Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ইমামসহ ছয় জনের নামে মামলা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ইমামসহ ছয় জনের নামে মামলা

যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ইমামসহ ছয় জনের নামে মামলা

Swapno



ফতুল্লায় ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে যুবক সিজানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা শিল্পী বেগম।  গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) ফতুল্লা মডেল থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৪/১৫ জনকে আসামি করে তিনি মামলা দায়ের করেন।  আসামিরা হলেন, আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি এবং মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদ কাশেমী (৪০), আব্দুল গণি হুজুর (৫০), রাজমিস্ত্রী আজবার (৫০), সাইদুল (৪২), আলম (৩৮), জিলানী ফকির (৫৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম।


তিনি জানান, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’  এজহারে নিহত সিজানের মা উল্লেখ করেন, তাঁর ছোট ছেলে সিজান (২৫) অসৎ সঙ্গের সাথে মিশে খারাপ পথে ধাবিত হন।  ভাল পথে নিয়ে আসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে নানাভাবে চেষ্টা করা হয় এমনকি তাবলিগেও পাঠানো হয়। এতে সিজানের উন্নতি হয়। একসময় তাঁর বড় ছেলে বাবুর সাথে কাঁচা মালের দোকানে সহযোগিতা করতে থাকেন সিজান।  


গত ৪ জুলাই দুপুর ৩ টার দিকে আসামিরা অনিক (২৮) নামের একজন ছেলেকে মোবাইল চোর সন্দেহে আটক করে পশ্চিম মাসদাইর খলিলের মোড় আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংঘ এর সামনে মারপিট করতে থাকে। এসময় অনিক আমার ছোট ছেলে সিজান এর নাম বললে বিকেল ৪টার সময় ৫নং আসামী আলমসহ আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংঘ এর আরও ৪/৫ জন বাসার সামনে হতে তাঁর ছেলে সিজানকে ডেকে নিয়ে আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংঘ এর সামনে নিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে।


একপর্যায়ে আসামিরা আমার ছোট ছেলে সিজান ও অনিক দুইজনকে আল ফালাহ সমাজ কল্যান সংঘ এর পাশের বৈদ্যুতিক পিলারের সাথে রশি দ্বার বেঁধে স্টিলের পাইপ দিয়ে সিজানকে পেটায়। মারধরের সময়জোরে কান্না-কাটি ও ডাক-চিৎকার করত থাকলে আসামীরা সিজান এর মাথাসহ চোখ-মুখ কালো কাপড় দ্বারা বেঁধে উপর্যপুরি স্টিলের পাইপ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।  খবর পেয়ে সিজানের মা ঘটনাস্থলে গিয়ে মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদ কাশেমীর কাছে অনুনয় বিনয় করে তাঁর ছেলেকে মারতে নিষেধ করেন এবং ছেড়ে দিতে বলেন।


এতে ইমাম কাওছার তাঁর প্রতি রাগান্বিত হয় এবং তাঁর সামনেই ছেলে সিজানকে উপর্যপুরী পিটিয়ে অচেতন করে ফেলে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুরুতর জখম অবস্থায় সিজানকে তাঁর নিকট বুঝিয়ে দেয়। রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) নিয়া গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিজানকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে ৪ জুলাই পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে বেধড়ক পিটুনিতে সিজানের মৃত্যুও পর  স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংগঠক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদকে দায়ী করেন সিজানের বাবা ইউনুছ ওরফে ইনু মিয়া।


অভিযুক্ত মসজিদের ইমাম কাউছারের তখন দাবি করেন, সিজানের বিরুদ্ধে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। তাকে বাসা থেকে আনা হয়েছিল বোঝানোর জন্য, যাতে সে খারাপ কাজ ছেড়ে দেয়। তবে ওই সময় কিছু উত্তেজিত লোকজন তাকে পিটুনি দেয়। তার দাবি, যারা পিটুনি দিয়েছে তারা তার লোক নয়। তবে  ৫ জুলাই ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কাওছার আহমেদকে বলতে শোনা যায়, যার কাছে যা আছে তা নিয়ে নেমে যেতে হবে। ঐক্য থাকলে, বাংলাদেশের প্রশাসন কি, কোনো কুত্তায়ও আমাদের কিছু করতে পারবো না।


পাবলিক যদি কোনো কুত্তার মেরে ফেলে তাহলে কি অন্যায় হবে? ইনশাল্লাহ কোনো মামলা হামলা কিচ্ছু হবে না। এভাবে সবাই এক থাকবেন।’ ঘটনার পর ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, “কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন