি। তবে ২০১২ সালে  তৎকালীন ইউএনও ফারহানা কাউনাইনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি সচলের লক্ষ্যে পদাধিককার বলে তিনি সভাপতি থেকে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা সরকারী  প্রাথমিক  বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিমকে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক করেন।

 

 

এছাড়াও ওই কমিটিতে আরও বেশ কয়েকজনকে অন্তুর্ভুক্ত করে শিল্পকলা একাডেমী  নামেমাত্র পরিচালিত হয়। শিল্পিদের আরও অভিযোগ, সেই কমিটির লোকজন শিল্পকে ভালোবাসলেও তারা শিল্পচর্চা থেকে বিরত ছিলেন সব সময়। তারা কেউই পেশাদার শিল্পি নয়। স্থানীয় সঙ্গীত শিল্পি শাকিল আহমেদ বলেন, আমি গত ১০ বছর ধরে গান ও বাদ্যের সঙ্গে থেকে শিল্পচর্চা করছি। তবে তা রূপগঞ্জে নয়। রূপগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম এতাদিন ছিল না। সম্প্রতি সক্রিয় করনের কাজ চলছে।

 

 

তাই আমি ঢাকা শিল্পকলা একাডেমীতে গিয়ে চর্চা করি। অথচ এখান থেকে রেজোয়ানা সাকি নদীর মতো গুণি শিল্পি সারাদেশ মাতাচ্ছেন। কিন্তু নিজ এলাকায় অবস্থান তেমন নেই।    স্থানীয় বাসিন্দা গিটারিস্ট লাভলু বলেন, শিল্প সাহিত্য চর্চা হলো মনের খোরাক। পাশাপাশি প্রতিভা প্রকাশের স্থান এটি । কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এখানে শিল্প চর্চা তেমন হয় না।

 

 

অথচ সরকারীভাবে জমি ও ভবন বরাদ্দ দেয়া। যা শিল্পিদের অনেকেই জানেই না। যারা প্রকৃত শিল্প চর্চা করে তারা এখানে সক্রিয় নাই। তাই তাদের সক্রিয় করে সংগঠনটি চালু করলে নতুন শিল্পি তৈরী হবে। সাহিত্যমনা লোক বেরিয়ে আসবে। নতুন কবিরা পাবেন স্বীকৃতি। 

 

 

নারায়ণগঞ্জ  খেলাঘর সাধারন সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, শিল্পিদের সংগঠনে শিল্পি নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। রূপগঞ্জ   উপজেলা শিল্পএকাডেমীকে পূনঃ উদ্ধার করতে অবশ্যই প্রকৃতি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতমনা লোকদের জড়াতে হবে।

 

 

অভিযোগ রয়েছে, যাদের শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই তাদের নিয়ে নিয়মবহিভর্‚তভাবে সংগঠনটি পরিচালনা করার। বিধিমতে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও প্রকৃত শিল্পি ও সাহিত্যিকরা স্থান পায়নি ওই কমিটিতে। একজন ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিগত দিনে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী। তবে জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারসহ  স্থানীয় প্রকৃত শিল্পিদের নিয়ে সংগঠনটি পূনরায় উজ্জীবিত করার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। 

 

 

রূপগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন, সরকারীভাবে শিল্পিদের জন্য নানা উপকরণ বরাদ্দ থাকে। তাছাড়াও আসবাব থাকে। একটি সীমানা প্রাচীর না থাকায় এবং বিগত দিনে কমিটি না হওয়ায় ভবন বেহাত হয়ে গেছে। সেখানে স্থানীয় লোকজন বসবাস করছে। কেউ কবুতর পালন করছে।  তাই নিরাপত্তার স্বার্থে উপজেলার পুরাতন একটি সরকারী ভবনে যারা শিল্প চর্চা করছে তাদের নিয়ে সংগঠনটি উজ্জীবিত করণের কাজ চলছে। 

 

 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী‘র সভাপতি ও রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল হক বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার উন্মুক্ত প্রতিষ্ঠান উপজেলা পর্যায় গঠিত শিল্পকলা একাডেমী জাতীয়ভাবে নানা প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণের সরকারী মাধ্যমের অন্যতম।  

 

 

এ সংগঠনটি যেখানে যত সক্রিয় সেখানে তত সংস্কৃতি চর্চা উন্নত। তাই রূপগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীকে সক্রিয় করার কাজ হাতে নিয়েছি। দুঃখজনক সত্য এই যে, এখানে শিল্প চর্চার লোকের অভাব রয়েছে। তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারনে ভবন ও জমি বেহাত হয়ে থাকতে পারে। এসব উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হস্তক্ষেপ নেয়া হবে।  এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন