ভিক্টোরিয়ার অনিয়মে তোলপাড়, তিনশ’ শয্যা হাসপাতাল নিয়ে নীরব
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
ভিক্টোরিয়ার অনিয়মে তোলপাড়, তিনশ’ শয্যা হাসপাতাল নিয়ে নীরব
নারায়ণগঞ্জের নগরীর সরকারি তিনশ’ শয্যা হাসপাতাল- জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের অনিয়মের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকে। তার মাঝে চিকিৎসায় অবহেলা, নোংরা পরিবেশ, দালাল চক্র, কমিশন বাণিজ্যের মত অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা ও নোংরা পরিবেশ দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো.সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতাল পরিদর্শনকালে কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, রান্নাঘর ও টয়লেটের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে তিনি জেলা সিভিল সার্জন ডা.এএফএম মুশিউর রহমানের প্রতি উষ্মাও প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে তিনদিনের সময় বেঁধে দেন।
এদিকে এই অবস্থায় থাকার অভিযোগ রয়েছে নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের পরিবেশ। সেখানে নোংরা পরিবেশ, ডাক্তারদের রোগী দেখাতে অবহেলা, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নতুন কিছু নয়। এছাড়া হাসপাতালের কর্তা থেকে শুরু করে, ডাক্তার, কম্পিউটার অপারেটরদের কমিশন বাণিজ্য হরহামেশায় চলে।
অপরদিকে দালালদের খপ্পরে অনেক ভুক্তভোগিকে অতিরিক্ত টাকা খোয়ানোর অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে একাধিক নারী-পুরুষ দালাল রোগী ভাগিয়ে নিতে তৎপর থাকে। তারই ধারা বাহিকতায় বিভিন্ন সময় প্রশাসনের লোকজন অভিযান পরিচালনা করে শহরের এই হাসপাতাল থেকে দালালদের আটক করে কারা দন্ডে দন্ডিত করা হলেও দালালদের সরানো যায় না। তারা ঘুরে ফিরে আবার আসে।
শহরে ৩শ’ শয্যা হাসপাতাল-ভিক্টোরিয়া হাসপাতালেও দালালদের থেকে রক্ষা পান না ভুক্তভোগী রোগিরা। ডাক্তারের নিকট রোগী আসা মাত্র এক শ্রেনীর দালালরা তাদেরকে ডেকে নিয়ে ডাক্তারদের রুমের সামনে নিয়ে যায়। পরে ডাক্তার দেখিয়ে বের হলে তাদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে দেখে কি পরীক্ষা নিরীক্ষা দিছে তা দেখেন। রোগীর পরীক্ষা গুলো তাদের ক্লিনিকে নিয়ে যায়। আর ক্লিনিক থেকে তারা কমিশন পেয়ে থাকে।
নগরীরর সরকারি দুই হাসপাতালের সামনে এবং আশপাশ এলাকায় গড়ে উঠেছে ১ থেকে দেড়শ’ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংকট ও চিকিৎসাসেবার অব্যবস্থাপনার সুযোগে দালালরা রোগীদের নিয়ে যায় ক্লিনিকে। কতিপয় চিকিৎসকও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে কমিশনের বিনিময়ে পাঠাচ্ছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। রোগীরা বাধ্য হয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ছুটছেন।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগিদের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। সেই সাথে খাবারের মান নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ভুক্তভোগি রোগি সহ অভিভাবক মহলের। অভিযোগ রয়েছে ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ মুক্তা ও সোহেল। তাদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। কেননা খানপুর হাসপাতালের পাশেই তাদের নিজেদের ক্লিনিক রয়েছে।
এছাড়া নগরীর এলাকায় গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চলছে চিকিৎসার নামে কমিশন বাণিজ্য। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও দালালদের কমিশন বাণিজ্যের কারণে জমজমাট হয়ে উঠেছে ক্লিনিক ও প্যাথলজি ব্যবসা। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের প্রয়োজন ছাড়াই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাপত্র ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বলে দেওয়া হচ্ছে, কোন প্রতিষ্ঠানে এসব পরীক্ষা করাতে হবে।
অন্য প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে চিকিৎসকরা রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও বকাঝকা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রোগীরা নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের নানা অনিয়ম তিন দিনের মাঝে ঠিক করার নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কিন্তু খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে তেমন কোন আওয়াজ নেই। এই হাসপাতালের কর্তারা যেন দোয়া তুলষি পাতা। অথচ তাদের অনিয়ম নিয়ে সকলেই নিরব ভুমিকায় রয়েছেন।
খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক আবুল বাশারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


