নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রস্তাবিত নতুন সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সদর উপজেলার ফতুল্লা, কাশীপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে আরেক দিকে ক্ষোভ দেখিয়ে সুবিধা নিতে চাইছেন আরেক পক্ষ। এদিকে প্রশাসনের প্রস্তাবে কুতুবপুর ইউনিয়নকে সম্পূর্ণভাবে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার কথা বলা হলেও ফতুল্লা, কাশীপুর ও এনায়েতনগরের কেবল আংশিক এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এতে বাদ পড়া এলাকার বাসিন্দারা চারটি ইউনিয়নের পুরো অংশই সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। কিছু সাধু চেয়ারম্যান প্রার্থীরা এই দাবির বিপক্ষে আগের মতো ইউনিয়ন হিসেবেই চাইছেন সব। যা ঘিরে ফতুল্লায় শুরু হয়েছে দ্বিমুখী আচরণ। আরেক তৃমুখী পক্ষ চাচ্ছেন পুরো ফতুল্লা সিটির আওতায় আসুক আর ফতুল্লাকে সিটিতে না নিয়ে পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হোক। ইতিমধ্যে বিভিন্নমত নিয়ে গণস্বাক্ষর ইতিমধ্যে চলছে।
স্থানীয় এক পক্ষের অভিযোগ, এ ধরনের খণ্ডিত সীমানা নির্ধারণ কোনো সুপরিকল্পিত নগরায়ণের উদাহরণ নয়; বরং এটি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তামাশা করার শামিল। অন্যপক্ষ বলছে, সিটি কর্পোরেশন এমনিতে বর্তমানের ২৭টি ওয়ার্ডই নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন এরই মধ্যে নাসিক আরো বড় হলে কাঙ্খিত সেবা বঞ্চিত হবে সাধারণ জনগণ। এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৭ জুলাই প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে কুতুবপুর ইউনিয়নের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ এলাকা নাসিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কিন্তু একই সঙ্গে ফতুল্লা, কাশীপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে ভিন্ন নীতি। এসব ইউনিয়নের কেবল নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা আংশিক এলাকা অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই বাদ পড়া এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। আরেকটি মহল পৌরসভা চাইতে চাইতে মুখে ফ্যানা তুলছেন। যাকে ঘিরে নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণে বাড়ছে উত্তেজনা।
বিশ্লেষক মহল বলছে, সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বাড়া কেবল আয়তনে বৃদ্ধির ব্যাপার নয়, ভোটারের পাশাপাশি নতুন এলাকা সংযুক্ত হওয়াতে সেই এলাকার রাজনৈতিক আধিপত্য, সামাজিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এতদিন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য সদর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জের তথা নারায়ণগঞ্জ মহানগরের রাজনীতির হাওয়ার খবর রাখাটাই ছিল জরুরি। এবার কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ যুক্ত হওয়াতে সেখানের স্থানীয় রাজনীতির একটি বড় অংশই মহানগরের বাইরে, ফলে নতুন এলাকা নতুনভাবে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করবে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মত অনেকের।
স্থানীয় একপক্ষের ভাষ্য, যখন একটি ইউনিয়ন সম্পূর্ণভাবে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে, তখন পাশের ইউনিয়নের একই ধরনের জনবসতি ও নগরায়িত এলাকাকে টুকরো টুকরো করে বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা কী এই প্রশ্নের কোনো উত্তর প্রশাসন দেয়নি। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে এনায়েতনগর ইউনিয়ন নিয়ে। গণবিজ্ঞপ্তিতে ৮ নম্বর ওয়ার্ডকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব থাকলেও পাশের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে ফতুল্লা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কেবল একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, অথচ একই ওয়ার্ডের অপর অংশ আগের মতোই ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে থাকবে। এ ধরনের সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, একই ওয়ার্ডের একাংশ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আর অন্য অংশ ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে থাকলে প্রশাসনিক কার্যক্রম, নাগরিক সেবা, কর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হবে।
এদিকে বর্তমানে বিএনপির একাধিক নেতা কাশীপুর, ফতুল্লা ইউনিয়ন, এনায়েতনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনা দেখাচ্ছেন। এমতা অবস্থায় নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণে ইউনিয়নগুলোর একাংশ আওতায় আশার নোটিশে নাখোশ সেই পক্ষ। বর্তমানে এক পক্ষ চাইছেন পুরোই ফতুল্লা সিটি এলাকার আওতায় আসুক আরেক পক্ষ জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সিটি কর্পোরেশনের বাহিরে ইউনিয়নই রাখতে চাইছেন। সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতের পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সমন্বিত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হলে চারটি ইউনিয়নের পুরো এলাকাকেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। অন্যথায় প্রশাসনিক জটিলতা ও বৈষম্য তৈরী হবে এই অঞ্চলগুলোতে। যাকে ঘিরে ফতুল্লাবাসীর আবেদন যারা ট্যাক্সসহ নানা সমস্যা দেখিয়ে ভূল বাঝানোর চেষ্টা করলে ও ফতুল্লাকে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় চায় পুরো ফতুল্লাবাসী।