সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে অনীহা এমপি মান্নানের
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে অনীহা এমপি মান্নানের
প্রথমবারের মত নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন আজহারুল ইসলাম মান্নান। আসনটি দীর্ঘদিন সোনারগাঁ নিয়ে গঠিত থাকলেও সীমানা জটিলতা কারণে জাতীয় নির্বাচনের সন্নিকটে আসলেই আসনটি সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হলে সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে অগ্রনী ভূমিকা রাখেন।
এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরই সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আকস্মিকভাবে মুখ ফিরিয়ে নেন মান্নান। তবে সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মীরা এমপি মান্নানকে সিদ্ধিরগঞ্জমুখী করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয়কে এমপি কার্যালয় রূপান্তিত করে জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন এবং অফিসটি উদ্বোধন করান।
সেসময় এমপি মান্নান সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন সাপ্তাহে একদিন হলেও সিদ্ধিরগঞ্জে অফিস করবেন। তবে সেই কথা আর কাজে মিল পাওয়া যায়নি মাসেও সিদ্ধিরগঞ্জে দেখা মিলে না এমপি মান্নানের। যার কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সিদ্ধিরগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফুঁসছে।
প্রধান ফটকের ওপরে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা’ লেখা সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল। কার্যালয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের ছবি টাঙানো ছিল। পরবর্তীতে গত ২০জুন জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করার নামে কৌশলে সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা এমপি মান্নানকে অফিসটি ফের উদ্বোধন করান।
কিন্তু সেসময় এমপি মান্নান বক্তব্য বলেছিলেন সাপ্তাহ একদিন হলেও এই অফিস থেকে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে সময় দিবেন। সেই কথা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকেছেন এমপি সাপ্তাহ অতিক্রম করে মাসেও দেখা পায় না সিদ্ধিরগঞ্জবাসী মান্নানের। তবে ২০জুন এমপি মান্নানের ঘোষণার পর ২১জুন পুত্র সজীব আটক হন। পরবর্তীতে পুত্র মুচলেকা দিয়ে মুক্ত হন। এই ঘটনার পর এমপি মান্নান দীর্ঘদিন রাজনীতিতে থমকে ছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে আবারও বিতর্কিত পুত্রকে নিয়ে মন্তব্য করে বলেছিলেন সে যুবদল নেতা ছিলেন এর থেকে বড় কিছু হয়ে সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জে ফিরবেন। এদিকে গত ৯আগস্ট খোদ এমপি মান্নান নিজেই বিএনপি রাজনীতি থেকে বহিষ্কৃত পুত্র সজীবকে তার রাজনৈতিক সচিব পদে নিয়োগ দেন। তবে এখন দেখা বিষয় এমপি মান্নান ছেলের উপর রাজনৈতিক ভার দিয়েও কি সিদ্ধিরগঞ্জমুখী হতে পারবেন কিনা।
সিদ্ধিরগঞ্জবাসী এবং ভোটারা এমপি মান্নানকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠালেও সিদ্ধিরগঞ্জের উন্নায়নের জন্য দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম হাতে নিতে পারেননি। অপরদিকে সিদ্ধিরগঞ্জবাসী এমপি মান্নানের সিদ্ধিরগঞ্জে কোন কার্যালয় আছে কিনা সেটা এখনো জানেন না। এছাড়া বিভিন্ন জনদুর্ভোগ নিয়ে এমপির দারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করলে স্থানীয় বাসিন্দারা তিক্ত বিরক্ত হয়ে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়। এর প্রধান কারণই হচ্ছে এমপির দেখা পেতে এমপির আস্থাভাজনদের দারস্থ হতে হয়। তবে সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীরা এমপির জন্য একটি কার্যালয় নির্ধারণ করলেও সেই কার্যালয় এমপি আসবেন বললেও সেই কার্যালয়ে আসেন না এমপি মান্নান। এতে করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এবং বাসিন্দাদের মধ্যে এমপি মান্নানকে নিয়ে ক্ষোভের দানা বাঁধছে।


