জননেতা চুনকা স্মরণে হাজারো কর্মী নিয়ে প্রভাতফেরিতে আবু সুফিয়ান
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:৪৭ পিএম
হাজারো নেতাকর্মী নিয়ে প্রয়াত পৌর পিতা নারায়ণগঞ্জ জেলা ও শহর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আলী আহাম্মদ চুনকার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে প্রভাত ফেরীতে অংশ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আবু সুফিয়ান।
বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রয়াত জননেতা আলী আহম্মদ চুনকা স্মরণে শহরের আলী আহম্মদ চুনকা পাঠাগার মিলনায়তন হতে মাসদাইর কবরস্থানের দিকে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নেন আবু সুফিয়ান।
পরে মাসদাইরে জননেতা আলী আহম্মদ চুনকার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তারা।
আবু সুফিয়ান বলেন, আলী আহমদ চুনকা বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভায় একবার দলের সমর্থন নিয়ে এবং আরেকবার সমর্থন ছাড়াই টানা দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আলী আহাম্মদ চুনকাকে ‘পৌরপিতা’ উপাধি দেয় নারায়ণগঞ্জবাসী। তারই ধারাবাহিকতায় বজায় রেখেছেন তার সন্তান (মেয়ে) সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা চেয়ারম্যান থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো ভোটারদের মন জয় করিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন যোগ্য পরিবারের প্রতি আমাদের সব সময় সমর্থন ও ভালোবাসা থাকবে।
১৯৩৪ সালে ১৬ ডিসেম্বর দেওভোগের এক মুসলিম পরিবারে আলী আহাম্মদ চুনকার জন্ম। তার বাবার নাম ওয়াহেদ আলী, মা গোলেনুর বেগম। ১৯৫২ সালে তিনি মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনে জনমত গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
আলী আহাম্মদ চুনকা ১৯৬৮ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০ এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে তিনি নারায়ণগঞ্জ মহকুমা থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭১ সালে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং তরুণ ও যুব সমাজকে সংগঠিত করেন। চুনকা শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ পাট শ্রমিক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিজ দল আওয়ামী লীগের সমর্থন পাননি আলী আহমদ চুনকা। দলের সমর্থন পান মহিউদ্দিন আহমেদ খোকা। একই দলের খাজা মহিউদ্দিনও প্রার্থী হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলী আহমদ চুনকাই সর্বাধিক ভোটে বিজয়ী হন। তিন বছর পর ১৯৭৭ সালে তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চুনকার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দেওভোগ এলাকার নাজিমউদ্দিন মাহমুদ। নির্বাচনে চুনকা পরাজিত হন। ১৯৮৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আলী আহাম্মদ চুনকা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


