Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

আন্দোলনের নামে নাশকতা সৃষ্টির ইন্ধন দাতা অমল পোদ্দার : রুহুল আমিন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

আন্দোলনের নামে নাশকতা সৃষ্টির ইন্ধন দাতা অমল পোদ্দার : রুহুল আমিন
Swapno

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে ও নাশকতা সৃষ্টির পায়তারায় ফতুল্লার রামারবাগের মেট্রো নিটিং গার্মেন্টসের মালিক অমল পোদ্দারের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ফতুল্লা থানা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার । অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অমল পোদ্দারের মালিকানাধীন ফতুল্লার মেট্রো গার্মেন্টসের শ্রমিকরা সর্ব প্রথম আন্দোলন রামারবাগ এলাকায় তাদের গার্মেন্টসের সামনে শুরু করেন। পরবর্তীতে মেট্রো গার্মেন্টসের মেইন গেইট বন্ধ করে দেওয়া হলে। শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে আশপাশের বাকি আরো গার্মেন্টস যেমন, পলপল, আবির ফ্যাশন, আজাদ-রিফাত ডাইং থেকে শ্রমিকদের ডেকে বের করে নিয়ে আসে রোড বন্ধ করে অবরোধ-আন্দোলন শুরু করেন। এক কথায় বলা চলে সেচ্চায় অমল পোদ্দারের গার্মেন্টস থেকেই শ্রমিকরা আন্দোলনের ইন্ধন পায়। 


তিনি আরো দাবি করেন, বিকেএমইএ’র একটি নোটিশে জানতে পেলাম আন্দোলনকে ঘিরে কয়েকটি গার্মেন্টস বন্ধন ছিলো। কিন্তু আমরা দেখা সব গার্মেন্টসের মালিকরাই গার্মেন্টস থেকে শ্রমিক ছেড়ে দিয়ে গার্মেন্টস বন্ধ করে রেখেছিলেন। তা ছাড়া আমাদের গার্মেন্টস ব্যবসা ধ্বংস করার জন্য বিভিন্নভাবে নানা ষড়যন্ত্র হয় এটাই সেই ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। তা ছাড়া রুহুল আমিন সিকদার দুপুর ১ টায় তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডি থেকে শ্রমিক আন্দোলনকে ঘিরে ৩টি পোস্ট করেছিলেন। দুপুর ২ টায় তিনি লিখেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের নামে নাশকতা সৃষ্টি করার দায়ে মেট্রো গার্মেন্টসের মালিক অমল পোদ্দারকে আইনের আওতায় আনা উচিত। একই সাথে দুপুর ১ টায় তিনি তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ফতুল্লা কাঠেরপুল এলাকায় অবস্থিত মেট্রো গার্মেন্টস এর মালিক পক্ষ উদ্দেশ্য মূলকভাবে কারখানার বন্ধ করার কারণে ঢাকা লিংক রোডে শ্রমিকরা অবস্থান নিতে পেরেছে। তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হইলো।


এদিকে প্রায় চার ঘণ্টা অবরোধের পর নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ছেড়েছেন পোশাক শ্রমিকেরা। অবরোধ প্রত্যাহারের পর শুরু হয়েছে যানবাহন চলাচল। গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল চারটার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এর আগে দুপুর ১২টা থেকে নিম্নতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে শিবু মার্কেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আন্দোলনে ফতুল্লার মেট্রো নিটিং, পলমল গার্মেন্টস, আবির ফ্যাশন, আজাদ-রিফাত ডাইংসহ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে আন্দোলনকারীরা সড়কে অগ্নিসংযোগও করেন। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে আটকে পড়ে বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য যানবাহন।


দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ থাকায় হাজার হাজার যাত্রীকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। যাত্রীদের হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এলেও তাঁদেরকে গুরুত্ব দেননি আন্দোলনরত শ্রমিকেরা। তাঁদেরকে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিলে তাঁরা চলে যেতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হলেও তাঁরা বল প্রয়োগ করেননি। পরে বিকেল চারটার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এবং তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা যানবাহন চলাচলে কাজ শুরু করেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন