নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে
জামায়াত-বিএনপি-সাবেক এমপিতে ত্রিমুখী লড়াই হবে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
জামায়াত-বিএনপি-সাবেক এমপিতে ত্রিমুখী লড়াই হবে
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন দ্রুতই গনিয়ে আসছে ভোট গ্রহনের সময়। নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহনের দিনক্ষন নির্ধারণ করেছে। সেই অনুপাতে ইতোমথ্যে নির্বাচনের মনোনয়ন জমা শেষে যাচাই বাছাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে ৩ জানুয়ারি ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং চার জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডিসি রায়হান কবির। তবে এই আসনে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন।
এছাড়া ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর ইলিয়াস মোল্লা। কোন অংশে পিছিয়ে নেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর। ইতোমধ্যে তিজনের প্রার্থীতা বৈধ হয়েছে। এই তিন প্রার্থীর মাঝে লড়াই হবে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কেননা নির্বাচনের মাঠে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তাই লড়াই হবে হাড্ডা হাড্ডি।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের অন্য বৈধ প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. হাফিজুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী কামরুল মিয়া এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আবুল কালাম। তাদের মাঝে জামায়াত কিংবা খেলাফত থেকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ১ জন মাঠে থাকবেন।
কিন্তু এখানে দীর্ঘ ১ বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাচনের মাঠে কাজ করে মানুষের কাছে গিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরী করেছে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাড়িপাল্লার প্রার্থী ইলিয়াম মোল্লা। তাছাড়া তার দলের নেতাকর্মীরা নিবেদিত স্বইচ্ছায় মানুষের কাছে আড়াই হাজারের চাদাঁবাজি দখলবাজি বন্ধ রাখতে হলে দাড়িপাল্লার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে বলে মানুষের কাছে গিয়ে আহবান জানান।
অন্যদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী আসনটিতে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবুসহ সব ডাকসাইটে নেতা পলাতক থাকায় দুর্গটি দখলে নিতে মরিয়া বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা। ছাড় দিচ্ছে না বিএনপির সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর। কেননা তিনি একাধিকবার এমপি হওয়ায় এখানে তার বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। এজন্য তাকে নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপির প্রার্থী নজরু ইসলাম আজাদ। তাছাড়া নজরু ইসলাম আজাদ ২০১৮ সনে বিএপি থেকে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করায় সেই থেকে তার ব্যপক প্রভাব ও ভোট রয়েছে।
তবে ভোটের মাঠে এই তিন প্রার্থীর মাঝে মুলত লড়াই হবে। এই দিক দিয়ে শেষ পর্যন্ত সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর মাঠে থাকলে ধানের শীষের প্রার্থীর ভোট দু ভাগে বিভক্ত হবে। একটি অংশ যাবে নজরুল ইসলাম আজাদের পক্ষে আরেকটি অংশ সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুরের পক্ষে। দুজনের মাঝে ভোট ভাগা ভাগি হওয়ায় পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের ভোটের প্রতি নজর থাকবে তিন প্রার্থীর। যারা আওয়ামী লীগের ভোট টানতে পারবে তারা জয়ের মাঠে এগিয়ে যাবে।
এছাড়া ১০ দলী জোটের ভোট এক পাল্লায় পড়বে। তাদের ভোট ব্যাংক অন্য প্রার্থীর কাছে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এতে করে ভোটের মাঠে বেকায়দায় পড়তে পারেন আজাদ। এজন্য তিনি এখন থেকে সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুরকে ম্যানেজ করার জন্য উঠে পড়ে মরিয়া হয়ে দৌরঝাপ করছেন। তবে ২০ জানুয়ারি প্রার্থীতা নিয়ে পরিস্কার হওয়ায় যাবে। কেননা ২০ জানুয়ারি প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময়।
সরেজমিন ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন ঘিরে আসনটিতে ইতোমধ্যে নানা হিসাব-নিকাশ করতে শুরু করেছেন ভোটাররা। দীর্ঘদিন ভোট না দেওয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের যারা এখনো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি, তারা ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন। নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের কণ্ঠেও এবার শোনা যাচ্ছে পরিবর্তনের বার্তা। দীর্ঘ আওয়ামী দুঃশাসনের অবসানের পর এবার ভোট নিয়ে বেশ সচেতন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি নির্বাচনের সময় সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত ও সংঘাত এড়াতে প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান তাদের।
ঐতিহাসিকভাবে আড়াইহাজার আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সালে এরশাদের পতনের পর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি নেতা আতাউর রহমান খান আঙ্গুর এখান থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এমদাদুল হক ভূঁইয়া এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে পুনরায় আসনটিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হন আতাউর রহমান খান আঙ্গুর।
এরপর ২০০৮ সালে আসনটি থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি হন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু। পরে ২০১৪ থেকে ২০২৪-এর রাতের ভোট, ডামি ভোট সহ তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে এমপি হন তিনি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কোন্দলে সুবিধা জনক অবস্থায় রয়েছে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী।


