শুভ হত্যার ঘটনায় রানার সংশ্লিষ্টতা সংসদে উপস্থাপন করলেন এমপি আল-আমিন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
শুভ হত্যার ঘটনায় রানার সংশ্লিষ্টতা সংসদে উপস্থাপন করলেন এমপি আল-আমিন
নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানা ওরফে ভাগ্নে রানা। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর নারায়ণগঞ্জ শহরে এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেন রানা। এছাড়া একের পর এক অপকর্ম করতে করতে দুর্ধর্ষ হয়ে উঠেন রানা। মূলত, নারায়ণগঞ্জের ক্রসফায়ারে নিহত নারায়ণগঞ্জ শহরের এক সময়ের দুর্ধর্ষ মমিনুল্লাহ ডেভিডের আপন ভাগিনা হন রানা। বিএনপির শাসন আমল আসলেই গর্জে উঠতেন ডেভিড পরিবার এবং তার অনুসারীরা।
কিন্তু রানা শুভ অপহরণ মামলায় প্রধান আসামী এখনো হত্যা মামলায় তাকে আসামী না করলেও ৫এপ্্িরল শুভর লাশ শনাক্ত পর্যন্ত শহরজুড়ে প্রকাশ্যে ছিলেন রানা। শুভর লাশ শনাক্তের পর রানা আত্মগোপনে চলে যান। সেই সময় থেকেই পুলিশ বরাবরই আশ্বস্ত করে আসছেন তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন আসামীদের গ্রেফতার করা হবে। কিন্তু শুভর লাশ শনাক্তের পর একজন আসামীকে গ্রেফতার করেছেন। এদিকে শুভর লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়ায় শুভর মৃত্যুর রহস্য জানতে ময়নাতদন্তের বিষয়েও এখনো প্রশাসন কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। এদিকে শুভর লাশ শনাক্তের পর প্রধান আসামী রানা আত্মগোপনে চলে গেলেও সন্দেহ করা হচ্ছে দেশত্যাগ করেছেন রানা।
কারণ রানা বিভিন্ন সময়ে দেশের বাহিরে অবস্থান করেছেন সেই সাথে ধারণা করা হচ্ছে তার দ্বৈত নাগরিত্বও থাকতে পারে। যার কারণে প্রশাসনের গাফলতির সুযোগে প্রধান আসামী রানাকে নিয়ে দেশত্যাগের সন্দেহ। শুভ হত্যার সূত্রপাত ঘটে গত ২৫ মার্চ শুভর নেতৃত্বে তাঁর বাহিনীর সদস্যরা ফতুল্লার চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার গ্যারেজ দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালান। সেই ঘটনার জের ধরে ২৯ মার্চ শুভর ওপর পাল্টা হামলা চালায় রানা ও তাঁর অনুসারীরা। সেদিনই শুভকে মারধর শেষে ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন ২১ বছর বয়সী যুবক শুভ।
বৃহস্পতিবার (২এপ্রিল) বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানায় শুভ অপহরণের মামলা করেন শুভর পরিবার। মামলার প্রধান আসামি করা হয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে (৫১)। অন্যান্য আশামীরা হচ্ছেন কাশেম (৪৫), সাব্বির (২১), শাকিল (২৮), পাপ্পু (৪০), মো. আলী মিয়া (৩৮), জাহিদ (৩৫), রাজ্জাক (৫০), ওয়াসিম (২৩) ও লাল শুভ (২০)। তাঁদের মধ্যে সাব্বির, রাজ্জাক ও ওয়াসিম,লাল শুভকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৪জন গ্রেফতার হলেও এখনো গ্রেফতার হয়নি প্রধান আসামি শাখাওয়াত ইসলাম রানা।
এদিকে অপহরণের মামলা ভিন্নখাতে প্রভাহিত করে প্রধান আসামি রানাকে সেইফ করার বহু নাটকীয়তার প্রক্কালেই রোববার ৫এপ্রিল সকালে শুভর পরিবারের লোকজন পুলিশের মোবাইলে তোলা লাশের ছবি দেখে তা শুভর লাশ শনাক্ত করেন বাবা সোহেল ও মা মাকসুদা বেগম। অথচ,শুভ অপহরণের পর ৩০ মার্চ সকালেই মরদেহটি উদ্ধার হয় ফতুল্লা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকায়। তবে, তখন আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় তথ্য বাতায়নে পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবেই ৩১ মার্চ রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়।
এদিকে লাশ শনাক্তের পর থেকেই প্রকাশ্যে থাকা প্রধান আসামী রানা আত্মগোপনে চলে যান। এরআগেও শহরজুড়ে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন রানা। শুভর লাশ শনাক্তের পর রানার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, এ অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে তিনি কোন ভাবে সম্পৃক্ত নন এবং শুভকে তিনি চিনেন না জানেন না এবং কখনো দেখেননি। এছাড়া এই ঘটনায় কিভাবে সে অপহরণ হয়েছে মারা গিয়েছেন সেটাও তিনি বোধগম্য নন। কিন্তু তিনি দাবি করেন,যেহেতু তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাকে এই ঘটনার সাথে জড়ানো হয়েছে তাই তিনি আইনী ভাবে লড়াই চালাবেন। এছাড়া এই ঘটনার যেন সুস্থ তদন্ত হয়।


