সোনারগাঁয়ে আ.লীগের কুকর্মের মাস্টারমাইন্ড ইঞ্জি.মাসুম সরব
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
সোনারগাঁয়ে আ.লীগের কুকর্মের মাস্টারমাইন্ড ইঞ্জি.মাসুম সরব
সোনারগাঁয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের নামে সকল ইন্ডাষ্ট্রিতে চাঁদাবাজি,সরকারী দপ্তরের টেন্ডারবাজি, ভূমিদুস্যতা, বালু মহাল নিয়ন্ত্রণসহ নারী কেলেঙ্কারি এমন কোন অপকর্ম নেই যেখানে ছিল সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি,পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জি মাসুদুর রহমান মাসুমের। এছাড়া তার পরিবারের রাজাকার তকমা ছিলেন। পরবর্তীতে সোনারগাঁয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের মাধ্যমে অর্থের মাধ্যমে তার পরিবারের রাজাকার তকমা নিশ্চিহ্ন করে দেন।
এসকল অপকর্মের টাকায় সোনারগাঁয়ে নতুন ধারার আওয়ামীলীগের রাজনীতি প্রতিস্থাপন করে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের মাস্টারমাইন্ডার বনে যান। নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিস্থাপনের নেপথ্যের কারণ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমানকে সোনারগাঁয়ের রাজনীতিতে ইন করে সোনারগাঁজুড়ে অর্থের লুটপাটের তাণ্ডব চালান। পাশাপাশি সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি নিজের পছন্দে গঠন করে সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রক বনে যান।
তবে ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগের পতন ঘটলে সোনারগাঁয়ে নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে বাধ্য হন। সেই সাথে চেয়ারম্যান পদ চলে গেলে ফের বিশাল অর্থের বিনিময়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে হজ্জ করার নামে দেশত্যাগ করতে গিয়ে গ্রেফতার হন। কারাবরণ শেষে বের হয়ে ফের আত্মগোপনে রয়েছেন। কিন্তু আওয়ামীলীগ পতনের পর ঢাকার কমলাপুর এলাকার দিকে মাসুমের যাতায়াত দেখা গেলেও বর্তমানে রংপুরে তাঁকে অবস্থান করার নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। যেখানে তার ব্যবসায়িক পার্টিকে নিয়ে রংপুরেও ব্যবসায় মেতে উঠেন।
প্রতিনিয়ত মেঘনা গ্রুপসহ বিভিন্ন কলকারখানা থেকে চাঁদাবাজির বিশাল অর্থ উত্তোলন করে শামীম ওসমানের কাছে টাকার বান্ডিল হস্তান্তর করতেন এই মাসুম। স্থানীয়রা জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকে মাসুম চেয়ারম্যানের। প্রথমবার সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের কাছে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি নৌকা প্রতীক পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। মেঘনা গ্রুপ,বসুন্ধারা গ্রুপ,আল মোস্তফাসহ ওই ইউনিয়নের যেকোনো কোম্পানির জমি ক্রয়-বিক্রয়, বালু ভরাট,ওয়েসস্টিজ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ দখল বাণিজ্যে মেতে ওঠেন মাসুম। তার হুকুম ছাড়া এসব কোম্পানিতে কোনো কাজই হতো না। কয়েক বছরের ব্যবধানে মেঘনা এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, নামে-বেনামে প্রচুর জমি-জমা, একাধিক গাড়িসহ প্রায় হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি।
এর আগে, অবৈধ সম্পদের হিসাব চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে নোটিশ দিয়েছিল। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব অভিযোগ থেকে তিনি মুক্তি পান। সূত্র জানায়, অসহায় কৃষকদের জমি জাল-জালিয়াতি করে হাতিয়ে নিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে জমি চড়া দামে বিক্রি করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন মাসুম। মেঘনা নদীর পাশে সোনাউল্লাহ মৌজায় গোটা একটি চর এভাবে কৃষকদের কাছ থেকে নামমাত্র দামে জোর করে কিনে এখন তিনি সেটা বালু দিয়ে ভরাটের কাজ করেন। পিরোজপুর এলাকার একটি খালও তিনি ভরাট করতে শুরু করেছেন।
এছাড়া মাসুমের বিরুদ্ধে মেঘনা শিল্পাঞ্চল এলাকার একাধিক স্কুলের ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অডিও ভাইরাল হয়েছে। এসব ছাত্রীর অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি মামলাও করতে দেননি। এছাড়া এই নারী কেলেঙ্কারী ঘটনা ডাকতে গিয়ে আওয়ামীলীগের নেতাদের বিশাল অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করেছেন। আওয়ামীলীগ পতনের ৫ই আগস্টের পরও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রণ ছাড়েননি। আর এই নিয়ন্ত্রণ টিকিয়ে রাখতে এখনো সোনারগাঁ আওয়ামীলীগকে দ্বিখন্ডিত করে রেখেছেন মাসুম। কিন্তু বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা এবং হত্যা চেষ্টার একাধিক মামলার আসামী হয়েও এখনো নির্বিঘ্নে আওয়ামীলীগ সুসংগঠিত করার মুখ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়া অধরা থাকতে সরকারী দলের শীর্ষ নেতাদের ম্যানেজ করতে বিশাল অর্থ বিনোয়োগ করছেন মাসুম।


