Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

আ.লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেপরোয়া আকতার-সুমন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

আ.লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেপরোয়া আকতার-সুমন

আ.লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেপরোয়া আকতার-সুমন

Swapno



বিএনপির কিছু কথিত নেতাদের লালসায় চব্বিশের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ‘ছাত্র জনতার রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি’ এর আগেই শেল্টার পাচ্ছে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। বর্তমানে গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর অতিক্রম হলেই ফের আওয়ামী লীগের চিহ্নিতরা উকি ঝুঁকি দেওয়া শুরু করেছেন। তারা আগামী ডিসেম্বর মাসে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসার গুঞ্জনে ফতুল্লার কুতুবআইল এলাকায় আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে উঠে পরে লেগেছেন যুবলীগ ক্যাডার আকতার ও সুমন।


এরা দুইজনই ট্রাক ড্রাইভার থেকে ফতুল্লার আলোচিত গডফাদার হয়ে উঠা আলাউদ্দিন হাজীর পুত্র। যিনি বিগত দিনে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরী করে প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজী থেকে শুরু করে মানুষ খুন, নিরিহ মানুষের জমি দখল ছিল যার নেশা, পেশা। এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেই শুন্য থেকে কোটিপতি বনে যায় এই আলাউদ্দিন। তারই দুই সন্ত্রাসী পুত্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এদিকে গত বছরের (৯ ফেব্রুয়ারী) ফতুল্লায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুন হত্যার মাস্টার মাইন্ড আকতার ও সুমন মামলার আসামী হয়ে আকতার দেশ ছাড়লে ও দীর্ঘদিন পলাতক থেকে গ্রেফতার হয়।পরবর্তীতে জামিনে বেড়িয়ে ফের সহিংসতায় লিপ্ত হয়।


স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফতুল্লার চিহ্নিত যুবলীগ ক্যাডার আকতার হোসেন দেশের বাহিরে অবস্থান করে তার ভাইয়ের মাধ্যমে ফের কোটি কোটি টাকার মিশনে কুতুবআইল, কাঠেরপুর, রামারবাগ এলাকা একক নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছেন। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করতে দিচ্ছেন ডোনেশন। একই সাথে কুতুবআইল এলাকায় আকতার ও সুমনের নিজ বাড়িতে আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে নিয়মিত নানা বৈঠক ও মিটিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদিকে গডফাদার খ্যাত শামীম ওসমানের দুই দোসর ফতুল্লা কুতুবআইলের আকতার, সুমন। গত ২০২৫ সালের (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ফতুল্লার রেললাইন বটতলা এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আড়ালে থেকে গুলি বর্ষণ ও দফায় দফায় আধিপত্য বিস্তারের তাণ্ডবের মাধ্যমে তার আবারো দখলে রাখতে মরিয়া হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসছে।


সূত্র মতে, গত কয়েক বছর আগে র‌্যাবের হাতে বিদেশী মদ ও বিয়ারসহ আটক হয়েছিল আক্তার ও সুমন। এরপর কয়েকদিন নিশ্চুপ  থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় দুর্ধর্ষ রূপ ধারণ করেন এই আকতার ও সুমন। বর্তমানে বাবা মৃত আলাউদ্দিন হাজীর বিএনপির ট্যাগ ব্যাবহার করে নিজেদের বিএনপি হিসেবে দাবী করছেন। ইতিমধ্যে ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতকার্মীদের আকড়ে রেখে তাদের মাধ্যমে এলাকায় আবারো প্রভাব বিস্তারে উঠে পরে লেগেছে এই বাহিনীর সদস্যরা।


বর্তমানে ইনিকম টেক্সটাইলসহ প্রায় ২০টি ডাইং ও বড় বড় গার্মেন্ট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে উঠে পরে লেগেছে এই আকতার-সুমন বাহিনীর সদস্যরা। বর্তমানে বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে চলা এই দুই জনের পিছনে কারা তা এখনো অজানা।


তা ছাড়া তাদের বেপরোয়াপনা থেকে মুক্ত পায়নি আপন চাচাতো ভাইয়েরা। ইতিমধ্যে ২০২৫ সালের (২৪ মে) আপন চাচাতো ভাইয়ের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল ফতুল্লার আলোচিত-সমালোচিত আকতার-সুমনের বিরুদ্ধে। সম্পদ ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের সামনে এমন অভিযোগ করেছেন আলাউদ্দিন হাজীর ছোট ভাই আউয়াল হাজির ছেলে আলামিনের পরিবার।


সংবাদ সম্মেলনে আলামিন জানিয়েছিলেন, আমার তিন চাচাতো ভাই। দাদার সম্পদ সমান ভাগ পাওয়ার কথা থাকলেও আমাকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমার বাবার এতো সম্পদ থাকার পরও আমি মানবেতন জীবন যাপন করছি। সংবাদ সম্মেলনে আলামিনের মেয়ে নুসরাত জাহান তিন্নি অভিযোগ করেন, আমার দাদার সম্পত্তি থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। আক্তার, সুমনরা নিজেকে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে আমাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রাখতেন। তাঁদের কাছে আমরা জিম্মী হয়েছিলাম। তারা এতো সম্পদের মালিক, দেশে-বিদেশে অনেক সম্পদ,  দামি গাড়ি হাকিয়ে চলেন অথচ আমরা ঠিক মতো খাবার পাচ্ছি না। তাঁরা আমাদের সম্পদ দখলে নিয়ে ভোগ করছে।


এদিকে আকতার ও সুমনের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা জানান


ফতুল্লার কুতুবাইলের সাবেক বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন হাজী কর্ণফূলী টেক্সটাইল নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি পরিচয়ে এলাকায় অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন এই হাজী আলাউদ্দিন সে সময় তারা দুই ছেলে ও নিরভয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান। তারা এলাকার মানুষ হত্যা থেকে শুরু করে জমি দখল এমনকি চোরাই পথে গ্যাস নিয়ে মিল চালানোর সময় তিতাস কর্তৃপক্ষ হাতে নাতে ধরে ফেললে তিতাসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ও কর্ণফূলি মিলে বেধে রাখা হয়েছিলো এমন নানা অভিযোগ রয়েছে।


এক পর্যায়ে সেভেন মার্ডারের আসামী নূর হোসেন হাজী আলাউদ্দিনের সাথে যোগ দিলেও তখনো নূর হোসেন সে সময় তিনি লাইমলাইটে আসেনি। আরো জানা যায়, হাজী আলাউদ্দিন বিএনপির শাসন আমলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কৃষকলীগ নেতা সোলায়মান ও মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিনকে প্রকাশ্যে হত্যাসহ বেশ কয়েকটি হত্যা মামলায় ক্ষমতা ও টাকার জোরে পার পেয়ে যায়। ঐ সময় তার দুই ক্যাডার ইবু ও রুবেল নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে র‌্যাবের হাতে ক্রসফায়ারে মারা যায়।


হাজী আলাউদ্দিনের ক্যাডার সন্ত্রাসী নয়ন এখনো এলাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছে। আর তাকে ব্যবহার করছে হাজীর দুই ছেলে আকতার ও সুমন। ঐ সময়ের বির্বতনে আলাউদিন হাজীর কন্যা স্বামী হারা হয়, স্ত্রী, বড় ছেলে মোক্তার ছোট ভাই আউয়াল ও সালাউদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যুর পর অনেকটা ভেঙ্গে পরলে দুই ছেলে আকতার ও সুমন হাজী আলাউদ্দিনের স্থলাভিষক্ত হন। এরই মধ্যে উত্থান ঘটে সেভেন মার্ডারের প্রধান আসামী নূর হোসেনের। নূর হোসেনের অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত আরিফুল হাসান তখন প্রভাবশালী। পরিচয় ঘটে আক্তার ও সুমনের সাথে। ঘুরে দাড়াতে চেষ্টা করে হাজী আলাউদ্দিন। এরই মধ্যে ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসীদের গডফাদার যাকে নিয়ে সমগ্র বিশ্বে নারায়ণগঞ্জ আলোচিত হয় সেই নূর হোসেনের ক্যাডার আরিফুল হাসানের পরিচয় ঘটে আক্তার-সুমনের।


২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল সেভেন মার্ডারের পর নূর হোসেনের সাথে সুমনও পালিয়ে যায়। এবং একই বছর নূর হোসেনের সাথে গ্রেফতার হয়। আদালতে চার্জশীট দাখিলের পর মামলা থেকে ৫ জনকে অব্যাহতি দিলে নূর হোসেনের পলাতক সহযোগীরা ফিরতে শুরু করে। একই সাথে আকতার ও সুমন নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখলে কৌশল ব্যবহার করেন। কিন্তু র‌্যাবের হাতে বিদেশী মদসহ কাউন্সিলর আরিফ, আক্তার ও সুমন গ্রেফতার হলে পরবর্তীতে জামিনে এসে অনেকদিন নিশ্চুপ ছিলেন আক্তার ও সুমন। পরে আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতাদের আর্শিবাদে আওয়ামীলীগার বনে যায় আকতার ও তার ছোট ভাই সুমন। পরবর্তীতে গত ৫ আগষ্টে পট পরিবর্তনের পর আকতার-সুমন ও তাদের বাহিনী পুরোই আত্মগোপনে চলে যান।


পরে কয়েকদিন পর ফতুল্লা থানা ও ইউনিয়ন বিএনপির কিছু নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করে এবং তাঁর নিদের্শে এলাকায় ফিরে এসে মারমুখী অবস্থান নিয়েছেন। ফতুল্লার বিএনপির আমলের গডফাদার আলাউদ্দিন হাজীর দুই পুত্র আকতার-সুমন। বর্তমানে ভগ্নিপতি এবং পঞ্চবটী এলাকার আলোচিত যুবলীগ ক্যাডার ওলা মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে বিশাল বাহিনী নিয়ে এলাকায় অবস্থান করে। আক্তার, সুমন পঞ্চবটীর যুবলীগের ক্যাডারদের নিজ বাড়ী,অফিস,ডাইং কারাখানায় রেখে বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজ বিরোধী মিছিলে হামলার অভিযোগ ও রয়েছে। বর্তমানে ঢাকায় ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বসে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে নানা নীল নকশা আকঁছেন সুমন পেছনে দেশের বাহিরে থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে বসে অর্থের জোগান দিয়ে অপকর্ম পরিচালনা করাচ্ছেন যুবলীগ ক্যাডার আকতার।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন