Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ইসলামী যুব আন্দোলন নেতা খুনে গ্রেপ্তার ১১, মহাসড়ক অবরোধ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

ইসলামী যুব আন্দোলন নেতা খুনে গ্রেপ্তার ১১, মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী যুব আন্দোলন নেতা খুনে গ্রেপ্তার ১১, মহাসড়ক অবরোধ

Swapno


বন্দর উপজেলায় ইসলামী যুব আন্দোলন নেতা ও চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানসংক্রান্ত মামলার বাদী বুলবুল হত্যা মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার রাতেও মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছিলেন স্থানীয় লোকজন।


শুক্রবার ভোরে বন্দর থানার নবীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে। সিফাত ছাড়াও তার বাহিনীর অন্যতম সদস্য হোয়াইট জুম্মনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শেখ সিফাত (৩২), জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন, মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মো. সিয়াম (২৫), মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) ও সিজান ওরফে জিসান (২৬)। তাদের সবার বাড়ি বন্দর থানার বিভিন্ন এলাকায়। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


এদিকে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন ইসলামী যুব আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা, সড়কে জ্বালানো হয় বাঁশ-কাঠ। দুই পাশে যানবাহন আটকে পড়ায় ব্যাহত হয় চলাচল। পরে পুলিশ গিয়ে কথা বললে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সরে যান আন্দোলনকারীরা, জানান কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ।


নিহত মো. বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর থানা (পশ্চিম) শাখার যুগ্ম সম্পাদক। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নাম্বার ওয়ার্ডের সালেহনগর এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতে শেখ সিফাত গ্রুপের সদস্যরা বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


২০২৪-এর ২০ আগস্ট বন্দর থানায় হওয়া জুলাইসংক্রান্ত মামলার বাদী বুলবুল। আসামির তালিকায় ৬ নাম্বারে আছে অভিযুক্ত শেখ সিফাতের নাম।


ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ বললেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরে মামলা করেন বুলবুল। মামলায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়। এই মামলার জেরেই সালেহনগর এলাকায় সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা বুলবুলের ওপর হামলা চালায়।’


নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মামলার পর থেকেই সেটি তুলে নিতে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন সিফাত ও তার সহযোগীরা।বুলবুলের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার রাতেই বিক্ষোভে নামে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার লোকজন। শেখ সিফাতের স্বজনদের বাড়িঘরে চালানো হয় হামলা। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। ওসি জামাল উদ্দিন গিয়ে আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে তারা সড়ক ছেড়ে চলে যান।  


শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, ‘বন্দরে সিফাত  ও তার সহযোগী হোয়াইট জুম্মন ত্রাসের রাজস্ব গড়ে তুলেছিল। গতকাল যুব আন্দোলন নেতা বুলবুল হত্যার খবর জানার সাথে সাথে ছয় ঘন্টার মধ্যে সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। সাথে চাকু, ছুরি, ওয়াকিটকি উদ্ধার করেছি। সিফাতের বিরুদ্ধে ১১টি ও জুম্মনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। এই দুর্ধর্ষ বাহিনী অপরাধ করেই পালিয়ে যেতো।’

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন