নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেছেন, ‘আমাদের শামসুজ্জোহা সাহেবেরে সততার বিবরণ দিতে গেলে, শেষ করা যাবেনা। তিনি ছিলেন এই জেলার সততার কিংবদন্তি। ১৯৭২ সালে দেশ স্বাধীন হলে, আওয়ামীলীগের ভিতরে এবং বাহিরে অনেকেই তখন নিজেদের আখের গোছানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে যায়! পরবর্তীতের এদের মধ্যে অনেকেই আওয়ামীলীগের নেতৃত্বেও এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শামসুজ্জোহা সাহেবকে আমাদের নারায়ণগঞ্জের পুর্নগঠনের দ্বায়িত্ব দিলেন। যুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের ৭টি মিল ধ্বংস হয়ে যায়। উনি যুুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ এই কল-কারখানা দ্রুত গতিতে চালু করেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপ আলোচনা করে, সেই কল-কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের মালিকানা দিয়েছেন। আর এটা আপনারা অনেকেই জানেন না! বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পরে উনি যখন ৭৫ সালে জেল খাটেন তখন মোস্তাক ও জিয়া তাকে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে শামসুজ্জোহা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের থেকে বিচ্যুত হন নাই। বঙ্গবন্ধুর রক্তের সাথে তিনি বেইমানী করে নাই।’
মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চাষাড়া শহীদ জিয়া হলের সামনে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আয়োজিত একেএম শামসুজ্জোহার ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত স্মরণসভা ও নেওয়াজ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ৭৫ সালে মাত্র ৩৫ হাজার টাকার জন্য শাসমুজ্জোহা সাহেবের বাড়ি নিলামে উঠেছিলো। এ সময় তাঁর বড় ছেলে প্রয়াত নাসীম ওসমান সাহেবের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণও নিয়েছিলেন। একটু ভেবে দেখুন তিনি কতবড় মাপের নেতা যে, ছেলের বিয়ের জন্য ব্যাংক ঋণ গ্রহন করতে হয়! আমরা সেই নেতার আদর্শের সৈনিক।
এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহিদ বাদল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বাবু চন্দন শীল, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. ওয়াজেদ আলী খোকন, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডর সামিউল্লাহ মিলন প্রমুখ।


