Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ফতুল্লায় রাতের আঁধারে হায়েনার তান্ডব

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৩, ০৮:০০ পিএম

ফতুল্লায় রাতের আঁধারে হায়েনার তান্ডব
Swapno

 

# অপরাধীদের কোন ছাড় নেই, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা : ওসি ফতুল্লা

 

 

ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল। এই অঞ্চল দেশের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে খ্যাত। ফতুল্লাকে ঘিরে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান। অথচ রাত হলেই এক অজানা আতংকে কাটে ফতুল্লাবাসীর। রাতে কর্মস্থল থেকে ঘরে ফেরা মানুষ আতংকে থাকে ছিনতাইকারী নামের অদৃশ্য হায়েনার ভয়ে। ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে শুধুমাত্র বক্তাবলী ব্যতীত বাকি ৪টি ইউনিয়নের প্রতিটি  অলিগলি অনিরাপদ বলে মনে করে এলাকাবাসী। এরমধ্যে এনায়েতনগর, কুতুবপুর, ফতুল্লা ও কাশিপুর উল্লেখ্যযোগ্য। ছিঁচকে চোর থেকে শুরু করে ছিনতাইকারীদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে রাতের ফতুল্লার অলিগলি।

 

ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি রাতে অনিরাপদ। শিল্পাঞ্চলখ্যাত ফতুল্লায় রাতে ঘরে ফেরা নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা কুখ্যাত ও ছিঁচকে সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীদের দ্বারা নির্যাতণের শিকার হন অহরহ। তবে এব্যাপারে  ভোগান্তির ভয়ে থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয় না বললেই চলে। ছিনতাই চক্রটি ফতুল্লার এনায়েতনগরের মেথরখোলা, পঞ্চবটি গুলশান রোড, চাঁদনিং হাউজিং.প্রেম রোড, মাসদাইর বাজার, ফাজেলপুর, ধর্মগঞ্জ মাওলাবাজার, মাসদাইর পাকাপুল, কাশিপুর জেলে পাড়া ব্রিজ, খিল মার্কেট, বাঁশমুলি রোড, বাংলাবাজার, বক্তাবলীর পূর্ব গোপালনগরের বক্তাবলী ফেরীঘাট, শামসুল আলমের মোড়, মুসলিমনগরস্থ তারা স্পিনিং মিল, ফতুল্লা ইউনিয়নের ফতুল্লার লালপুর পৌষার পুকুর পাড়, কেতাবনগর, কায়েমপুর, রেল লাইন বটতলা, কুতুবপুরের লামাপাড়া, মেরীএন্ডারসন, পাগলা বৌবাজার, শাহী বাজার, শাহী মহল্লা এলাকা ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও একটি রাজনৈতিক বলয়ে থাকা ব্যাক্তিদের শেল্টারে ছিনতাই চক্র তথা ফিটিংবাজরা নানা ধরনের অপকর্ম করে থাকে বলেও অনেকের অভিযোগ।

 

তথ্য মতে, চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের মধ্যে অন্যতমরা হলেন, চাষাড়ার তামিম, ফতুল্লার শহিদুল্লাহ, মোতালেব, আলীগঞ্জের কিলার মতি, কিলার ফারুক, মকবুল, লুৎফর, দেলপাড়ার পলাশ, নন্দলালপুর এলাকার রনি, শাহাবউদ্দিন, মাসুদ, রাজা ওরফে লিটন, সুলতান, ইয়াকুব, জিয়া। পিলকুনি শাহিন, গাল কাটা আক্তার, নয়ন, আসলাম, হালিম, লালখাঁ’র ডাকাত রতন, শাহাবুদ্দিন, মিঠু, রেলস্টেশনের ডাকাত শাহিন, আমির হোসেন পিচ্ছি, গাল কাটা সোহেল, দ্বীন ইসলাম, রাঙ্গা বাবুল, ডাকাত রনি, শাওন, রকিম, মোহন, হানিফ, লতিফ, ছোট মিঠু ও সবুজ।

 

পঞ্চবটির, মিন্টু, সোহেল,পাগলা ইউসুফ, দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার ডাকাত আমিন ওরফে কাইল্লা আমিন, ইয়াছিন, শহিদ হোসেন, ভাগিনা টুটুল, সুমন, উজ্জল, টিকিমরা লিটন, রুহুল ও শুক্কুর। হাজীগঞ্জ এলাকার সিলেটি বাবু, রনি, সাইদুর, সোহেল, মোল্লা সোহেল প্রমুখ এলাকায় উল্লেখিতদের ছাড়াও বেশ কিছু অপরাধী এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। উল্লেখিতরা বর্তমানে ডার্ক সাইটে থাকলেও ছিনতাই চক্রের নতুন নতুন বলয় সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কিছু ছিনতাই চক্রের সদস্যের সাথে স্থানীয় নেতাকর্মীরেদর সখ্যতাও রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ অনেক দিনের।  

 

এ ব্যাপারে ফতুল্লায় ভোগান্তিতে পড়া একাধিক ব্যাক্তি বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটার পর থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ এ ব্যাপারে কাউকে কিছু না বলতে নিষেধ করেন। পরবর্তীতে তদন্তে যাওয়ার পর ঘটনাস্থলে ছিনতাই হওয়া জিনিসপত্র উদ্ধারের ব্যাপারে পুলিশ তেমন আগ্রহ দেখায় না। ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা নিতে বরাবরের মতোই অনিহা প্রকাশ করে।  ফলে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা আরো বেড়ে যায়।

 

তারা আরো জানায়, বিভিন্ন এলাকায় ফিটিংবাজদেরন দৌড়াত্ব আগের চাইতে বেশি বেড়েছে। কোনো বাসা বাড়িতে কোনো মেহমান বেড়াতে আসলে তাকেও টাকা পয়সার জন্য হেনস্থা করতে দ্বিধা করেন না। স্থানীয় কিছু নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় ফিটিংবাজদেরও বেড়েছে অত্যাচার জুলুম। মুখ খুললে পরিবারের উপর অত্যাচারের স্টিম রোলার আরো বেড়ে যায়।

 

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো.নূরে আজম বলেন, ফতুল্লা থানা পুলিশ অপরাধ নির্মূলে বদ্ধপরিকর। এ পর্যন্ত ছিনতাই, মারামারির ঘটনায় যে অভিযোগ পাওয়া গেছে সাথে সাথে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফতুল্লা একটি বিশাল এলাকায় শুধু ছিনতাই নয়, যেখানে অপরাধ সেখানেই প্রতিরোধ। অপরাধীর সাথে কোনো আপোষ করা হবে না। ছিনতাই যাতে না ঘটে সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন