পিস্তল রবিন-গোলজার সোহেলের পেছনে কে?
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
পিস্তল রবিন-গোলজার সোহেলের পেছনে কে?
ফতুল্লার কুতুবআইল, কাঠেরপুল, রামারবাগ এলাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী খালিদ হাসান রবিন ওরফে পিস্তল রবিন ও ইয়াবা সোহেলে আতঙ্ক বাড়ছে। এই দুই কুখ্যাত সন্ত্রাসী এলাকায় একক আধিপত্য, মাদক ব্যবসা ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। বিগত সময় এই খালিদ হাসান রবিন ও সোহেল খন্দকার ফতুল্লার যুবলীগ নেতা আজমত ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজামের অনুসারী ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তাদের প্রভাব বিস্তার করে কাঠেরপুল এলাকায় গড়ে তুলেছিলো মাদকের বিশাল সম্রাজ্য।
হাসিনা সকার পতনের পরে কিছুদিন গাঁ ঢাকা দিলেও বর্তমানে জেলা বিএনপি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির কিছু নেতার ছত্রছায়ায় আবার সেই আগের মাদক সম্রাজ্য গড়ে তুলেছে রবিন ও সোহেল। বর্তমানে নিজেকে তরুণ দলের নেতা পরিচয় দিয়ে বিএনপির ছায়ায় পার পাচ্ছেন রবিন অন্যদিকে বাবা সাবেক বিএনপি নেতা অলি মিয়া ও ভাই রুবেল যুবদল নেতা এই সাইনর্বোড দিয়েই এলাকায় অপকর্ম করছেন এই সোহেল। তা ছাড়া ফতুল্লা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতাসহ জেলা যুবদল, জেলা বিএনপির একাংশ তার ছেলেপেলে দিয়ে ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করতে তাকে কাজে লাগাচ্ছেন।কিন্তু বর্তমানে সোহেলের শতাধিক সিসি ক্যামেরায় দেদারসে চলছে মাদক ব্যবসা যা পরিচালনায় কোবরা ইমন, বোল্লা ইমন, সোহাগ সকলেই একত্রিত।
বর্তমানে কাঠেরপুল ও রামারবাগ এলাকায় পুলিশের একাধিক অভিযানে রবিন পলাতক থাকলে ও তার পেছনে থাকা শেল্টারদাতারা প্রকাশ্যে রয়েছে। তা ছাড়া রবিনের সহযোগী রামারবাগের গিট্টু বর্তমানে রবিনের মাদকের স্পট পরিচালনা করছেন। গত ২৫ জুলাই বিকালে পুলিশ রবিনের সহযোগী রামারবাগের গিট্টু বাহিনীর আস্তানায় অভিযান দিয়ে দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে গোলজার বাহিনীর ছায়ায় বেপারোয়া হয়ে উঠছে এই রবিন বাহিনী।
থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক এসকে শাহীনের কায়েমপুরের অফিসে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে এসকে শাহীনের অফিসে একাধিক গুলিবর্ষণ করে কয়েকশত সদস্যের কিশোরগ্যাং নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে রবিন গংদের বিরুদ্ধে। এদিকে খালিদ হাসান ওরফে রবিনের মাদক ব্যবসা শুরু ২০১০ সালের দিকে। তবে প্রথম মামলা হয় ২০১৩ সালে। ওই বছর ১৫ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে। যেটির নম্বর- ৩২। ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল আরো একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়। যার নম্বর-৮০।
এছাড়া ২০২২ সালের ১৩ জুন ঢাকা রমনা থানা পুলিশের কাছে মাদক সহ গ্রেপ্তার হন ফতুল্লার এই শীর্ষ মাদক কারবারি। ওই ঘটনায়ও একটি মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে। যার নম্বর- ১৭/১৭৯। ২০২৩ সালের ১০ মে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানা পুলিশের হাতে মাদক সহ গ্রেপ্তার হন রবিন। সে ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর-১২। একই বছর ১৬ আগস্ট ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হাতে মাদক সহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার নম্বর-৪১। ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর ফতুল্লা মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়। যার নম্বর-১১। তা ছাড়া ও একাধিক মাদক মামলা ও অস্ত্র মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গণঅভূত্থানের পর দু'বছর সব সেক্টর ঠিকঠাক চললেও সম্প্রতি তাদের ঐক্যে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোন সময় ঝুট সেক্টর, মাদক সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফতুল্লার কুতুবআইল, কাঠেরপুল, রামারবাগ এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে ধারণা করছে এলাকাবাসী। তা ছাড়া ফতুল্লার কাঠেরপুলস্থ মেট্রো গার্মেন্টস, লিবার্টি গার্মেন্টস, টাইম সোয়েটার ও মিশর সহ অন্তত ১০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরাসরি সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারীদের হস্তক্ষেপ হয় ৫ আগস্টের পর। বেশ কয়েকটি গ্রুপ সংঘবদ্ধভাবে ঝুট সেক্টর, প্রতিষ্ঠানগুলোতে খাবার দেওয়া থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরণের অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইলে এক সময় তাদের মধ্যে বনিবনা হয় এবং একাধিক গ্রুপের নেতৃত্বে চলে আসে কথিত বিএনপি নেতা অলি আহম্মেদের পুত্র সোহেল খন্দকার।
যার বিরুদ্ধে মাদক কারবার সহ বিভিন্ন অপরাধের ১৫ মামলা রয়েছে। থানা সূত্রে জানা গেছে। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে আজমতের হয়ে সবচেয়ে বড় মিছিল-মিটিংয়ের নেতৃত্ব দেওয়া সোহেল ছিল ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারী। নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির হাতে বিপুল পরিমাণ গাঁজা- ফেন্সিডিল এমনকি মিন্টো রোড'র ডিবি পুলিশের হাতে এক মন গাঁজা সহ গ্রেপ্তারের খবরও রয়েছে সোহেলের বিরুদ্ধে। মূলত, এলাকার কিশোরগ্যাং নিয়ন্ত্রণ করার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে চার থেকে পাঁচশ' যুবক-তরুণ হাজির করতে পারাই সোহেলের মূল শক্তি।
ঠিক এই কারণেই ওই এলাকার সোহেলের বিরুদ্ধে সকলে কথা বলতে ভয় পায় বলে জানা গেছে। অনুসন্ধান বলছে, ফতুল্লার বৃহত্তর কুতুবআইল, কাঠেরপুল ও রামারবাগ এলাকায় মাদকের বিশাল সাপ্লায়ার আওয়ামী দোসর সোহেল। যার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে মাদক কার্যক্রমের সব পরিচালনা করে থাকে ইমন ওরফে কোবরা ইমন। এই কোবরা ইমনের নেতৃত্বে অন্তত ২০০ যুবকের একটি গ্যাং দিয়ে এলাকায় অপকর্মের পাহাড় বনে তুলেছেন।


