# মাসে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ টাকার অবৈধ মাটি বিক্রি হয় ইট ভাটায়
ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদীতে গ্রাফের মাধ্যমে অবৈধভাবে নদীর মাটি প্রকাশ্যে উত্তোলন করে স্থানীয় ইট ভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে মাটি কেটে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিএনপির শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান, সহ-সভাপতি রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ এবং যুবদল নেতা আবুল খায়ের ও মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে এ গ্যাব ড্রেজার সিন্ডিকেট।
যাকে ঘিরে গত (২৮ সেপ্টেম্বর) মাটি কাটার ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে বক্তাবলী ইউনিয়নে এনসিপির সাংগঠনিক সভা শেষ করে বের হবার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে। যা নিয়ে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জুবায়ের সরদার অভিযোগ করেছিলেন, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান ও সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে অভিযোগ করলেও মামলায় দেখা যায়নি নজরুল ইসলাম প্রধানের নাম যা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে নানা ঘটনায় মাটি কাটা সিন্ডিকেট ‘টক অব দ্যা’ টাউনে পরিণত হয়েছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া বারোটার দিকে এনসিপি’র যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে: ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ (৪৫), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান (৫০), বক্তাবলী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের (৩০), হালিমের ছোটভাই ইয়াসিন আরাফাত (২৮), নয়ন (২৪), ইমন (২৩), জুয়েল (৩৫), হাসান শরীফ (২৫), শরীফ (২৬), শুভ (২৫), রানা (২৮), ইমরান (২৩), লিটন (২৫), শরিয়ত উল্লাহ (২৭), বিজয় (২৪) ও মাসুম ওরফে মরা মাসুমকে (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বক্তাবলীর ধলেশ্বরী নদীর বিভিন্ন অংশে ড্রেজার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে এসব মাটি বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ও বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে মাটি কাটা নিয়ে বক্তাবলীর গংগানগর এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল আল আমিন নদীতে চাঁদাবাজি ও মাটিকাটা নিয়ে কথা বলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, নদীতে চাঁদাবাজি, মাটিকাটা হলেও নৌ পুলিশের চোখে সেগুলো পড়ে না, তারা ঘুমায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এমপির এমন বক্তব্যের পরও ধলেশ্বরী নদীতে মাটিকাটা বন্ধ হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যের পরও ফতুল্লা থানা বিএনপির এক নেতার প্রভাব বা ছত্রছায়ায় নদী থেকে মাটি উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ভোরের আলো ফোঁটার সাথে সাথেই ধরেশ্বরী নদীর বক্তাবলী অংশে প্রায় দু’টি গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে মাটি উত্তোলন করে ট্রলারে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ট্রলার থেকে মাটি বিক্রি থেকে প্রায় তিন হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। দৈনিক গড়ে প্রায় ২০০ ট্রলার মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ছয় লাখ টাকা এবং মাসে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এদিকে, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে নদীর নাব্যতা ও পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে; যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া স্থানীয় বিএনপি নেতারা ইট ভাটাকে পুঁজি করেই অবৈধপ্রন্থায় নদী থেকে মাটি কেটে দিয়ে, অনুমোদন ছাড়াই ইট ভাটা চালাতে সহযোগীতাসহ নানাভাবে ক্ষমতার জোরে কামিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। এদিকে বর্তমানে এই টাকা থেকে পার্সেন্টিজ পেতেই উতলা হয়ে উঠেছে এনসিপি। যা নিয়ে বর্তমানে উত্তপ্ত ফতুল্লা থানার রাজনীতি।
এদিকে গতকাল বক্তাবলীতে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে মাটি কাটার অভিযোগ শুনে নারায়ণগঞ্জ বক্তাবলী ফাঁড়ির ইনচার্জ এ কে এম আমিনুল হককে ফোন করে ওই এলাকায় মাটি কাটার বিষয়ে সতর্ক করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন।
ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনকে বলতে শোনা যায়, আপনার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। আপনি মাটি কাটার কমিশন খান। আপনি যদি মাটি কাটার কমিশন না খেয়ে থাকেন, তাহলে মাটি যেন না কাটে সেটা প্রমাণ করেন। বক্তাবলীর প্রত্যেকটি লোক নদী পারাপারের সময় মাটি কাটা দেখতে পায়। অথচ আপনি দেখতে পান না। এ সময় ফোনের ওপাশ থেকে ইনচার্জ আমিনুল হককে সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত করেন, এরকম মাটি কাটার কোনো বিষয় থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জবাবে সংসদ সদস্য বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত ঠিক আছে, দেখতে চাই।