ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে
ফতুল্লায় যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ২
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
ফতুল্লায় ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ফতুল্লায় ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের শাসনগাঁও চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, গুলিবিদ্ধ ইমরান (১১), রাকিব (২৩) এবং রফিক (৪০)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট’ নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে যুবদলের একটি গ্রুপের সঙ্গে যুবদলের আরেকটি গ্রুপের সংঘর্ষ বাধে।একটি গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন অভি-মানিক গ্রুপ ও অপর গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন যুবদল আহবায়ক মাসুদ-খোকা গ্রুপ।
অভি-মানিক গ্রুপের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা সারজিল আহমেদ অভি, এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম জসিম, যুবদল নেতা শরীফ হোসেন মানিক ও রতন ওরফে বডি রতন। অপরগ্রুপের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদ, এনায়েতপুর ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খোকা,এনায়েত নগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুমন মাহবুব। এসময় অভি-মানিক অনুসারীরা হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং গুলিবর্ষণ করে। এতে শিশু ইমরান ও আরেক যুবক রাকিব গুলিবিদ্ধ হন এবং ককটেলের আঘাতে রফিক আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালীন অভি গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় এনায়েতনগর ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব ও পথচারী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ইমরান গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে দু’জনকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চাঁদনী হাউজিং এলাকার বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষের সময় অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলিতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জীবন রক্ষায় সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা যুবদলের প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় সারজিল আহমেদ অভি এলাকায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। ঝুট ব্যবসা ও এলাকা নিয়ন্ত্রণে তার বাহিনী নিয়মিত মহড়া দিচ্ছে। এর আগেও তার নেতৃত্বে একই এলাকায় অবস্থিত মাদার কালার নামের অপর একটি গার্মেন্ট এর ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে ভাংচুর করা হয়েছিল।
এনায়েত নগর ইউনিয়ন ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকা জানান, ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক হাজী মাসুদুর রহমান মাসুদের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া অভি, মনির, সুমন, জসিম,প্রান্ত,মানিকসহ ২০-৩০জন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
অপর গ্রুপের ভাষ্য, ’সরকার পতনের পর থেকেই এই ফ্যাক্টরী থেকে আমরা ওয়েস্টিজ মাল নামাই,তবে আজ যুবদলের অন্য একটি গ্রুপ এখানে চাঁদা দাবি করেছে।এতে করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুটে মালামাল নিয়ে বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনা পরবর্তী আইনী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এবিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি জানান, ‘কারখানাটি থেকে আজ ঝুট নামার কথা ছিল। কারখানাটি থেকে যারা বৈধভাবে ঝুট নামাচ্ছিলেন, তাদের উপর হামলা চালানো হয়। তবে ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, পুরোটা ব্যবসায়িক। আর এতে আমি কোনোভাবে জড়িত নই, আমি ঘুম থেকে উঠে ঘটনাটি জেনেছি।’


