ফতুল্লায় ঝুট নিয়ে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধের ঘটনায়
মামলা হয়নি, গ্রেফতারও নেই, আতঙ্কে ফতুল্লাবাসী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
ঝুট নিয়ে সংঘর্ষে ঘটনায় মামলা হয়নি, গ্রেফতারও নেই, আতঙ্কে ফতুল্লাবাসী
# অভিযান চালানো হয়েছে, কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি: এডি.এসপি তারেক আল মেহেদী
ফতুল্লার চাঁদনি হাউজিং এলাকায় ঝুট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া ও গুলিবর্ষণের এই ঘটনায় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ অন্তত দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে ইমরান নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার ভয়াবহতা ও প্রকাশ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এত বড় একটি সংঘর্ষের ঘটনায় যদি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করেই একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় কিছু ব্যক্তি প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভয়ের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নিরব ভূমিকার কারণেই এসব সন্ত্রাসী চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, গুলিবর্ষণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার মতো ঘটনা ঘটার পরও যদি দ্রুত গ্রেফতার ও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে পুরো ফতুল্লা এলাকায় এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী যুগের চিন্তাকে জানান, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশ রাতভর অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ মামলা দায়ের করেনি। তবে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা না হলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে তারা এ ধরনের সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


