ঈদের আগেই ফতুল্লায় নৈরাজ্যের নীল নকশা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
ঈদের আগেই ফতুল্লায় নৈরাজ্যের নীল নকশা
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পতন হয়েছিলো আওয়ামীলীগ সরকারের। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর নারায়ণগঞ্জের অন্য আসনগুলোর মতো, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিভিন্ন সেক্টর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেকেই নিজের করায়াত্ব করে নিয়েছিলো। বেড়ে গিয়েছিলো দুর্বৃত্তায়ন। সেই সাথে বিভিন্ন এলাকায় পাল্লা দিয়ে বেড়ে গিয়েছে মাদক বিক্রেতা থেকে নানা রকম অপরাধ প্রবণতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন জয়লাভ করেন। তুলনামূলকভাবে এই আসনটিতে এনসিপির কর্মী কম। তবে এনসিপি জয় লাভ করার পর বিশেষ করে ফতুল্লা, কার্শিপুর, পঞ্চবটি, টাগারপাড়, মুসলিমনগর, বক্তাবলীতে বেশ কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি এনসিপির ছায়াতলে গিয়ে নানা ধরণের অপরাধ করার পায়তারা করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের বেশ কিছু এলাকাভিত্তিক নেতা এনসিপিতে তাদের অধীনস্তদের কৌশলে ভিঁড়ানোর চেষ্টাও করছেন বলে অভিযোগ। তাদের টার্গেট ফতুল্লা অঞ্চলের ঝুট,তেল,ঘাটসহ বিভিন্ন সেক্টরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে রাখা। ঈদের আগেই বিভিন্ন সেক্টরে যে কোনো সময় বড় ধরনের অরাজকতার আশংকা করছে অনেকে। তবে সাংসদ আল আমিন সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে থাকার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তিনি যদি এতে দৃঢ় না থাকেন তাহলে প্রতিটি সেক্টরেই বিশৃঙ্খলা লেগে যাবে ঈদের আগেই। এতে করে এনসিপি যেমন বিতর্কের মধ্যে পড়ে যাবে সেই সাথে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সন্ত্রাসীর জনপদের তকমা আরো গাঢ়ো হবে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দুর্বৃত্তায়নে ঘেরা। এই তকমা একদিনে লাগেনি। এখান থেকে বেড়িয়ে আসতে অনেক সাংসদ বড় কথা বল্লেও পড়ে তিনি তার অবস্থানে শেষ পর্যন্ত ঠিক থাকতে পারেনি। ১৯৯৬ সাল থেকে অধ্যবধি যারাই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তারাই গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব বলয়। আর এই বলয়ের মাধ্যমেই তারা গড়ে তুলেছিলেন কলো টাকার পাহাড়। গড়ে তুলেছিলেন সন্ত্রাসী বাহিনী। এই বাহিনীর মূল টার্গেট ছিলো ফতুল্লার বিসিক থেকে ঝুট সন্ত্রাসী করা,অবৈধ চোরাই তেল সেক্টরে নৈরাজ্য করে পরিবেশ অশান্ত করে রাখা। বিভিন্ন নৌ-ট্রলারঘাট নিজেদের কব্জায় রেখে অবৈধ পন্থায় টাকা আয় করা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে থেকে জয়যুক্ত হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত এনসিপির আব্দুল্লাহ আল আমিন। নতুন দল হিসেবে ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে তেমন কর্মী সমর্থক নেই দলটির। নতুন সাংসদের কাঁধে ভর করে এলাকা ভিত্তিক অনেক ব্যক্তি বিশেষ করে বিসিক ও ফতুল্লাতে নানা ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির নীল নকশা করেছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এতিমধ্যে বেশ কিছু গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর মালিককে এনসিপির কর্মী পরিচয়ে ঝুট সেক্টরে তাদের নয়া অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন। এতে করে ক্ষতমাসীন অনেক নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী ফতুল্লায় এনসিপি কর্মীদের মধ্যে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে মতবিরোধ বা একে অপরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ এনে মামলাও দায়ের করেছেন।
এবিষয়ে ফতুল্লার জনসাধারণ জানান, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হয়েছে সেই দৃশ্য তারা আর দেখতে চায়না। এলাকা ভিত্তিক নয়া সন্ত্রাসী যাতে সৃষ্টি হতে না পারে সেদিকেও বিশেষ খেয়াল রাথতে হবে নবাগত সাংসদকে। তিনি যদি কোনো কারনে তার দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাড়ান, তাহলে এই অঞ্চলে বড় ধরনের দূর্ঘটনারও আশংকা করছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন,৫ আগষ্টের পর যারা মাঠে ছিলো না,তারাও এখন এনসিপির কর্মী পরিচয় দিয়ে অন্য রকম ভাব সাব নিয়ে এলাকায় ঘুরা ফেরা করছে। কেউ কেউ নিজেকে এনসিপির অনেক বড় নেতা হিসেবেও জাহির করতে চাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতি হলে বিএনপি অধ্যুষিত ফতুল্লা অঞ্চলে এনসিপির সাথে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।


