এক মাসের ব্যবধানে ছেলে শুভ’র পর মায়ের মৃত্যু
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
নারায়ণগঞ্জে আলোচিত শুভ হত্যাকান্ডের প্রায় এক মাসের ব্যবধানে রহস্যজনকভাবে তাঁর মা মাকসুদা বেগমের (৩৯) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ফতুল্লার স্টেডিয়াম এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটে মাকসুদা বেগমের। ছেলে শুভ হত্যার বিচারের দাবিতে প্রথম থেকেই প্রতিবাদী ছিলেন মা মাকসুদা বেগম।
গতকাল শনিবার (২ মে) আনুমানিক বেলা ৩ টার দিকে ফতুল্লার স্টেডিয়াম এলাকা দিয়ে অটোযোগে বাড়ি ফেরার পথে অটোর সাথে কাপড় পেঁচিয়ে মৃত্যু ঘটে মাকসুদা বেগমের। এমনটাই নিশ্চিত করেছেন নিহতের স্বামী সোহেল। ইতিমধ্যেই মাকসুদা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘বিকেল ৩টার দিকে অটোযোগে ফিরছিলেন মাকসুদা এরমধ্যেই কাঁপড় পেঁচিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন মাকসুদা বেগত, পরবর্তীতে তিনি মারা যান। ইতিমধ্যেই আমরা তার দাফন কাজও সম্পন্ন করেছি।’
শুভ অপহরণের পর মা মাকসুদা বেগমই বাদী হয়ে প্রথমে ফতুল্লা থানায় অপহরণ মামলা করেছিলেন। সেই সাথে ছেলে শুভর লাশ পাওয়া গেলে ছেলে হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানার নাম উল্লেখ করে বিচার দাবি করেন তিনি। এদিকে গত ৩০ এপ্রিল যুগের চিন্তার প্রতিবেদককে সাথে হলে মাকসুদা বেগম জানান, ‘ছেলে শুভ হত্যার একমাস পূর্ণ হয়েছে তারপরও শুভ হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় কোন প্রকার গতি না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আক্ষেপ জানিয়েছিলেন তিনি।
গত ৩০ এপ্রিল শুভ অপহরণ ও হত্যা মামলার বাদী শুভ’র মা মাকসুদা যুগের চিন্তাকে জানিয়েছিলেন, ‘প্রথমে সকলেই আমার ছেলে হত্যার পর সহনাভূতি দেখালেও ধীরে ধীরে কেন যেন সকলের মুখই বন্ধ হয়ে গেল এবং আমার ছেলে হত্যার ঘটনায় বিচার কার্যের বিষয় নিয়ে প্রশাসন থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ে নীরব ভূমিকায় চলে গিয়েছে। তাই আমিও নীরব। প্রশাসন ময়না তদন্তের রিপোর্টটা দিচ্ছেনা। আমাদের সাথে প্রশাসন বিভিন্ন তালবাহানা করে যাচ্ছে রিপোর্টটির বিষয়ে।
এদিকে গত ২৫ মার্চ শুভর নেতৃত্বে তাঁর বাহিনীর সদস্যরা ফতুল্লার চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার গ্যারেজ দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালান। সেই ঘটনার জের ধরে ২৯ মার্চ শুভর ওপর পাল্টা হামলা চালায় রানা ও তাঁর অনুসারীরা। সেদিনই শুভকে মারধর শেষে ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন ২১ বছর বয়সী যুবক শুভ। সে পূর্ব ইসদাইর রসুলবাগের ঝুট ব্যবসায়ী মো. সোহেলের ছেলে। ২ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানায় শুভ অপহরণের মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানা (৫১), কাশেম (৪৫), সাব্বির (২১), শাকিল (২৮), পাপ্পু (৪০), মো. আলী মিয়া (৩৮), জাহিদ (৩৫), রাজ্জাক (৫০), ওয়াসিম (২৩) ও লাল শুভ (২০)। তাঁদের মধ্যে সাব্বির, রাজ্জাক,ওয়াসিম,লাল শুভ, জাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৫ এপ্রিল সকালে শুভর পরিবারের লোকজন পুলিশের মোবাইলে তোলা লাশের ছবি দেখে তা শুভর লাশ শনাক্ত করেন বাবা সোহেল ও মা মাকসুদা বেগম।
শুভ অপহরণের পর ৩০ মার্চ সকালেই মরদেহটি উদ্ধার হয় ফতুল্লা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকায়। তবে, তখন আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় তথ্য বাতায়নে পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবেই ৩১ মার্চ রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। এই ঘটনার এক মাসের ব্যবধানে রহস্যজনকভাবে শুভর মা মাকসুদা বেগম ফতুল্লার স্টেডিয়াম এলাকায় অটোযোগে ফেরার পথে অটোর সাথে কাপড় পেঁচিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।


